দুই প্রজন্মের দ্বৈরথে ১৫ বছরের বিস্ময় বৈভবের সামনে ম্লান কোহলিও, টানা জিতে শীর্ষে রাজস্থান

0

গুয়াহাটির বরসাপাড়া স্টেডিয়াম যেন এক আবেগঘন সন্ধ্যার সাক্ষী থাকল। একদিকে অভিজ্ঞতার পাহাড়, অন্যদিকে কাঁচা বয়সের আগুন—এই লড়াই শুধু একটা ম্যাচ ছিল না, ছিল সময়ের পালাবদলের গল্প। বিরাট কোহলি বনাম বৈভব সূর্যবংশী—ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখে যেন ভবিষ্যৎ আর বর্তমানের এক অনন্য সম্মুখসমর।

প্রথমে ব্যাট করতে নেমে কিন্তু বৈভবের তেজে ম্লান যেন বিরাট কোহলিও। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে তোলে ২০১ রান। জবাবে ১৮ ওভারেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় রাজস্থান রয়্যালস। ৬ উইকেটে আসে জয়। আপাতত ৪ ম্যাচে ৪ জয় তুলে নিয়ে শীর্ষে রাজস্থানই।

বেঙ্গালুরুর শুরুটা ভালো হয়নি। প্রথম বলেই ফিরলেন ফিল সল্ট, ব্যর্থ হন দেবদত্ত পাডিক্কল, জিতেশ শর্মা, টিম ডেভিডরা। ১৬ বলে ৩২ রান করে থামেন বিরাট কোহলি-একটা ইনিংস যা প্রতিশ্রুতি দিয়েও পূর্ণতা পেল না।
দলের ভাঙা ছন্দে একাই যেন লড়াই করেন অধিনায়ক রজত পতিদার। ৪০ বলে ৬৩ রানের ইনিংসে চার-ছক্কার ঝলক দেখিয়ে তিনি যেন দলের লড়াইয়ের শিখা জ্বালিয়ে রাখেন। শেষদিকে রোমারিও শেফার্ড (২২) ও ভেঙ্কটেশ আইয়ার (২৯) গুরুত্বপূর্ণ রান যোগ করে লড়াইযোগ্য স্কোর গড়ে দেন।

কিন্তু আসল নাটক শুরু হয় রান তাড়ায়। ২০২ রানের লক্ষ্যে নামতেই যেন ঝড় নেমে এল বরসাপাড়ায়—আর সেই ঝড়ের নাম বৈভব সূর্যবংশী। মাত্র ১৫ বছরের এই কিশোর যেন ব্যাট হাতে আগুন ছড়ালেন। মাত্র ১৫ বলে অর্ধশতরান—-স্টেডিয়াম তখন বিস্ময়ে স্তব্ধ! চার-ছক্কার বন্যায় আরসিবির বোলাররা দিশেহারা।
মাত্র ২৬ বলে ৭৮ রান—৭টি ছয়, ৮টি চার, স্ট্রাইক রেট ৩০০! ক্রিকেট যেন এক মুহূর্তে নতুন নায়ক পেয়ে গেল।
মনে হচ্ছিল, শতরান তো সময়ের অপেক্ষা। জয়ও যেন হাতের মুঠোয়। কিন্তু ক্রিকেট তো নাটকেরই নাম। বড় শট খেলতে গিয়ে ক্রুনাল পাণ্ডিয়ার বলে বাউন্ডারির কাছে ধরা পড়েন—আর সেই ক্যাচটি নেন বিরাট কোহলি নিজেই।
এক প্রতীকী মুহূর্ত—যেখানে অভিজ্ঞতার হাতেই থামল আগুনে ভবিষ্যৎ।

তারপরই ম্যাচে ফেরে বেঙ্গালুরু। এক ওভারে বৈভব ও শিমরন হেটমেয়ারকে ফিরিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ক্রুনাল। ধ্রুব জুরেলের সঙ্গে ১০৮ রানের জুটি ভেঙে যাওয়ার পর দ্রুত ভেঙে পড়ে রাজস্থানের ইনিংস। তবু শেষরক্ষা হয়নি। ধ্রুব করেন ৮ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৩ বলে ৮১ রানের অপরাজিত ইনিংস। জাদেজা ২৪ রানে অপরাজিত ছিলেন।
এই আইপিএল শুধু রান-উইকেটের হিসাব নয়—এটা নতুন এক নক্ষত্রের জন্মকথা।
গত ম্যাচে জসপ্রীত বুমরাহর মতো বিশ্বসেরা বোলারকেও যিনি প্রথম ওভারেই দুই ছক্কায় স্বাগত জানান, সেই বৈভব আবার প্রমাণ করলেন—তিনি কেবল প্রতিভা নন, তিনি এক আগত ঝড়।
আর সেই ঝড়ের সামনে দাঁড়িয়ে, হয়তো প্রথমবারের মতো, বিরাট কোহলির চোখেও ফুটে উঠল এক নতুন সূর্যের তেজ।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *