ভোট মিটতেই স্ট্রং রুম ঘিরে তুমুল উত্তেজনা, ক্ষুদিরামে ধুন্ধুমার!মুখোমুখি তৃণমূল-বিজেপি

0



ভোট মিটতেই গণনা পর্বের আগেই কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে তৈরি হল চরম উত্তেজনার পরিস্থিতি। পোস্টাল ব্যালট পৃথকীকরণের সময় ‘সন্দেহজনক’ গতিবিধির অভিযোগ তুলে সরব তৃণমূল কংগ্রেস। স্ট্রং রুমে কারচুপির আশঙ্কা ঘিরে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে কার্যত ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে সেখানে। তৃণমূলের অভিযোগ, সিল করা স্ট্রং রুমে নিয়মবহির্ভূতভাবে বাইরের লোকজন ঢুকেছে এবং তাঁদের সামনেই সিল খোলা হয়েছে। এই অভিযোগকে সামনে রেখে ঘটনাস্থলে পৌঁছন বেলেঘাটার প্রার্থী কুণাল ঘোষ এবং শ্যামপুকুরের প্রার্থী শশী পাঁজা। সিসিটিভি ফুটেজ দেখিয়ে তাঁদের দাবি, স্ট্রং রুমের ভিতরে অচেনা লোকের যাতায়াত স্পষ্ট। অথচ তাঁরা নিজেরা ভেতরে ঢুকে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গেলে বাধা দেওয়া হয়। এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়ে দুই প্রার্থী ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের সামনে ধরনায় বসেন।
খবর ছড়িয়ে পড়তেই উত্তেজনা আরও বাড়ে। ঘটনাস্থলে পৌঁছন মানিকতলার বিজেপি প্রার্থী তাপস রায় এবং বিজেপি নেতা সন্তোষ পাঠক। দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে শুরু হয় স্লোগান যুদ্ধ-একদিকে ‘জয় বাংলা’, অন্যদিকে ‘জয় শ্রী রাম’। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, তৈরি হয় ধাক্কাধাক্কির পরিস্থিতি। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে, ঘটনার গুরুত্ব বুঝে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে পৌঁছে যান তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তৃণমূলের অভিযোগ, ‘এটা দিনের আলোয় গণতন্ত্রকে হত্যা করার সামিল।’ তাঁদের দাবি, নির্বাচন কমিশনের মদতেই ইভিএম ও পোস্টাল ব্যালটে কারচুপির চেষ্টা চলছে। যদিও নির্বাচন কমিশন সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। আগেই কমিশনের তরফে জানানো হয়েছিল, বিকেল ৪টার পর থেকেই নির্দিষ্ট প্রোটোকল মেনে পোস্টাল ব্যালট পৃথকীকরণের কাজ শুরু হয়। কমিশনের দাবি, গোটা প্রক্রিয়াই স্বচ্ছতার সঙ্গে এবং প্রার্থী, এজেন্ট ও পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন করা হচ্ছে। সাতটি এসি স্ট্রং রুম সঠিকভাবে সিল করে রাখা হয়েছে এবং ইভিএম সম্পূর্ণ নিরাপদ অবস্থায় রয়েছে বলেও স্পষ্ট জানানো হয়।
মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানান, বিভিন্ন জেলা থেকে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান, কলকাতা উত্তর ও দক্ষিণ এবং হাওড়া জেলার স্ক্রুটিনি সম্পন্ন হয়েছে। পুনর্নির্বাচন নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে কমিশনের আশ্বাস সত্ত্বেও রাজনৈতিক উত্তেজনা কমার লক্ষণ নেই। গণনার আগেই স্ট্রং রুম ঘিরে এই উত্তেজনা উত্তাপ বাড়াল গণনার।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *