‘ঐন্দ্রিলা থাকলে ওই সব করত’ আইনি বিয়ের দিন আবেগপ্রবণ দিদি ঐশ্বর্য
একের পর এক ঝড়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে শর্মা পরিবার। ২০২২ এ পরিবারের সব থেকে আদরের ছোট মেয়ে অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মার চলে যাওয়া।
মারণ রোগের কাছে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর হার মানেন অভিনেত্রী। কিছুদিন পরেই অভিনেত্রীর মায়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়, শরীরে বাসা বাঁধে মারণ রোগ।

অনেক বছর পর শর্মা বাড়িতে এলাহী আয়োজন, কারণ বাড়ির বড় মেয়ে অর্থাৎ ঐন্দ্রিলার দিদি ঐশ্বর্য শর্মার বিয়ে করলেন।
সেই উপলক্ষেই আডিশন পৌঁছে গিয়েছিল ঐন্দ্রিলার বাড়িতে। কোথাও হাসিমুখে মা-বাবার সঙ্গে ছবিতে দাঁড়িয়ে আছেন,কখনও আবার দিদির সঙ্গে মিষ্টি মুহূর্তে । বাড়ির প্রতিটি কোণায় শুধুই ঐন্দ্রিলার স্মৃতি। সেই স্মৃতি আঁকড়েই সাড়ে তিন বছর পার করে ফেলেছে ঐন্দ্রিলার পরিবার । তার মধ্যে মায়ের অসুস্থতাও একা হাতে সামাল দিয়েছেন বড় মেয়ে ঐশ্বর্য। মেকআপ, সাজুগুজু বিশাল ব্যস্ততা তারই মাঝে আডিশনের সঙ্গে আড্ডায় ঐশ্বর্য ।

মনের মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরিচয় পেশাগত কারণে, তবে কথা শুরু হয়ে ম্যাট্রিমনিয়াল সাইট থেকে। ৩ ফেব্রুয়ারি ঐশ্বর্য এবং দিব্যজিত আইনি বিয়ে সারলেন। বিশেষ দিনে বোনকে নিয়ে আবেগে ভাসলেন দিদি বললেন, ‘বোন যখন যায় জীবনটা পুরোটাই পাল্টে যায়। বোন আমার থেকে ২ বছরের ছোট এবং ওর সঙ্গেই আমার পুরোটা। যখন চলে গেল খুব একা হয়ে পড়ি, চরম একাকিত্বে ভুগতে থাকি, সেই একাকীত্ব এখনো আছে, সারাজীবন থাকবে এবং সেটা কাটিয়ে ওঠা প্রায় অসম্ভব। এখন কাজে ব্যস্ত থেকে নিজেকে ভুলিয়ে রাখি। কিন্তু একা থাকলে প্রচণ্ড কষ্ট হয়।’
ঐশ্বর্য আরও বলেন,‘ আজকে বোনকে একটু বেশি মিস করছি। আজকে ও থাকলে ওর বিয়েটাই আগে হতো সব্যসাচীর সঙ্গে। ও থাকলে আজ আমায় কোনও চিন্তাই করতে হতনা। ও পরিবারের সব অনুষ্ঠান আয়োজন করত কোনওদিন এসব নিয়ে আমায় ভাবতে হয়নি আজও হতনা।’
বোনের সঙ্গে বিয়ে নিয়ে কী কী পরিকল্পনা ছিল দিদির? জানতে চাওয়ায় ঐশ্বর্যর জবাব, ‘ও সব সময় বলতো দিদিভাই তোমার বিয়ে এরম ভাবে দেব বা ওর বিয়ে নিয়ে আমার অনেক পরিকল্পনা ছিল, কোন লহেঙ্গা, পরব। বেশ কিছু দিন ধরেই খুব মিস করছি বিষয়েগুলো।’
সব্যসাচী চৌধুরীর সঙ্গে ঐন্দ্রিলার সম্পর্ক বেশ চর্চিত , তবে অভিনেত্রীর অবর্তমানে সব্যসাচীর সঙ্গে কামন সম্পর্ক শর্মা পরিবারের? তার প্রমাণ অনুষ্ঠানের রাতেই৷ উপহার হাতে ঐশ্বর্যকে শুভেচ্ছা জানাতে হাজির হয়েছিলেন সব্যসাচী।
তবে বিয়ে হয়ে গেলে মেয়েদের, বরের বাড়ি চলে যাওয়ার নিয়ম নতুন না তাহলে বিয়ের পর বাবা এবং অসুস্থ মায়ের খেয়াল কীভাবে রাখবেন ঐশ্বর্য? এই কথা শুনেই স্পষ্ট জবাব তাঁর, ‘এখন তো শুধু মেয়েরাই ছেলেদের বাড়ি যায় না উল্টোটাও তো হয়ে। সেই ক্ষেত্রে দু’জন মিলেমিশে সবটার খেয়াল রাখব। আর এখন তো শুধু আইনিবিয়ে এবংবাগ দান করলাম সামাজিক বিয়ে যখন করব তখন ভাবব।’
