কাউন্টডাউন! ব্রিগেডে ‘পদ্মযুগের’ মহা-শপথ, বাংলার আবেগে সাজছে গেরুয়া মঞ্চ

0

বাংলার প্রথম বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ ঘিরে এখন সাজ সাজ রব ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে। শনিবার সকালেই ঐতিহাসিক এই মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁকে ঘিরে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানকে শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং ‘বাংলার সংস্কৃতির উৎসব’ হিসেবেই তুলে ধরতে চাইছে বিজেপি নেতৃত্ব। সেই লক্ষ্যেই শেষ মুহূর্তে জোরকদমে চলছে প্রস্তুতি।
বিশাল মঞ্চ তৈরির কাজ শেষ।মূল মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।মঞ্চের অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে বিশাল দুর্গামূর্তি। পাশাপাশি সাজানো হবে বাংলার বিভিন্ন মনীষী ও কৃতী ব্যক্তিত্বদের লাইফসাইজ প্রতিকৃতি। মাঠ জুড়ে থাকছে ঝালমুড়ি, রসগোল্লা, সন্দেশ-সহ নানা বাঙালি খাবারের স্টলও।
অনুষ্ঠান ঘিরে থাকছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ব্রিগেড ময়দানকে মোট ৩৫টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। কয়েকটি সেক্টর নিয়ে তৈরি করা হয়েছে পৃথক ব্লক। প্রতিটি ব্লকের দায়িত্বে থাকবেন আইপিএস পদমর্যাদার আধিকারিকরা। গোটা নিরাপত্তা ব্যবস্থার তদারকিতে থাকছেন কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দ। কলকাতা পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন থাকছে কেন্দ্রীয় বাহিনীও।শুধু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বই নন, অনুষ্ঠানে থাকছেন এক ডজনের বেশি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং এনডিএ শাসিত প্রায় ২০টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। রাজনাথ সিং, নিতিন গডকরি, ধর্মেন্দ্র প্রধানদের উপস্থিতির সম্ভাবনাও রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীরও অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা।

প্রশাসন সূত্রে খবর, অনুষ্ঠানে প্রায় ৪০ জন ভিভিআইপি উপস্থিত থাকতে পারেন। তাঁদের নিরাপত্তার জন্য ড্রোনে নজরদারি, বহুতলের ছাদে পুলিশ মোতায়েন এবং একাধিক স্তরের তল্লাশির ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাঠে কোনওভাবেই ছাতা, ব্যাগ বা জলের বোতল নিয়ে প্রবেশের অনুমতি থাকবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে পুলিশ।
ব্রিগেডের চারপাশে তৈরি হয়েছে মোট ২৫টি প্রবেশদ্বার। তার মধ্যে পাঁচটি শুধুমাত্র ভিভিআইপিদের জন্য সংরক্ষিত। মূল মঞ্চের সামনে বসানো হচ্ছে ৩০ হাজারেরও বেশি চেয়ার। আয়োজকদের দাবি, অন্তত ৫০ হাজার মানুষের সমাগম হতে পারে অনুষ্ঠানে।
তবে এত আয়োজনের মাঝেও বড় চিন্তা আবহাওয়া। কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। বৃহস্পতি ও শুক্রবারও একাধিকবার বৃষ্টিতে ভিজেছে ব্রিগেডের মাঠ। কোথাও কোথাও জমেছে জল ও কাদা। সেই কারণে বিকল্প ভেন্যু হিসেবে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের কথাও ভাবা হচ্ছে। যদিও বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, অনুষ্ঠান ব্রিগেডেই হবে।
এদিকে অনুষ্ঠানকে ঘিরে শহরের যান চলাচলেও একাধিক বিধিনিষেধ জারি করেছে কলকাতা পুলিশ। ভোর চারটে থেকে রাত আটটা পর্যন্ত ব্রিগেড সংলগ্ন এলাকায় যান নিয়ন্ত্রণ করা হবে। জরুরি পরিষেবা ছাড়া পণ্যবাহী যান চলাচলও বন্ধ থাকবে। রাজনীতির পাশাপাশি সংস্কৃতি, নিরাপত্তা এবং প্রতীকের মিশেলে ব্রিগেড এখন কার্যত ইতিহাসের সাক্ষী হওয়ার অপেক্ষায়।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *