‘বাবা এবং স্বামী হিসাবে ব্যর্থ’, থানার বাইরে কেঁদে ফেললেন হিরণ-কন্যা, কী বললেন প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা?

0

খড়গপুরের বিজেপি বিধায়ক হিরণ্ময় চট্টপাধ্যায়ের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে তরজা তুঙ্গে। এ বার সম্মুখসমরে হিরণের দ্বিতীয় স্ত্রী ঋতিকা গিরি বনাম প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়। হিরণের সঙ্গে বিয়ের ছবি প্রকাশ্যে আসার ২৪ঘণ্টার মাথায় মুখ খোলেন ঋতিকা। তার পরে এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করেননি অনিন্দিতাও। মেয়ে নিয়াসা চট্টোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে আনন্দপুর থানায় অভিযোগ জানান পৌঁছন তিনি। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী ঝিলম অধিকারী।
অনিন্দিতা থানায় অভিযোগের পর বলেন, “২৫ বছর পর থানায় এসে জানাতে হচ্ছে, আমাদের বিয়েটা এখনও আছে। এর থেকে লজ্জার আর কী আছে।” মায়ের কথার সূত্র ধরেই কথা বলতে শুরু করেন হিরণ-কন্যাও। নিয়াসা বলেন, “আমি মেয়ে হয়ে কী বলব? বাবার ছবি দেখে মা কাঁদছে, কী বলার আছে আর!” এ কথা বলতে বলতে ক্যামেরার সামনেই কেঁদে ফেলেন তিনি।  অনিন্দিতা এরপর ঋতিকার অভিযোগের পাল্টা বলেন, “ওইটুকুন একটা মেয়ে, বিয়ে সম্পর্কে বোঝেটা কী! আমি তো ২৫টা বছর কাটালাম। ও ভাবছে ভিয়েতনাম বেড়াতে গিয়ে আর মাথায় সিঁদুর পরে বিবাহিত জীবন কাটানো যায়। দেখি না কত সুখে স্বাচ্ছন্দ্যে সংসার করে! সারাক্ষণ তো শুনি আত্মহত্যা করতে যাচ্ছে। যে মেয়ে বিয়ের আগেই ১৫বার আত্মহত্যা করতে যাচ্ছে, সে কত সুখে জীবন কাটাবে বোঝাই যাচ্ছে।”
মঙ্গলবার বারাণসীর ঘাটে হিরণ ও ঋতিকার বিয়ের ছবি প্রকাশ্যে আসার পরই তোলপাড় শুরু হয়। তখনই অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, ‘এই বিয়ে বেআইনি। আমার সঙ্গে ওর বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি।’ বুধবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন ঋতিকা। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, “অনিন্দিতাকে বিবাহবিচ্ছেদের আইনি নোটিস আগেই পাঠানো হয়েছে।’ এর প্রেক্ষিতেই অনিন্দিতা জানান, ‘ঋতিকা নিজেই অবৈধ বিয়ে করেছে ওর কথাতেই প্রমাণ করে দিয়েছে। আর লিগ্যাল নোটিশ নয়, উকিলের চিঠি পাঠানো হয়েছিল। কোর্ট থেকে কিছু আসেনি’। 
ঋতিকা এও লেখেন, ‘এই বিয়ে আমরা অনেক আগেই করেছি। গত পাঁচ বছর ধরে আমরা একসঙ্গে আছি। এবং এই সব বিষয় অনিন্দিতা জানত। আমার সব অ্যাকাউন্ট পাবলিক ছিল। কোনও কিছুই লুকানো ছিল না। তাহলে এত বছর ধরে তিনি কোথায় ছিলেন? কেন তখন কোনও প্রশ্ন তোলেননি?’ অনিন্দিতা বলেন, ‘পাঁচবছর আগে হিরণ এইসময় খড়গপুরেই পৌঁছয়নি। ভোট হয় ২০২১ এ। তাহলে পাঁচবছর হল কোথায়? হিসেব মতো ঋতিকাকে ওইসময় হিরণ চ্যাটার্জির তো চেনারই কথা নয়। হাস্যকর কথাবার্তা।’ এরপর বয়সের কথা উঠলে অনিন্দিতা জানান, আমায় তো হিরণই বলেছে। বলেছিল, জানোতো ওর এরকম বয়স। বাচ্চা মেয়ে। আমাকে ব্ল্যাকমেলিং করছে। আমি তো ঋতিকার সঙ্গে জড়িত নই, হিরণই জড়িত।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *