বাহুবলীর শিবগামীর মতোই সন্তানের প্রাণ বাঁচাতে শেষ লড়াই!নর্মদার জলে শেষসময়েও সন্তানকে জড়িয়ে মা!
সিনেমার পর্দায় দেখা সেই দৃশ্য, প্রবল স্রোতের বিরুদ্ধে লড়ে এক মহিলা শিশুকে মাথার ওপর তুলে ধরেছেন, নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে তাকে বাঁচিয়েছেন। ‘বাহুবলী’র শিবগামী যেন তখন শুধু এক চরিত্র নন, হয়ে ওঠেন মাতৃত্বের এক অমর প্রতীক।
ঠিক তেমনই এক ছবি, কিন্তু আরও নির্মম, আরও নিঃশব্দ যন্ত্রণা নিয়ে সামনে এল জবলপুরের নর্মদা নদী থেকে। ঝোড়ো হাওয়ার দাপটে মুহূর্তে উল্টে যায় পর্যটকভর্তি ক্রুজ। চারদিক তখন আতঙ্ক, চিৎকার আর ডুবে যাওয়ার লড়াই। সেই সময়েই এক মা তাঁর চার বছরের সন্তানকে বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিলেন। নিজের লাইফ জ্যাকেটের মধ্যে জড়িয়ে, বুকের সঙ্গে শক্ত করে চেপে ধরেছিলেন ছোট্ট ছেলেকে। যেন শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত তাঁকে আড়াল করে রাখতে চেয়েছেন মৃত্যুর থেকেও। উদ্ধারকারীরা যখন জলের গভীর থেকে তাঁদের দেহ উদ্ধার করেন, তখনও সেই আলিঙ্গন অটুট। মায়ের দুই হাত শক্ত করে জড়িয়ে আছে সন্তানের চারপাশে-সময়ের স্রোত থেমে গেলেও ভাঙেনি সেই বন্ধন।
দিল্লির ওই পরিবারটি ঘুরতে এসেছিল আনন্দ খুঁজতে। কিন্তু ফিরল শোক নিয়ে। বাবা ও মেয়ে বেঁচে গেলেও, মা ও ছোট ছেলেকে আর ফিরিয়ে আনা যায়নি। প্রশাসনের হিসাবে ইতিমধ্যেই ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এই দুর্ঘটনায়, বহু মানুষ এখনও চিকিৎসাধীন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আচমকা আবহাওয়া খারাপ হয়ে যাওয়ায় ক্রুজটি দুলতে শুরু করে এবং মুহূর্তের মধ্যে জলে তলিয়ে যায়। কেউ বুঝে ওঠার আগেই সব শেষ। তবুও সেই বিশৃঙ্খলার মধ্যেই এক মা তাঁর সন্তানের জন্য লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত। এই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। কিন্তু তার বাইরেও থেকে যাচ্ছে এক নিঃশব্দ ছবি-জলের তলায় থেমে থাকা এক আলিঙ্গন, যেখানে মৃত্যু থামাতে পারেনি মায়ের ভালোবাসা। শেষ পর্যন্ত হয়তো কেউ কাউকে বাঁচাতে পারেনি, কিন্তু সেই শক্ত করে জড়িয়ে ধরা মুহূর্তটাই বলে দেয়, শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত, মা তাঁর সন্তানকে একা ছেড়ে দেননি।নিথর দেহ, কিন্তু আঁকড়ে ধরা ভালবাসার হাত দু’টি যেন জীবনের শেষ ভাষা বলছে, মায়েরা হেরে যেতে পারে, হার মানে না।
