দুর্বল বলে হেনস্থা! ছোটবেলার কোন তিক্ত অভিজ্ঞতা উগরে দিলেন সমীরা?

0

অভিনেত্রী সমীরা রেড্ডী সমাজমাধ্যমে নিজের খোলামেলা, স্পষ্ট বক্তব্যের জন্য বিশেষ পরিচিত। ব্যক্তিগত জীবনের নানা চ্যালেঞ্জ, প্রেগন্যান্সির পরের পরিবর্তন থেকে শুরু করে মানসিক চাপ, সবই অকপটে তুলে ধরেছেন তিনি। এবার তিনি ভাগ করে নিলেন তাঁর শৈশবের এক কঠিন অভিজ্ঞতার কথা, যা এখনও তাঁকে প্রভাবিত করে।

সম্প্রতি, এক সাক্ষাৎকারে সমীরা জানান, ছোটবেলায় তিনি তোতলামির সমস্যায় ভুগতেন এবং সেই কারণেই সহপাঠীদের কাছ থেকে কটূক্তি ও হেনস্থার শিকার হতে হয়েছিল তাঁকে। এই অভিজ্ঞতা তাঁর আত্মবিশ্বাসে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। অভিনেত্রীর কথায়, সেই সময়কার নেতিবাচক মন্তব্য থেকে বেরিয়ে আসতে তাঁকে বহু বছর থেরাপির সাহায্যও নিতে হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ছোটবেলায় কাউকে দুর্বল বা বোকা বলে চিহ্নিত করলে তা ধীরে ধীরে তার আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে দেয়। এই ধরনের ঘটনা শিশুর মনে গেঁথে যায় এবং ভবিষ্যতে তার আচরণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলে। সমীরার মতে, অতীতের এমন অভিজ্ঞতা একজন মানুষকে দীর্ঘদিন পর্যন্ত তাড়া করে বেড়াতে পারে।

বর্তমানে দুই সন্তানের মা সমীরা। তিনি জানান, নিজের সন্তানদের সবসময় উৎসাহ দেন, যেন তারা নিজেদের সমস্যার কথা খোলাখুলি বলতে পারে এবং কোনও একটি দুর্বলতা যেন তাদের পুরো পরিচয় হয়ে না দাঁড়ায়। তিনি মনে করেন, সঠিক অনুপ্রেরণা, সমর্থন এবং সুযোগ পেলে শিশুর আত্মবিশ্বাস ও মানসিক শক্তি নিজে থেকেই তৈরি হয়।

একই সঙ্গে ‘পারফেক্ট প্যারেন্ট’ হওয়ার চাপ নিয়েও কথা বলেছেন সমীরা। তাঁর মতে, অন্যদের সঙ্গে তুলনা না করে নিজের সন্তানের প্রয়োজন ও স্বভাব বোঝাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সমাজের চাপ নয়, সন্তানের ভালোর কথা ভেবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত বলেই মত তাঁর।
সব মিলিয়ে, নিজের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সমীরা রেড্ডি আবারও তুলে ধরলেন, শৈশবের ছোট ছোট ঘটনা কীভাবে একজন মানুষের মনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে, এবং সেই জায়গা থেকে উঠে দাঁড়াতে কতটা সময় ও মানসিক শক্তির প্রয়োজন হয়।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *