গোয়ায় আটকে গেল বাগান! ডার্বির আগুনে বাড়তি ঘি ইস্টবেঙ্গলের
আইএসএলের ট্রফির লড়াই যেন ক্রমশ পৌঁছে যাচ্ছে রুদ্ধশ্বাস নাটকের শেষ অঙ্কে। গোয়ার মাঠে জয়ের সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। ফলে পয়েন্টে সমতা থাকলেও গোল পার্থক্যে শীর্ষস্থান ধরে রাখল ইস্টবেঙ্গল। আর তাতেই আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠল ১৭ মে-র কলকাতা ডার্বির আবহ।
শনিবার ফতোরদা স্টেডিয়ামে এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে ১-১ ড্র করে মাঠ ছাড়ে সার্জিও লোবেরার দল। ম্যাচের বেশিরভাগ সময়ই ছন্দহীন দেখিয়েছে সবুজমেরুনকে। শুরু থেকেই দুই দলই ছিল সতর্ক। আক্রমণে গতি বা ধার কোনওটাই চোখে পড়েনি। লিস্টন কোলাসো, রবসন রবিনহো ও জেমি ম্যাকলারেনদের মধ্যে বোঝাপড়ার অভাব স্পষ্ট ছিল। অন্যদিকে গোয়াও মূলত প্রতিআক্রমণের উপর ভরসা রেখেছিল। প্রথমার্ধে আপুইয়ার দূরপাল্লার শট এবং অ্যালড্রেডের হেড ছাড়া উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি করতে পারেনি মোহনবাগান। বৃষ্টিভেজা মাঠে পাসিং ফুটবলও বারবার ব্যাহত হয়েছে। ফলে ম্যাচ ধীরে ধীরে নিষ্প্রভ হয়ে পড়ে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরে উত্তেজনা। ৫৫ মিনিটে সন্দেশ ঝিঙ্গানের ভুল কাজে লাগিয়ে গোল করে মোহনবাগানকে এগিয়ে দেন জেমি ম্যাকলারেন। সুযোগসন্ধানী অস্ট্রেলীয় স্ট্রাইকার ঠান্ডা মাথায় গোলরক্ষককে পরাস্ত করে সবুজ-মেরুন শিবিরে স্বস্তি ফেরান। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৬৭ মিনিটে রনি উইলসনের ডানদিকের ক্রস আচমকাই জড়িয়ে যায় জালে। বিশাল কাইথও পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেননি। সমতায় ফেরে গোয়া। এরপর ম্যাচের মোড় ঘোরানোর সুযোগ এসেছিল জেসন কামিন্সের সামনে। ৭২ মিনিটে আব্দুল সামাদের বাড়ানো বল থেকে প্রায় ফাঁকা গোল পেয়েও বল ক্রসবারের উপর দিয়ে উড়িয়ে দেন তিনি। সেই মিসই শেষ পর্যন্ত ভোগাল মোহনবাগানকে।
এই ড্রয়ের ফলে ১০ ম্যাচে ২১ পয়েন্টে পৌঁছেছে মোহনবাগান। সমান পয়েন্ট ইস্টবেঙ্গলেরও। তবে গোল পার্থক্যে এগিয়ে থাকায় শীর্ষে রয়েছে লাল হলুদ। অন্যদিকে ১২ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে এফসি গোয়া। দিনের অন্য ম্যাচে জামশেদপুর এফসির হার ইস্টবেঙ্গলের জন্য আরও স্বস্তি বাড়িয়েছে। এখন কার্যত স্পষ্ট, ১৭ মে-র ডার্বিই হয়তো নির্ধারণ করবে আইএসএলের ভাগ্য। তার আগে অবশ্য ইস্টবেঙ্গলকে পাঞ্জাব এফসির বিরুদ্ধে নিজেদের ম্যাচ জিততে হবে।
