মাধ্যমিকে ফের ‘জেলার জয়’, মেধাতালিকায় ব্রাত্য কলকাতা!
এ বারেও মাধ্যমিকের মেধাতালিকায় কলকাতাকে কার্যত পিছনে ফেলে দিল জেলার ছাত্রছাত্রীরা। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের ২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলে আবারও স্পষ্ট হল জেলার পড়ুয়াদের ধারাবাহিক সাফল্য। প্রথম দশে জায়গা করে নিল রাজ্যের ১৯ জেলার ৮৩ স্কুলের ১৩১ জন পরীক্ষার্থী। অথচ, প্রতি বছরের মতো এবারও কলকাতা থেকে মেধাতালিকায় স্থান পেল না কোনও পরীক্ষার্থী।
শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেন মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়। পরীক্ষা শেষ হওয়ার মাত্র ৮৪ দিনের মাথায় ফল প্রকাশ করল পর্ষদ। চলতি বছরে মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২ ফেব্রুয়ারি এবং শেষ হয় ১২ ফেব্রুয়ারি। প্রায় ৯ লক্ষ ৭১ হাজার পরীক্ষার্থী এ বছরের পরীক্ষায় অংশ নেয়।
এবারের মেধাতালিকায় প্রথম স্থান দখল করেছে উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ সারদা বিদ্যামন্দিরের ছাত্র অভিরূপ ভদ্র। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৮। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বীরভূমের সরস্বতী শিশু মন্দির হাই স্কুলের প্রিয়তোষ মুখোপাধ্যায়, প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৬।তৃতীয় স্থানে যৌথভাবে রয়েছে তিনজন-দক্ষিণ ২৪ পরগনার সৌর জানা, পূর্ব মেদিনীপুরের অঙ্কন কুমার জানা এবং বাঁকুড়ার মৈনাক মণ্ডল। তিনজনেরই প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৫। মেধাতালিকার দিকে নজর রাখলে দেখা যাচ্ছে, সবচেয়ে বেশি সফল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা। এই জেলা থেকে মোট ২৩ জন ছাত্রছাত্রী প্রথম দশে জায়গা পেয়েছে। উত্তর দিনাজপুর ও বাঁকুড়া থেকে রয়েছে ১৪ জন করে কৃতী। দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে ১১ জন, হুগলি ও পুরুলিয়া থেকে ৯ জন করে ছাত্রছাত্রী মেধাতালিকায় স্থান পেয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনা থেকে ৮ জন এবং কোচবিহার থেকে ৭ জন রয়েছে তালিকায়। এ বারের পাশের হার দাঁড়িয়েছে ৮৬.৮৩ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় সামান্য বেশি। পাশের হারে শীর্ষে রয়েছে কালিম্পং জেলা, সেখানে পাশের হার ৯৫.১০ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে পূর্ব মেদিনীপুর, পাশের হার ৯৪.৮২ শতাংশ। কলকাতার পাশের হার ৯২.৩১ শতাংশ হলেও মেধাতালিকায় জায়গা হয়নি কোনও পড়ুয়ার।
প্রথম স্থানাধিকারীর নম্বরের হার ৯৯.৭১ শতাংশ এবং দশম স্থানাধিকারীর নম্বরের হারও ৯৮ শতাংশ। তবে অন্যদিকে পরিসংখ্যান বলছে, ৫৫ শতাংশের বেশি পরীক্ষার্থী ৫০ শতাংশের কম নম্বর পেয়েছে। আবার ৮০ শতাংশের বেশি নম্বর পেয়েছে মাত্র ৪ শতাংশ পরীক্ষার্থী।
