প্রতিশোধ না ইতিহাস? ইউরোপ সেরার মঞ্চে মুখোমুখি আর্সেনাল-পিএসজি!

0



ইউরোপীয় ফুটবলের সবচেয়ে বড় রাতের অপেক্ষা এখন শুধু সময়ের। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে আগামী ৩০ মে বুদাপেস্টের পুসকাস অ্যারেনায় মুখোমুখি হবে আর্সেনাল ও প্যারিস সাঁ জাঁ (পিএসজি)।একদিকে ২০ বছর পর ইউরোপ সেরার ট্রফি ছোঁয়ার স্বপ্নে বিভোর আর্সেনাল, অন্যদিকে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস গড়ার লক্ষ্য পিএসজির সামনে।
ফাইনাল ঘিরে এরমধ্যেই তুঙ্গে উত্তেজনা। শুধু মাঠের লড়াই নয়, সমর্থকদের উন্মাদনাও ছাপিয়ে যাচ্ছে আগের সব রেকর্ড। প্রায় ৬৭ হাজার দর্শকাসনের পুসকাস অ্যারেনা ঘিরে শুরু হয়ে গেছে টিকিটের হাহাকার। সীমিত টিকিটের জন্য হাজার হাজার সমর্থক ঝাঁপিয়ে পড়ায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আকাশছোঁয়া হয়েছে বিমান ভাড়া ও হোটেলের দাম। বিশেষ করে আর্সেনাল সমর্থকদের মধ্যে উন্মাদনা সবচেয়ে বেশি। দীর্ঘ দুই দশক পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে ওঠায় গানার্স ভক্তরা এখন যেকোনও মূল্যে বুদাপেস্ট পৌঁছতে চাইছেন। লন্ডন থেকে সরাসরি বিমানের ভাড়া কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে। হোটেলের বেশিরভাগ ঘর ইতিমধ্যেই বুক হয়ে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন বহু সমর্থক। এমনও অভিযোগ উঠেছে, বেশি দামে পুনরায় বিক্রির জন্য কিছু হোটেল পুরনো বুকিং বাতিল করছে।
তবে মাঠের লড়াইটাই এখন মূল আকর্ষণ। এই ম্যাচ শুধু ট্রফির লড়াই নয়, দর্শনেরও সংঘর্ষ। মিকেল আর্তেতার আর্সেনাল এ বার গোটা টুর্নামেন্টে নিয়ন্ত্রিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল খেলেছে। রক্ষণে দৃঢ়তা, মাঝমাঠে বলের নিয়ন্ত্রণ এবং ধৈর্য ধরে আক্রমণ গড়া, এই কৌশলেই ফাইনালে পৌঁছেছে ব্রিটিশ ক্লাব। এখনও পর্যন্ত প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে কম গোল খাওয়া দলও তারা।
অন্যদিকে লুইস এনরিকের পিএসজি অনেক বেশি গতিময় ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছে। দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক, উচ্চ চাপ তৈরি করে প্রতিপক্ষের ভুল আদায় করে নেওয়া এবং ফরোয়ার্ডদের গতির উপর নির্ভর করেই ইউরোপ কাঁপিয়েছে ফরাসি ক্লাবটি। গত মরসুমে সেমিফাইনালে আর্সেনালকে হারিয়ে ছিটকে দিয়েছিল তারাই। ফলে এ বারের ফাইনাল গানার্সদের কাছে প্রতিশোধের মঞ্চও। গতবার দুই লেগেই দুরন্ত পারফরম্যান্স করেছিলেন পিএসজির গোলকিপার জিয়ানলুইজি দোনারুমা। আর্সেনালের একের পর এক আক্রমণ আটকে তিনিই প্যারিসিয়ানদের ফাইনালের পথে এগিয়ে দিয়েছিলেন। ফলে বুদাপেস্টেও তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাসী দুই শিবিরই। পিএসজি চাইছে ২০১৬ সালের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দু’বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিততে। অন্যদিকে আর্সেনাল চাইছে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ইউরোপের মুকুট ফিরিয়ে আনতে।
সব মিলিয়ে, বুদাপেস্টের রাত শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ নয়, হতে চলেছে ইউরোপীয় ফুটবলের দুই আলাদা দর্শন, দুই ভিন্ন মানসিকতা এবং দুই ক্লাবের ইতিহাস বদলে দেওয়ার লড়াই।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed