‘আমরা কখনও ইমপাতে বসে জয় বাংলা স্লোগান দিইনি’, পিয়ার পদত্যাগের দাবিতে মুখ খুললেন বনি, পাল্টা কী উত্তর শতদীপের
বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের রেশ এবার সরাসরি টলিউডের অন্দরে।গেরুয়া শিবিরের উত্থানের ২৪ ঘন্টা কাটতে না কাটতেই ‘ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স আসোসিয়েশন’ বা ইমপাকে ঘিরে শুরু হয় তীব্র উত্তেজনা।সংগঠনের সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তের পদত্যাগের দাবিতে সরব হন ইমপার কয়েকজন সদস্য।মঙ্গলবার অফিসে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি গঙ্গাজল ছিটিয়ে ‘শুদ্ধিকরণ’-ও করা হয়। সেই সঙ্গে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান ও গেরুয়া আবির খেলতেও দেখা যায় উপস্থিতিদের।ঘটনাকে কেন্দ্র করে টলিপাড়ায় ছড়িয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য।শোনা যায়,৭২ ঘন্টার মধ্যে পিয়া সেনগুপ্তকে ইমপাতে একটি জরুরি বৈঠক ডাকা হয়। তবে ইমপার সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তের দাবি,অন্তত ১৪ দিন আগে সেই বৈঠকের কথা বলতে হয়। এই আবহেই সিনেপ্রদর্শক শতদীপ সাহা ও পিয়া সেনগুপ্তের মধ্যে বচসা শুরু হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন বনি সেনগুপ্ত ও শতদীপ সাহা দুজনেই।
সিনেপ্রদর্শক শতদীপ সাহা বলেন,“আমরা চাইছি সদস্যরা মিলে একটা বৈঠক হোক। শুধু আলোচনা করার জন্যই এই বৈঠক ডাকার দাবি। কিন্তু ইম্পার সভাপতি সেটা মানতে চাইছেন না। বলা হচ্ছে, বৈঠক ডাকতে ১৪ দিন সময় লাগবে।এটা একটা জরুরি পরিস্থিতি।কোনও দুর্যোগ হলে যেমন জরুরি বৈঠক ডাকা হয়,এখানেও সদস্যরা আলোচনার জন্য বৈঠক চাইছেন।আমার মনে হয় পিয়া সেনগুপ্ত বুঝে গিয়েছেন, বৈঠক ডাকলে এতদিন জোর করে যে পদটা ধরে রেখেছেন, সেটা ধরে রাখা কঠিন হবে। তাই ভয় পাচ্ছেন। অনেকেই আমাদের সঙ্গে একমত। এখন এই প্রতিবাদ শুধু আমাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, সবার কাছে পৌঁছে গিয়েছে।”
ইমপার অন্দরেই দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও স্বার্থের রাজনীতি চলছে বলে দাবি করেছেন শতদীপ সাহা। সেই কারণেই ইমপার সদস্যপদ ও নেতৃত্ব নিয়ে স্বচ্ছতা আনার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।তাঁর ইঙ্গিত, ব্যক্তিস্বার্থ ও দুর্নীতিই এর নেপথ্যে কাজ করছে।সম্প্রতি,বনি সেনগুপ্ত অভিযোগ করেছিলেন তাঁর মাকে হেনস্তা করা হয়েছে। যদিও সেই অভিযোগও অস্বীকার করে তিনি বলেন, “আমি কাজ আর ব্যক্তিগত সম্পর্ক আলাদা রাখি। ওকে হয়তো ভুল বোঝানো হয়েছে। এখানে সিসিটিভি আছে, আমি একবারও ওনার কাছে যাইনি। তাহলে গায়ে হাত দেব কী করে? প্রমাণ দেখান আমি গায়ে হাত তুলেছি।”
অন্যদিকে ,বনি বলেন,“যে অভিযোগগুলো করা হচ্ছে,সেগুলোর প্রমাণ দিলে আমরা মাথা পেতে নেব, ইমপার নির্বাচনের সময় একবার উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে শতদীপ মায়ের দিকে তেড়ে গিয়েছিলেন।কিন্তু পরে বিষয়টি নিজেদের মধ্যেই মিটিয়ে নেওয়া হয়েছিল।তারপরও আমি ওকে বন্ধু বলেই মেনেছি।” তাঁর দাবি, অতীতেও পিয়ার সঙ্গে তাঁদের একাধিকবার মতবিরোধ হয়েছে।রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও খোলাখুলি কথা বলেন বনি। তিনি জানান, ২০২১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন এবং প্রায় এক বছর পর সেই দল ছেড়েও দেন। তাঁর কথায়, “তখন শাসকদল চেয়েছিল বলেই আমি সমর্থন করেছিলাম। ভবিষ্যতে বর্তমান সরকারের মতাদর্শের সঙ্গে আমার মত মিললে অবশ্যই একসঙ্গে কাজ করব।” তবে এই মুহূর্তে তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হতে চান না বলেও স্পষ্ট করেছেন অভিনেতা।
ইমপার নির্বাচন নিয়েও পাল্টা জবাব দিয়েছেন তিনি। বনির দাবি, “মা নির্বাচনে জিতেই সভাপতি হয়েছেন। শতদীপরা বছর বছর নির্বাচনে দাঁড়িয়েও হারাতে পারেনি। এখন তাই মিথ্যে ন্যারেটিভ তৈরি করা হচ্ছে।ইমপা কোনও রাজনৈতিক সংগঠন নয়।আমরা কখনও সেখানে বসে জয় বাংলা স্লোগান দিইনি। কিন্তু যারা এখন অভিযোগ করছে, তারাই অফিসে জয় শ্রীরাম স্লোগান দিয়ে গেরুয়া আবির খেলেছে।
