‘ক্রীতদাস বানিয়ে রেখেছিল টলিপাড়া’, জয়ের পর অরূপ-স্বরূপকে তীব্র আক্রমণ পাপিয়ার
দীর্ঘ দুই দশক ধরে টালিগঞ্জ মানেই অরূপ বিশ্বাস। এমনই বাস্তবতা ছিল সেখানের। কিন্তু এবারের নির্বাচনে বদল হল সেই মানচিত্রের।ঘাসফুলের দাপট কমে ফুটল পদ্মফুল।টালিগঞ্জের প্রার্থী অরূপ বিশ্বাসকে বিপুল ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেন অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারী।তবে শুধু রাজনৈতিক পালাবদল নয়,প্রশ্ন উঠছে টলিপাড়ার ভবিষ্যৎ নিয়েও।দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভ, অসন্তোষ এবং একাধিক অভিযোগ নতুন করে সামনে আসতে শুরু করেছে।সেই প্রসঙ্গে কী জানালেন পাপিয়া অধিকারী ?
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরই পাপিয়া অধিকারী টলিউডের ভেতরের একাধিক সমস্যার কথা সামনে আনেন।নিজের বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন,“টালিগঞ্জে স্বরূপ ও অরূপ ,দুই ভাই যা অত্যাচার করেছে সবার ওপর, এখানে যা কিছু তৈরি হবে, তা তাদের হাত থেকেই সব নিয়ে যেতে হবে—এটা আবার কী কথা? এটা ঠিক নয়। মানুষকে কাজ করতে দেবে না, মানুষকে ক্রীতদাস করে রাখবে এটাই তাঁদের ধারণা ছিল। এই ফ্যাসিবাদ বন্ধ করার জন্যই এই পরিবর্তন।”
তিনি আরও দাবি করেন, ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক প্রতিভাবান মানুষ থাকা সত্ত্বেও তাঁদের কাজের সুযোগ দেওয়া হয়নি।তিনি বলেন ,“অনেকেরই বক্তব্য, তাদের ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ দেওয়া হয় না। কিন্তু এবার সবাই কাজ করবে। এতদিন ইন্ডাস্ট্রি দুই ভাইয়ের হাতের মুঠোতেই ছিল। তারা কোনওদিন সিনেমা কাকে বলে জানে? সিনেমার সি-এর থেকেও তারা হাজার যোজন দূরে।আজকে ওঁকে কাজ করতে দেবে না,কালকে তাঁকে কাজ করতে দেবে না। কেন?এই সংস্কৃতি চলতে পারে না।”
তিনি বলেন,“এখানে কোনও শিল্প নেই, সেই শিল্প ফিরিয়ে আনতেই এই পরিবর্তন। এই পরিবর্তন হওয়ারই ছিল।” তবে শুধুই অভিযোগ নয়, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও জানান পাপিয়া অধিকারী। তিনি টালিগঞ্জকে নতুনভাবে গড়ে তোলার আশ্বাস দিয়ে বলেন,“আমি স্বপ্নের টালিগঞ্জ গড়ব। এখন সব কথা বলা যাবে না। আমরা পরিকল্পনা করে ফেলেছি—কীভাবে টালিগঞ্জকে সব দিক থেকে স্বপ্নের টালিগঞ্জ বানানো যায়, তা খুব শীঘ্রই জানানো হবে।”
উল্লেখ্য,গত কয়েক বছরে টলিউডে ‘ব্যান কালচার’, পক্ষপাতিত্ব এবং স্বরুপ ও অরূপ ঘোষের প্রভাব নিয়ে বহু অভিযোগ উঠেছে। অনেক শিল্পীই মনে করেছেন, রাজনৈতিক মতভেদের কারণে তাঁদের কাজের সুযোগ কমে গেছে বা কোণঠাসা হতে হয়েছে।এই প্রেক্ষাপটে পাপিয়ার অবস্থান কিছুটা আলাদা। তিনি জানান, ইন্ডাস্ট্রিতে কোনও রাজনৈতিক রং থাকবে না। সব শিল্পীকে একসঙ্গে নিয়ে, একটি ‘বটগাছের’ মতো আশ্রয় দিয়ে কাজ করাই তাঁর লক্ষ্য।
