পোস্টাল ব্যালট ঘিরে উত্তপ্ত বিধাননগর!  স্ট্রংরুম খোলা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ বিজেপির!

0

পোস্টাল ব্যালট খোলা ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল বিধাননগর প্রশাসনিক ভবন। অনুমতি ছাড়াই একাধিকবার স্ট্রংরুম খুলে পোস্টাল ব্যালট বের করার অভিযোগ তুলে সরব হল বিজেপি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট গৌতম মণ্ডলের ঘরে ঢুকে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি প্রার্থী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় ও তাঁর সমর্থকরা। অভিযোগ, বিধাননগর ও রাজারহাট নিউ টাউন বিধানসভা কেন্দ্রের পোস্টাল ব্যালট সংরক্ষিত ছিল মহকুমা শাসকের দফতরের স্ট্রংরুমে। শুক্রবার সকালে প্রশাসনের তরফে ডাকা হলে সেখানে পৌঁছন বিজেপি প্রার্থী ও তাঁর নির্বাচনী এজেন্ট। কিন্তু গিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, আগের দিনই একাধিকবার স্ট্রংরুম খোলা হয়েছে। লগবুকেও সেই তথ্য নথিভুক্ত রয়েছে বলে দাবি। অথচ কোনও প্রার্থী বা তাঁদের প্রতিনিধিকে এ বিষয়ে আগে থেকে জানানো হয়নি বলে অভিযোগ।
এই খবর সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিজেপি নেতা-কর্মীরা। সরাসরি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের ঘরে ঢুকে প্রশ্নের মুখে ফেলেন তাঁকে – ‘কে খুলেছে? কার অনুমতিতে?’ যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে গৌতম মণ্ডলের দাবি, তিনি সেদিন সারাদিন এসডিও অফিসে ছিলেন না, কলেজে স্ক্রুটিনির কাজে ব্যস্ত ছিলেন। স্ট্রংরুমের দায়িত্বে তিনি ছিলেন না বলেও জানান। বিজেপি প্রার্থী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় আরও দাবি করেন, সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী অন্তত আটবার স্ট্রংরুম খোলা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, কোনও লিখিত অনুমতি ছাড়াই এই কাজ করা হয়েছে, যা নির্বাচন কমিশনের নিয়মবিরুদ্ধ। তিনি বলেন, গোটা ঘটনায় নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানানো হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবিও তোলা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হস্তক্ষেপ করেন রিটার্নিং অফিসার। বিজেপি সূত্রের দাবি, প্রাথমিকভাবে ৬ জন আধিকারিককে সাসপেন্ড করে তদন্ত শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত প্রতিটি পদক্ষেপে সব প্রার্থীকে অবহিত করার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, একই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছে বাম প্রার্থী সৌম্যজিৎ রাহা। প্রশাসনিক স্তরে দায় চাপানো নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যেই উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে বিধাননগরে। ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েই এখন বড় প্রশ্নের মুখে প্রশাসন।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *