হান্টাভাইরাস কী? নতুন আতঙ্কে কেন কাঁপছে বিশ্ব! কী বলছে হু?

0



করোনাভাইরাস অতিমারির ক্ষত এখনও পুরোপুরি শুকোয়নি। তার মধ্যেই নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে হান্টাভাইরাস সংক্রমণ। আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরু করা প্রমোদতরী ‘এমভি হন্ডিয়াস’-এ একাধিক যাত্রীর শরীরে হান্টাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ার পর আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য মহলে শুরু হয়েছে উদ্বেগ। এরমধ্যেই কয়েকজনের মৃত্যুর খবর সামনে আসায় আতঙ্ক যেন আরও বেড়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলে থাকা ওই জাহাজে ১৪৯ জন যাত্রীর মধ্যে দু’জন ভারতীয়ও রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। যদিও তাঁরা আক্রান্ত কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু অবশ্য এই ভাইরাসকে করোনার মতো বিশ্বব্যাপী অতিমারির আকার নেওয়ার সম্ভাবনা আপাতত নাকচ করেছে। হু-র ডিরেক্টর জেনারেল টেডরোস আধানোম গেব্রিয়েসাস জানিয়েছেন, হান্টাভাইরাস সাধারণত খুব ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ ছাড়া সহজে ছড়ায় না। তাঁর কথায়, ‘সংক্রামিত ব্যক্তির খুব কাছাকাছি এলে তবেই আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।’ তবে তিনি সতর্ক করেছেন, ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ৬ সপ্তাহ পরেও উপসর্গ দেখা দিতে পারে। ফলে আগামী দিনে আরও সংক্রমণের খবর সামনে আসতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হান্টাভাইরাস মূলত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীবাহিত একটি বিরল কিন্তু বিপজ্জনক ভাইরাস। আক্রান্ত ইঁদুরের মল, মূত্র বা লালার মাধ্যমে এই ভাইরাস পরিবেশে ছড়ায়।বিশেষ করে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ঘর, গুদাম বা জাহাজ পরিষ্কারের সময় বাতাসে ভেসে ওঠা দূষিত কণার মাধ্যমে ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ অত্যন্ত বিরল। কেবল ‘অ্যান্ডেস’ ধরনের ভাইরাসের ক্ষেত্রে সীমিত সংক্রমণের নজির রয়েছে।চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, হান্টাভাইরাসের দুটি প্রধান রূপ রয়েছে। এক ধরনের ভাইরাস ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটিয়ে তীব্র শ্বাসকষ্ট তৈরি করে, যা অনেক ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। অন্য ধরনটি কিডনিকে আক্রমণ করে এবং গুরুতর অবস্থায় কিডনি বিকল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করে। সংক্রমণের প্রথম দিকে জ্বর, ক্লান্তি, পেশিতে ব্যথা, মাথাব্যথা ও বমিভাবের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। পরে শুরু হতে পারে কাশি, শ্বাসকষ্ট কিংবা রক্তচাপ কমে যাওয়ার মতো জটিলতা।
যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা সিডিসি জানিয়েছে, ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার এক থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে উপসর্গ দেখা দিতে পারে। প্রথম ৭২ ঘণ্টায় রোগ শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই এটি সাধারণ ফ্লু বলে ভুল হতে পারে। বর্তমানে হান্টাভাইরাসের কোনও নির্দিষ্ট টিকা বা চিকিৎসা নেই। রোগীর শ্বাসকষ্ট নিয়ন্ত্রণ, গশরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং প্রয়োজন হলে ভেন্টিলেটর বা ডায়ালাইসিসের সাহায্য নেওয়াই চিকিৎসার প্রধান উপায়। পিসিআর পরীক্ষার মাধ্যমে ভাইরাস শনাক্ত করা সম্ভব। এই সংক্রমণের জেরে এরমধ্যেই আমেরিকা, ব্রিটেন, কানাডা, জার্মানি, সুইডেন, সিঙ্গাপুর-সহ ১২টি দেশকে সতর্ক করেছে হু। কারণ আক্রান্ত জাহাজের কয়েকজন যাত্রী মাঝপথেই নেমে গিয়েছিলেন। তাঁদের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে বিশেষজ্ঞরা এখনও সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ারই পরামর্শ দিচ্ছেন।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *