ফলতায় নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত, গোটা কেন্দ্রে ভোট বাতিল! ২১ মে ফের ভোট, ২৪ মে গণনা!
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ভোটগ্রহণ সম্পূর্ণ বাতিল করে গোটা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, আগামী ২১ মে সকাল ৭টা থেকে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত নতুন করে ভোটগ্রহণ হবে। গণনা হবে ২৪ মে। ফলে নির্ধারিত দিনে এই কেন্দ্রের ভোটগণনা আর হচ্ছে না।

কমিশনের নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, ফলতা কেন্দ্রের ২৮৫টি বুথেই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া গুরুতরভাবে প্রভাবিত হয়েছে। বিশেষ পর্যবেক্ষক, জেলা নির্বাচন আধিকারিক এবং অন্যান্য রিপোর্ট খতিয়ে দেখে কমিশনের মত, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। সেই কারণেই সম্পূর্ণ ভোট প্রক্রিয়া বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক গুরুতর অভিযোগ। বহু বুথে ইভিএমের ব্যালট ইউনিটের বোতামে কালো টেপ বা আঠা লাগানো ছিল বলে অভিযোগ। ফলে ভোটারদের ভোট দিতে সমস্যা হয়েছে। কোথাও ভোটারদের ভয় দেখানো হয়েছে, কোথাও বুথে অননুমোদিত ব্যক্তিদের প্রবেশ করতে দেখা গিয়েছে। এমনকি ভোটারদের হয়ে অন্য কেউ ভোট দেওয়ার ঘটনাও রিপোর্টে উঠে এসেছে।
কমিশন সূত্রে খবর, প্রায় ৬০টি বুথে সরাসরি গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে, যা মোট বুথের প্রায় ২১ শতাংশ। এই বুথগুলিতে ৫৩ হাজারের বেশি ভোটার প্রভাবিত হয়েছেন বলেও রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনের ফল নিরপেক্ষভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। ওয়েবকাস্টিং ও ভিডিও নজরদারির ক্ষেত্রেও বড়সড় গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। একাধিক বুথের ভিডিও ফুটেজ অসম্পূর্ণ, কোথাও রেকর্ডিং অনুপস্থিত, আবার কিছু ফুটেজে অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। ফলে গোটা ভোটপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
শনিবার সকালেও হাশিমনগর ও সংলগ্ন এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। বিজেপি সমর্থক বলে পরিচিত কয়েকটি পরিবারের উপর হামলা, গ্রাম ছাড়ার হুমকি ও মারধরের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত দুই নেতার বিরুদ্ধে অবিলম্বে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। পুলিশ গড়িমসি করলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। পরে তিন তৃণমূল কর্মী গ্রেফতার হওয়ার খবর মিলেছে।
রাজনৈতিক মহলেও এই সিদ্ধান্ত ঘিরে তুমুল প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, তাদের অভিযোগেরই সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে। অন্যদিকে শাসকদলের বক্তব্য, বিরোধীরা পরাজয়ের আশঙ্কায় ভিত্তিহীন প্রচার চালাচ্ছে। তবে কমিশনের এই পদক্ষেপে স্পষ্ট, ফলতার ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে অশান্তি ও অনিয়মের অভিযোগে কোনও গোটা বিধানসভা কেন্দ্রে ‘ফ্রেশ পোল’-এর সিদ্ধান্ত কার্যত বিরল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
