চ্যাম্পিয়ন্স লিগে থামল বায়ার্ন, পিএসজির ফাইনালে ওঠার উল্লাসে পেনাল্টি বিতর্ক!
আরও একবার ইউরোপ সেরার মঞ্চে উঠে এল প্যারিস সাঁ জাঁ (পিএসজি)।চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালের দুই লেগ মিলিয়ে বায়ার্ন মিউনিখকে ৬-৫ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ফরাসি জায়ান্টরা। কিন্তু ম্যাচ শেষে পিএসজির সাফল্যের চেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে একটি পেনাল্টি সিদ্ধান্ত ঘিরে।
প্রথম লেগে পার্ক দে প্রাঁসে ৫-৪ গোলে জয়ের পর আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় তুলনায় অনেক বেশি সতর্ক ফুটবল খেলেছে লুইস এনরিকের দল। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই উসমান ডেম্বেলের গোলে এগিয়ে যায় পিএসজি। এরপর দীর্ঘ সময় সেই লিড ধরে রাখলেও যোগ করা সময়ে হ্যারি কেন গোল করে সমতা ফেরান। তবে অ্যাগ্রিগেটে তখনও পিছিয়ে ছিল বায়ার্ন। শেষ পর্যন্ত আর প্রত্যাবর্তন সম্ভব হয়নি জার্মান ক্লাবের। তবে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় ৩১ মিনিটের বিতর্কিত মুহূর্ত। নিজেদের বক্সের মধ্যে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ভিতিনিয়ার শট গিয়ে লাগে সতীর্থ জোয়াও নেভেসের হাতে। সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির জোরালো দাবি তোলে বায়ার্নের ফুটবলাররা। কিন্তু রেফারি জোয়াও পেদ্রো খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। সেই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে গোটা আলিয়াঞ্জ অ্যারেনা। সামাজিক মাধ্যমেও সমালোচনার মুখে পড়েন পর্তুগিজ রেফারি। যদিও প্রাক্তন রেফারি ও বিশেষজ্ঞদের একাংশ পেদ্রোর সিদ্ধান্তকেই সঠিক বলে মনে করছেন। তাঁদের যুক্তি, সতীর্থের পা থেকে সরাসরি বল হাতে লাগলে তা সবসময় হ্যান্ডবল হিসেবে গণ্য হয় না। বিশেষ করে খেলোয়াড়ের প্রতিক্রিয়া জানানোর মতো সময় না থাকলে পেনাল্টি দেওয়ার নিয়ম নেই। ইংল্যান্ডের প্রাক্তন এলিট প্যানেলের রেফারি অ্যান্ডি ডেভিসও একই ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
ম্যাচ শেষে আত্মবিশ্বাসী শোনাল পিএসজি কোচ লুইস এনরিকেকে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন গ্রুপ পর্বের শেষে করা নিজের মন্তব্যের কথা। এনরিকে বলেন, ‘তখনই বলেছিলাম, আমাদের চেয়ে ভালো দল নেই। অনেকে বিশ্বাস করেনি। কিন্তু আমরা আবারও প্রমাণ করলাম।’ ফাইনালে আগামী ৩০ মে বুদাপেস্টে আর্সেনালের মুখোমুখি হবে পিএসজি। এনরিকের মতে, আর্সেনাল এই মরশুমের অন্যতম শক্তিশালী দল হলেও তাঁর দল যে কোনও চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত। শুধু আক্রমণ নয়, রক্ষণেও যে পিএসজি এখন অনেক পরিণত, সেটাও স্পষ্ট হয়েছে মিউনিখের ম্যাচে। দীর্ঘ সময় চাপ সামলে ঠান্ডা মাথায় খেলা ধরে রেখেছে ফরাসি ক্লাব। এনরিকেও মানছেন, প্রয়োজন হলে রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলতেও এখন প্রস্তুত তাঁর দল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পাশাপাশি লিগ ওয়ানের খেতাবও প্রায় নিশ্চিত পিএসজির। ফলে ইতিহাস গড়ার মরসুমের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে এখন ফরাসি ক্লাবটি।
