এক ট্রফি, দুই মহারণ! কোপা ও ইউরো চ্যাম্পিয়নের দ্বৈরথে ফাইনালের মঞ্চে মহাযুদ্ধ
বিশ্বকাপের ফাইনাল মানেই বিশ্বের সেরা দুই দলের লড়াই। তবে এবারের ট্রফি নির্ধারণী ম্যাচের গুরুত্ব আরও বেশি। কারণ, এক ম্যাচেই মিলতে চলেছে দুটি ফাইনালের স্বাদ। একদিকে বিশ্বকাপের ট্রফি, অন্যদিকে কোপা আমেরিকা ও ইউরো চ্যাম্পিয়নদের লড়াই- অর্থাৎ বহু প্রতীক্ষিত ফিনালিসিমার আবহও তৈরি হয়েছে একই মঞ্চে।
২০২৪ সালে কোপা আমেরিকার ট্রফি জেতে আর্জেন্টিনা, আর ইউরো কাপ জিতে স্পেন। নিয়ম অনুযায়ী, এই দুই মহাদেশীয় চ্যাম্পিয়নের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল ফিনালিসিমায়। ম্যাচের দিনক্ষণও প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে সেই ম্যাচ শেষ পর্যন্ত আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। ফলে মেসি বনাম ইয়ামালের সেই প্রতীক্ষিত দ্বৈরথও অধরাই থেকে যায়। ভাগ্যের পরিহাস, সেই লড়াইই এবার বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে বাস্তব হতে চলেছে। বিশ্বকাপে দুই দলই দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। স্পেন ১৬ বছর পর ফাইনালে উঠে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে। অন্যদিকে, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার লক্ষ্য টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাস গড়া। ইতালি ও ব্রাজিলের পর তৃতীয় দেশ হিসেবে পরপর দুটি বিশ্বকাপ জয়ের নজির গড়ার হাতছানি রয়েছে লিওনেল স্কালোনির দলের সামনে।
আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। চলতি বিশ্বকাপে ইতিমধ্যেই আটটি গোলের পাশাপাশি চারটি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। নকআউট পর্বে তাঁর অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বই বারবার কঠিন পরিস্থিতি থেকে দলকে ফিরিয়ে এনেছে। শেষ ষোলো, কোয়ার্টার ফাইনাল এবং সেমিফাইনাল- তিন ম্যাচেই পিছিয়ে পড়েও জয় তুলে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। এই প্রত্যাবর্তনের মানসিকতাই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি। অন্যদিকে, তরুণ ও গতিময় ফুটবল খেলছে স্পেন। লামিনে ইয়ামাল, পেদ্রি, গাভিদের মতো ফুটবলাররা ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের ফাইনালে মেসির বিপক্ষে খেলাই তাঁদের স্বপ্ন। ইয়ামাল প্রকাশ্যে বলেছেন, তিনি মেসির সঙ্গে জার্সি বদল করতে চান। পেদ্রির কথায়, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফাইনাল মানেই স্বপ্নপূরণ। দুই কোচের মধ্যেও রয়েছে পারস্পরিক শ্রদ্ধা। স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে এবং আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি-দু’জনেই আগেই জানিয়েছিলেন, ফাইনালে একে অপরকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেলে সেটাই হবে আদর্শ লড়াই।
পরিসংখ্যানও বলছে, এই দ্বৈরথে কোনও দলই এগিয়ে নয়। আন্তর্জাতিক ম্যাচে এখনও পর্যন্ত ১৪ বার মুখোমুখি হয়েছে দুই দেশ। আর্জেন্টিনা ও স্পেন- উভয়েই জিতেছে ৬টি করে ম্যাচ, দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। বিশ্বকাপে অবশ্য একবারই দেখা হয়েছিল দুই দলের, ১৯৬৬ সালে। সেটা জিতেছিল আর্জেন্টিনা। প্রায় ছয় দশক পর আবার বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে তারা, তাও সরাসরি ফাইনালে। ফাইনালের আগে অপ্টা সুপারকম্পিউটার-এর পূর্বাভাসও বাড়িয়েছে উত্তেজনা। পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে স্পেনের জয়ের সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ৪৫.১ শতাংশ। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার সরাসরি জয়ের সম্ভাবনা ২৯.৪ শতাংশ। বাকি ২৫.৪ শতাংশ সম্ভাবনা রাখা হয়েছে ম্যাচ অতিরিক্ত সময় বা টাইব্রেকারে গড়ানোর। তবে সেমিফাইনালের ফলাফল অনুমান করতে ব্যর্থ হয়েছিল এই সুপারকম্পিউটার। তাই এবারও পরিসংখ্যান জিতবে, নাকি মেসির অভিজ্ঞতা ও আর্জেন্টিনার লড়াকু মানসিকতা, তার উত্তর মিলবে রবিবারের মহারণেই।
