শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বাংলায় বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

0

দীর্ঘ রাজনৈতিক জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা করল বিজেপি। শুক্রবার নিউ টাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে বিজেপি বিধায়ক দলের বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আনুষ্ঠানিকভাবে শুভেন্দুর নাম পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করেন। সেই সঙ্গে স্পষ্ট হয়ে যায়, স্বাধীনতার পর বাংলায় প্রথম বিজেপি সরকার গঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন শুভেন্দুই। শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথ নেবেন তিনি। বাংলার নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেও ইতিহাসে নাম উঠতে চলেছে তাঁর।
বৈঠকের পরে অমিত শাহ জানান, পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে একমাত্র শুভেন্দু অধিকারীর নামই প্রস্তাবিত হয়েছিল। অন্য কোনও নাম সামনে আসেনি। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য তাঁর নাম প্রস্তাব করেন। পরে সর্বসম্মতভাবে সেই প্রস্তাব গৃহীত হয়। এরপরই সরকার গঠনের দাবি জানাতে রাজভবনে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন শুভেন্দু।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এ বারের নির্বাচনে শুভেন্দুর সাফল্যই তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসার রাস্তা করে দিয়েছে। নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুরেও জয় তুলে নিয়ে তিনি কার্যত বিজেপির সবচেয়ে বড় মুখ হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে ভবানীপুরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রায় ১৫ হাজারের বেশি ভোটে হারানোকে বিজেপি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পালাবদলের প্রতীক হিসেবেই দেখছে। এর আগে ২০২১ সালেও নন্দীগ্রামে মমতাকে হারিয়েছিলেন শুভেন্দু। ফলে পর পর দু’বার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে নির্বাচনে পরাস্ত করার বিরল নজির গড়েছেন তিনি।
অতীতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন প্রফুল্ল চন্দ্র ঘোষ, ডাঃ বিধান চন্দ্র রায়, প্রফুল্ল চন্দ্র সেন, অজয় কুমার মুখোপাধ্যায়, সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায়, জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ও শেষে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বার নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। বিধায়কদের দলীয় বৈঠকে নিজের নাম ঘোষণার পর আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন শুভেন্দু। অমিত শাহর হাত ধরে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে দেখা যায় তাঁকে। বিজেপি নেতৃত্বের একাংশের মতে, সংগঠন সামলানোর দক্ষতা, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং বিরোধী রাজনীতির আক্রমণাত্মক মুখ হিসেবেই শেষ পর্যন্ত শুভেন্দুর উপর আস্থা রেখেছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বাংলায় বিজেপির প্রথম সরকার গঠনের ঘটনাকে ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলেই তুলে ধরছে গেরুয়া শিবির। সেই কারণেই শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে থাকছে বিশেষ আয়োজন। সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, নিতিন গডকরি, ধর্মেন্দ্র প্রধান-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন ব্রিগেডের অনুষ্ঠানে। পাশাপাশি এনডিএ শাসিত প্রায় ২০টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও উপমুখ্যমন্ত্রীরাও হাজির থাকবেন।
এদিকে নতুন মন্ত্রিসভা নিয়েও জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। মন্ত্রিত্বের দৌড়ে রয়েছেন দিলীপ ঘোষ, শঙ্কর ঘোষ, নিশীথ প্রামাণিক, স্বপন দাশগুপ্ত, জিতেন্দ্র তিওয়ারি, শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, নীলাদ্রিশেখর দানা ও প্রণত টুডুরা। উপমুখ্যমন্ত্রী পদে দু’জনকে রাখা হতে পারে বলেও সূত্রের খবর, যার মধ্যে একজন মহিলা হতে পারেন। সেক্ষেত্রে উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে উঠে আসছে অগ্নিমিত্রা পালের নাম।
বর্তমানে শুভেন্দুর হাতে রয়েছে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুটি বিধানসভা কেন্দ্রই। নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে একটি আসন ছাড়তে হবে। এখন রাজনৈতিক মহলের নজর, শেষ পর্যন্ত কোন কেন্দ্র ধরে রাখেন বাংলার নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী। সূত্রের খবর, ভবানীপুর ছাড়তে চান না শুভেন্দু অধিকারী।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *