‘ক্ষমতার লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের প্রাণ যায়,সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘৃনা উস্কে দেওয়া কথা বুলেটের মতোই ভয়ঙ্কর’,শুভেন্দুর আপ্তসহায়কের খুনে অনুরোধ ঋদ্ধির
সোমবারই প্রকাশ পেয়েছে বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল। বাংলার সিংহাসনে ১৫ বছর ধরে রাজত্ব করা তৃণমূল কংগ্রেসকে সরিয়ে বসেছে ভারতীয় জনতা পার্টি।তবে মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেওয়ার আগেই ঘটে চলেছে একের পর এক ঘটনা।এই আবহেই ঘটে গেল আরও এক দুর্ঘটনা।নির্বাচনের ফলপ্রকাশের ৭২ ঘন্টার মধ্যেই খুন করা হয় শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে।বুধবার রাতে বাড়ি ফেরার সময় বাইকে করে আসা দুই দুষ্কৃতী তাঁকে লক্ষ্য করে একাধিক গুলি চালায়।গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।এই ঘটনায় ইতিমধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্যেজুড়ে।এই মর্মান্তিক ঘটনার পর মুখ খুললেন অভিনেতা ঋদ্ধি সেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে তিনি লেখেন,”চন্দ্রনাথ রথের হত্যা ভয়াবহ,ক্ষমতার লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের প্রাণ যায় বার বার,কি অকারণ l এই হত্যার বিচার হোক অবিলম্বে।”তবে শুধু হত্যাকাণ্ডের নিন্দাই নয়,বর্তমানে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঋদ্ধি।তিনি লেখেন,”এই সময়টা খুব কঠিন,বিপজ্জনক, রাজ্যের রাস্তায় এখনও আইনি রাস্তায় হাঁটার উপায় আছে,কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার রাজ্যে আইন শৃঙ্খলার বিসর্জন ঘটেছে বহু বছর আগেই,এখানে মানুষের অধিকারের সকল নিয়ম লঙ্ঘন করে পার পেয়ে যাওয়া যায়,এখানে আমাদের প্রয়োগ করা শব্দগুলো গুলির কাজ করে।”

ঋদ্ধি অনুরোধ করে লেখেন,”আপনাদের সকলকে নাগরিক হিসেবে অনুরোধ,এই সময় নাগরিক হিসেবে আমাদের একটাই দায়িত্ব,হিংসা আর ঘৃনায় ভরা একটা সময় নিজেদের অভিব্যক্তির বহিঃপ্রকাশকে সংযত করা,দায়িত্বশীল হওয়া,সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘৃনা উস্কে দেওয়া কথা বুলেটের মতোই ভয়ঙ্কর,পরিস্থিতির সুস্থতা বজায় রাখার দায়িত্ব আমাদের সকলের,ঘৃণার বার্তা ছড়াতে দেখলে প্রতিবাদ করুন,ফেসবুকে আদালত বসানো থেকে নিজেদের বিরত রাখুন,আইন ব্যবস্থাকে,প্রশাসনকে নিজের কাজ করতে দিন l প্রতিবাদের ভাষা হিংসার বিরুদ্ধে হোক,হিংসার পক্ষে না।”
উল্লেখ্য,রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে বাংলায় ভোট-পরবর্তী হিংসার ছবি নতুন নয়। ঋদ্ধির মতে,অতীতের মতোই ক্ষমতার সংঘর্ষের মাঝে সাধারণ মানুষকেই মূল্য দিতে হয়েছে।তাই এই পরিস্থিতিতে হিংসা ও বিদ্বেষ থেকে দূরে থেকে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে আচরণ করাই সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ।
