১৩ বছর কোমায় যুবকের জন্য পরোক্ষে নিষ্কৃতিমৃত্যুর অনুমতি, ঐতিহাসিক রায় সুপ্রিম কোর্টের

0

আশাহীন-অনুভূতিহীন-প্রেমহীন-বিশ্বাসহীন যে বেঁচে থাকা, সেও তো এক মৃত্যু!  ছেলে আর সাড়া দেয় না। ছেলে আর অনুভূতি জানাতে পারে না। ছেলে আর সুস্থ হয় না। দিন যায় শুধু। যেন মৃত নক্ষত্র! বাবা-মা অপেক্ষা করতে করতে ১৩ বছর কাটিয়ে ফেলেছেন। আর বেড়েছে হাহাকার। এইভাবেই বিছানায় শয্যাশায়ী গাজিয়াবাদের যুবক হরিশ রানা, দীর্ঘ দিন ‘ভেজিটেটিভ স্টেট’ রয়েছে সে।সাপোর্ট সিস্টেমেই এতদিন ধরে তাকে ‘শুধু বাঁচিয়ে’ রাখা হয়েছে। সন্তানের যে জানে ক্রমে পৃথিবীতে অলিখিত সময়ের রাত্রি ঘনাচ্ছে তা বুঝতে বাকি নেই বাবা-মায়ের। কোনও আশ্চর্যের জন্ম দেয়নি ১৩ বছরেও।সহানুভূতি সব গেছে পরিবারের। তাই কাতর আর্জি ছিল পরিবারের-বাবা-মায়ের। স্বেচ্ছামৃত্যুর। গাজিয়াবাদের যুবককে ‘প্যাসিভ ইউথেনেশিয়া’ অর্থাৎ লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম সরিয়ে দিয়ে ‘স্বেচ্ছামৃত্যু’র অনুমতি দিল সুপ্রিম কোর্ট।এই প্রথম।
৩২ বছরের হরিশ গত ১৩ বছর ধরে কোমায় আচ্ছন্ন। এক দুর্ঘটনায় মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত পেয়ে কোমাচ্ছন্ন, কোয়াড্রিপ্লেজিয়া রোগে আক্রান্ত। তাঁর শারীরিক অবস্থার বিন্দুমাত্র উন্নতি হয়নি এতদিনে, মিরাকেল হওয়ার সম্ভাবনাও নেই। হরিশের স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি চেয়েছিল পরিবার। মেডিক্যাল বোর্ডের পরামর্শ মেনে হরিশের স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন মঞ্জুর করেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের বেঞ্চ। আদালত জানিয়েছে, দু’টি কারণের উপর ভিত্তি করে এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে।এক, হরিশের চিকিৎসা ব্যবস্থার গতিপ্রকৃতি। দ্বিতীয়, রোগীর পক্ষে কোনটা ভাল তা বিচার করে।এরপরই সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা ও বিচারপতি কেভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ হরিশ রানার বাবা-মাকে তাঁর লাইফ সাপোর্ট অর্থাৎ জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা প্রত্যাহারের অনুমতি দিয়েছেন।
রায় পড়ে শোনাতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ জানায়, হরিশ রানা একসময় মেধাবী তরুণ ছাত্র ছিলেন। কিন্তু সেই দুর্ঘটনা তাঁর জীবন সম্পূর্ণ বদলে দেয়। গত ১৩ বছর ঘরে তিনি অচেতন অবস্থাতেই জীবন কাটাচ্ছেন। সুস্থ হওয়ার আশা হওয়ার আশা আর প্রায় নেই, তার মেডিক্যাল ট্রিটমেন্ট, লাইভ সাপোর্ট সিস্টেম ধীরে ধীরে প্রত্যাহার করা হোক।
২০১৩ সালে পঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচতলা থেকে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছিলেন হরিশ। তারপর থেকে আর জ্ঞান ফেরেনি। হৃদপিন্ডের স্পন্দন জানান দিচ্ছিল তিনি বেঁচে আছেন, কিন্তু মস্তিষ্ক কোনভাবেই বাহ্যিক কোনও সাড়া দিচ্ছিল না। আসন্ন ভয়াবহ সত্যি থেকে আড়াল খুঁজে নিতে আর কোনও উপায় খোলা ছিল না বাবা-মায়ের। ছেলের মৃত্যুকেই তাই পরম স্নেহে গ্রহণ করতে চেয়েছন। বাবা-মায়ের আশঙ্কা তাদের বয়স হচ্ছে, তাঁরা চলে গেলে কে দেখবে তাঁদের ছেলেকে’ চিকিৎসক বোর্ডের সিদ্ধান্তে অবশেষে হরিশের বাবা-মায়ের আবেদন মেনে নিল আদালত।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *