মেঘের উপর হাঁটতে চান? ঘুরে আসুন ভারতের এই ৬ পাহাড়ি ঠিকানায়

0

গরম থেকে স্বস্তি পেতে চাইছেন?মনে হচ্ছে নিজের বাড়ি থেকে দূরে কোথাও পালিয়ে যাই?কিন্তু বুঝতে পারছেন না কোথায় যাবেন?গরমের তীব্রতা থেকে একটু স্বস্তি পেতে পাহাড়ের পরিকল্পনা অনেকেই করে থাকেন।তবে যদি এমন কোনও জায়গার সন্ধান পান যেখানে মেঘের উপর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার অনুভূতি যায়,তাহলে কেমন হবে?ভারতের কিছু অফবিট ও জনপ্রিয় হিল স্টেশনগুলি হতে পারে আদর্শ গন্তব্য।আর যদি আপনি একজন সত্যিকারের পাহাড়প্রেমী হয়ে থাকেন ,তাহলে সেটি হতে পারে একেবারে স্বর্গীয় অনুভূতি।উত্তর থেকে দক্ষিণ দেশের নানা প্রান্তে রয়েছে এমনই কিছু পাহাড়ি স্থান,যেখানে কুয়াশা,মেঘ সহ মনোরম দৃশ্য মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক স্বর্গীয় পরিবেশ।এই গরমে ঘুরতে যেতে পারেন এমনই ৬ টি অসাধারণ হিল স্টেশনে।

নন্দী হিলস (কর্ণাটক)

বেঙ্গালুরু থেকে অল্প দূরত্বে অবস্থিত নন্দী হিলস ভোরবেলার ‘ক্লাউড ওয়াক’ অভিজ্ঞতার জন্য বিখ্যাত।প্রায় ৪,৮৫০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই পাহাড়ি এলাকাটি প্রায়শই মেঘ ও কুয়াশায় ঢাকা থাকে,বিশেষ করে বর্ষা ও শীতকালে এখানে দেখা যায় এক অন্যরকম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।এখানকার সূর্যোদয় অত্যন্ত জনপ্রিয়।সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে মেঘ সরে গিয়ে নীচের ভূ -প্রকৃতির এক শ্বাসরুদ্ধকর দৃশ্য উন্মোচন করে।এখানকার আঁকাবাঁকা রাস্তা ও খোলা ভিউপয়েন্টে দাঁড়ালে মনে হয় যেন আকাশের মধ্যে দিয়ে হাঁটছেন।

কল্লি হিলস (তামিলনাড়ু)

পূর্বঘাট পর্বতমালার কোলে অবস্থিত কল্লি পাহাড় স্বল্প পরিচিত হলেও পাহাড়প্রেমীদের কাছে এটি এক রত্নভাণ্ডার।জনপ্রিয় পাহাড়ি পর্যটনকেন্দ্রগুলির ভিড় থেকে অনেকটাই দূরে এই পাহাড়।সবুজে মোড়া পাহাড়,সরু আঁকাবাঁকা রাস্তা এবং ঘন ঘন নেমে আসা কুয়াশার জন্য এই স্থানটি বিশেষভাবে পরিচিত।বনভূমি ও সমৃদ্ধ আদিবাসী সংস্কৃতিতে ঘেরা এই পাহাড়ি অঞ্চল ভোর ও সন্ধের সময় প্রায়ই মেঘের নরম আবরণে ঢেকে যায়,যেন প্রকৃতি নিজেই তাঁকে সযত্নে আড়াল করে রাখে।সিকু পারাইয়ের -এর মতো ভিউপয়ন্টে থেকে তাকালে দেখা যায় দূরে বিস্তৃত পাহাড়শ্রেণী,যার গায়ে সাদা মেঘের চাঁদর যেন নিঃশব্দে বিছিয়ে আছে। যারা নির্জনতা,নির্মল বাতাস আর প্রকৃতির সঙ্গে নির্ভেজাল সময় কাটাতে চান ,তাঁদের জন্য কল্লি হিলস নিঃসন্দেহে এক অনন্য গন্তব্য।

মুন্নর (কেরালা)

চা বাগানের জন্য বিখ্যাত মুন্নর এমন এক জায়গা ,যেখানে সত্যিই মনে হবে আপনি মেঘের মাঝে রয়েছেন।এখানকার সর্বোচ্চ স্থান ‘টপ স্টেশন’ প্রায় ১,৮৮০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত।সেখান থেকে দূরের দিগন্ত সাদা মেঘে ঢেকে যায়। পাহাড়ি রাস্তা ধরে উপরে ওঠার সময় কখনও কুয়াশা, কখনও পরিষ্কার দৃশ্য -সব মিলিয়ে মনে হবে যেন মেঘের মধ্যে ভেসে চলেছেন।

ল্যান্সডাউন (উত্তরাখন্ড)

গড়ওয়াল হিমালয়ের কোলে অবস্থিত শান্ত ও নিরিবিলি পাহাড়ি শহর ল্যান্সডাউন। পাইনের সুবাসে ভরা নির্মল বাতাস, সবুজে মোড়া ঢেউ খেলানো পাহাড় আর চারপাশের প্রশান্ত নীরবতা মিলিয়ে এই স্থান তৈরি করে এক স্নিগ্ধ, মেঘমাখা আবহ।ভোরের আলো ফোটার আগেই প্রায়শই কুয়াশার নরম চাদরে ঢেকে যায় গোটা এলাকা। কাছের পাহাড়, উপত্যকা আর বনভূমি তখন যেন স্বপ্নের দৃশ্যের মতো ধোঁয়াটে হয়ে ওঠে। পাহাড়ের ধার ঘেঁষে হাঁটতে হাঁটতে কিংবা কোনও উঁচু ভিউপয়েন্টের পথে গাড়ি চালিয়ে উঠতে উঠতে মনে হয়, আপনি যেন ধীরে ধীরে মেঘের ভেতর প্রবেশ করছেন।

বারোট উপত্যকা (হিমাচলপ্রদেশ)

হিমালয়ের সুউচ্চ শৃঙ্গের নীরব প্রহরায় ঘেরা বারোট উপত্যকা যেন প্রকৃতির বুকের ভেতর লুকিয়ে থাকা এক শান্ত আশ্রয়স্থল। পাহাড়ি নদীর কলকল ধ্বনি, সবুজে মোড়া উপত্যকা আর চারপাশের নির্মল পরিবেশ মিলিয়ে এই স্থান প্রথম দেখাতেই মন কেড়ে নেয়।ভোর কিংবা সন্ধ্যার সময় প্রায়শই কুয়াশার নরম আলিঙ্গনে ঢেকে যায় নদী ও উপত্যকার বিস্তীর্ণ অংশ।এখানে মেঘ যেন নিচু হয়ে এসে মাটির খুব কাছাকাছি ভেসে থাকে। তখন দূর থেকে মেঘ দেখার বদলে মনে হয়, আপনি নিজেই মেঘের ভেতর দিয়ে হেঁটে চলেছেন।বারোট উপত্যকার অন্যতম আকর্ষণ তার নির্জনতা। দুর্গম অবস্থানের কারণে এখানে পর্যটকের ভিড় তুলনামূলক কম, ফলে প্রকৃতির সঙ্গে একান্তে সময় কাটানোর সুযোগ মেলে।

কাসানি (উত্তরাখন্ড)

নৈনিতালের কাছাকাছি অবস্থিত ছোট ও অফবিট পাহাড়ি গ্রাম কাসানি। উঁচু স্থানে অবস্থিত হওয়ায় এখানকার বাতাস ঠান্ডা ও নির্মল।এখানের সরু পাহাড়ি রাস্তা ধরে এগোতে গেলে কুয়াশা আর মেঘের ফাঁকে ফাঁকে তৈরি হয় এক স্বপ্নময় পরিবেশ।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *