বাগানের ‘বটবৃক্ষ’ নেই, মুখ্যমন্ত্রীর শোকবার্তা ‘মোহনবাগান ও টুটু বসু একে অপরের পরিপূরক’
মঙ্গলবার গভীর রাতে প্রয়াত ময়দানের অন্যতম প্রভাবশালী ক্রীড়া প্রশাসক তথা মোহনবাগানের প্রাক্তন সভাপতি টুটু বসু। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। সোমবার সন্ধ্যায় ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে দক্ষিণ কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। প্রথম থেকেই তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল। মঙ্গলবার রাতে ফের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর আর শেষরক্ষা হয়নি।
বুধবার সকালেই তাঁর মরদেহ নিয়ে আসা হয় বাড়িতে। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ভিড় জমান অসংখ্য সমর্থক ও অনুরাগী। টুটু বসুর নাতি অরিঞ্জয় বসু জানান, সোমবার দুপুরে লুচি-পরোটা খেয়েছিলেন টুটুবাবু। বিকেলে তাঁকে ম্যাসাজও দেওয়া হয়। সন্ধে সাড়ে ছ’টা নাগাদ দ্বিতীয়বার ম্যাসাজ করার সময় তাঁর পালস পাওয়া যাচ্ছিল না। এরপরই দ্রুত শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

টুটু বসুর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, মোহনবাগান ক্লাব ও টুটু বসু একে অপরের পরিপূরক ছিলেন। ক্রীড়া প্রশাসনে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি লেখেন, ‘মোহনবাগান ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি, প্রাক্তন সাংসদ তথা বর্ষীয়ান ক্রীড়া প্রশাসক শ্রী স্বপনসাধন বসু (টুটু বসু) মহাশয়ের প্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকাহত। মোহনবাগান ক্লাব ও টুটু বোস একে অপরের পরিপূরক ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে ক্রীড়া প্রশাসনে ওঁর অসামান্য অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। ওঁর নেতৃত্ব, দূরদৃষ্টি এবং খেলাধুলার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। আমি তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার, পরিজন, শুভানুধ্যায়ী এবং অসংখ্য অনুরাগীদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাছে ওনার বিদেহী আত্মার চিরশান্তি প্রার্থনা করি। ওঁ শান্তি।’ শোকজ্ঞাপন করেছেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল, রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও।

বুধবার সকালে তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় বাসভবন থেকে খিদিরপুর ক্লাব, ভবানীপুর ক্লাব হয়ে মোহনবাগান ক্লাবে। সেখানে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান প্রাক্তন ফুটবলার, ক্রীড়া সংগঠক ও অসংখ্য সমর্থক। দুপুর পর্যন্ত মোহনবাগান ক্লাবেই রাখা হয় মরদেহ।
১৯৯১ সালে ধীরেন দে-র উত্তরসূরি হিসেবে মোহনবাগানের সচিবের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ক্লাবের আধুনিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন টুটু বসু। অঞ্জন মিত্রের সঙ্গে তাঁর প্রশাসনিক জুটি ময়দানে কিংবদন্তি হয়ে ওঠে। ক্লাবের আর্থিক সঙ্কট থেকে বিদেশি ফুটবলার সই, সব ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন ভরসার নাম। আরপিএসজি গোষ্ঠীর সঙ্গে মোহনবাগানের সংযুক্তিকরণের পিছনেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকলেও শেষ দিন পর্যন্ত মোহনবাগান নিয়ে তাঁর আবেগ ছিল অটুট। ক্লাবের দুঃসময়ে ঢাল হয়ে দাঁড়ানো এই ক্রীড়া সংগঠকের মৃত্যুতে শুধু মোহনবাগান নয়, গোটা ময়দানই হারাল এক যুগের অভিভাবককে।
