মাঝরাতে হঠাৎ ভেঙে যাচ্ছে ঘুম, তারপর আর ঘুম আসছে না! জানেন কীভাবে দূর হবে এই সমস্যা?

0

রাত বাড়ে, ঘড়ির কাঁটা এগোয় কিন্তু ঘুম আসে না। আবার কখনও ঘুম এলেও মাঝরাতে ভেঙে যায়, তারপর চেষ্টা করেও আর আসে না ঘুম। ফলে সারাদিন ক্লান্তি, কাজের জন্য এনার্জির অভাব। বর্তমান যুগে প্রায় অনেকেই এই সমস্যায় ভোগেন, আর ধীরে ধীরে সেটাই অভ্যাসে পরিণত হয়। এই সমস্যাকেই ডাক্তারি ভাষায় বলা হয় ইনসোমনিয়া বা অনিদ্রা।

রাতের ঘুম না হওয়ার প্রভাব পড়ে গোটা দিনের উপর। ফলে সকালে উঠেই ক্লান্ত লাগে, মেজাজ খিটখিটে হয়, মনযোগ কমে যায়, এমনকি কাজের ইচ্ছেটাও হারিয়ে যায়। দীর্ঘদিন এমন চলতে থাকলে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপরেও তার প্রভাব পড়তে শুরু করে।

অনিদ্রার পিছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। অনেক সময় মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা বা জীবনের কোনও বড় পরিবর্তন মাথার ভেতর এতটাই চাপ সৃষ্টি করে যে শরীর ক্লান্ত হলেও মস্তিষ্ক থামতে চায় না। আবার রাতে ঘুমের আগে, বেশি ফোন ব্যবহার, কফি বা চা পান করা এই ছোট ছোট অভ্যাসও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। সবথেকে অদ্ভুত বিষয়, ঘুম না হওয়ার চিন্তাও অনেক সময় ঘুমকে আরও দূরে সরিয়ে দেয়। মাথা আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে।

তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জীবনধারার ছোট ছোট পরিবর্তন করে, এই সমস্যা থেকে অনেকটা মুক্তি পাওয়া সম্ভব। নিয়মিত সময়ে ঘুমোতে যাওয়া, ঘুমের আগে স্ক্রিন টাইম কমানো, শান্ত পরিবেশ তৈরি করা, এসব খুব সাধারণ অভ্যাস হলেও এর প্রভাব কার্যকরী।

জেনে নিন ইনসোমনিয়া বা অনিদ্রা থেকে মুক্তি পাওয়ার কিছু সহজ উপায়-

● প্রত্যেক দিন একই সময়ে ঘুমোতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস তৈরি করা।

● প্রতিদিন অল্প সময়ের জন্য হলেও যোগ ব্যায়াম বা প্রাণায়ামের অভ্যাস গঠন। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা স্ট্রেস কমাতে মেডিটেশন করা। তবে ঘুমানোর ঠিক আগে ভারী ব্যায়াম নয়।

● স্ক্রিন টাইম কমানো। অর্থাৎ, ঘুমানোর অন্তত ৩০ মিনিট আগে মোবাইল, ল্যাপটপ বা টিভি ব্যবহার বন্ধ রাখা।

● সন্ধ্যার পর কফি, চা, অ্যালকোহল, নিকোটিন বা অতিরিক্ত ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা।

● ঘুমানোর আগে ভারী খাবার না খেয়ে হালকা ডিনার করা।

● শান্ত, অন্ধকার ও আরামদায়ক পরিবেশে ঘুমানোর চেষ্টা করা। ঘুম না এলে জোর করে শুয়ে না থেকে বই পড়া বা হালকা মিউজিক শোনা।

ঘুম হল শরীরের ‘রিস্টার্ট বাটন’। তাই প্রায় প্রতিদিন ঘুম না হলে সেটাকে স্বাভাবিক ভেবে এড়িয়ে না গিয়ে একটু গুরুত্ব দেওয়া দরকার। প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কারণ ভালো ঘুমই সুস্থ শরীর, এবং মানসিক অবস্থার চাবিকাঠি।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *