‘বিমানে ওঠার আগে এই কাজটা আমি করিই’, কোন গোপন কথা ফাঁস করলেন আমির?
বলিউডে পেশাদার সম্পর্ক অনেক সময়ই ক্ষণস্থায়ী হয়। কিন্তু আমির খান ও মনসুর খান-এর সম্পর্ক একেবারেই উল্টো।পরিচালনা থেকে বহু বছর আগেই সরে দাঁড়িয়েছিলেন মনসুর।তবে আমিরের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের নেপথ্যে আজও রয়েছে মনসুরের চিন্তা।শুধু তাই নয়,নিজের অনুপস্থিতিতেও যাতে ছবির মান নষ্ট না হয়,সেই দায়িত্ব আমির নির্দ্বিধায় তুলে দেন তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীর হাতেই।সম্প্রতি এমনই অকপট স্বীকারোক্তি করেছেন আমির খান নিজেই।কোন রহস্যের কথা ফাঁস করেন নায়ক ?
২০০০ সালে ‘জোশ’ -এর পর পরিচালনা থেকে সরে দাঁড়ালেও,আমির খানের বহু ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন মনসুর খান। এমনকি যখনই আমির মনে করেছেন তাঁর কোনও নতুন প্রজেক্ট, যেখানে নতুন পরিচালক বা নতুন অভিনেতা রয়েছেন। অতিরিক্ত সহায়তার প্রয়োজন। তখনই তিনি মনসুরকে সেই ছবির ‘ক্রিয়েটিভ প্রডিউসার’ হিসেবে নিয়ে আসেন। এর মধ্যে রয়েছে ২০০৮ সালের রোমান্টিক কমেডি ‘জানে তু,ইয়া জানে না’, যেখানে অভিনয় করেছিলেন তাঁদের ভাগ্নে ইমরান খান। সম্প্রতি সুনীল পান্ডে পরিচালিত আসন্ন রোমান্টিক ড্রামা ‘এক দিন’ ছবিতেও তিনি যুক্ত রয়েছেন, যেখানে অভিনয় করছেন আমিরের ছেলে জুনেইদ খান।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আমির খান বলেন,“শুটিং শেষ হয়ে পোস্ট-প্রোডাকশনের সময় আমি সবসময় মনসুরকে একটি নোট লিখি। আমার খুব দুশ্চিন্তা হয়। যদি আমার প্লেন ক্র্যাশ করে বা আমি মারা যাই! আমি চাই না ছবির ক্ষতি হোক। তাই আমি পরিচালককে বলি মনসুরের পরামর্শ নিতে, আর মনসুরকে বলি সবটা দেখভাল করতে। আমি প্রতিবারই ফ্লাইটে ওঠার আগে এটা করি।”
অন্যদিকে, এই দায়িত্বের কথা জেনে খানিকটা চাপে পড়েছেন মনসুর খান নিজেই। তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আমির খানের সৃজনশীল সিদ্ধান্তের ওপর তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আর এই পারস্পরিক বিশ্বাসই বলিউডকে উপহার দিয়েছে একাধিক স্মরণীয় ছবি। যার মধ্যে রয়েছে ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তাক’, ‘জো জিতা ওয়াহি সিকন্দর’ এবং ‘আকেলে হাম আকেলে তুম’।তবে এই সফল জুটির পথ একেবারেই মসৃণ ছিল না। ‘জোশ’ ছবির কাস্টিং ঘিরে একসময় বড় মতভেদ তৈরি হয়েছিল দুজনেরটা মধ্যে। মনসুর চেয়েছিলেন শাহরুখ খান-কে ম্যাক্সের ভূমিকায় এবং আমিরকে রাহুল চরিত্রে দেখতে। কিন্তু আমির সেই প্রস্তাবে রাজি হননি। শেষ পর্যন্ত রাহুলের চরিত্রে অভিনয় করেন চন্দ্রচূড় সিং এবং এই সিদ্ধান্ত নিয়েই তৈরি হয়েছিল বিতর্ক।
শুধু কাস্টিং নয়, ছবির ভাষা ও উপস্থাপন নিয়েও তাঁদের মধ্যে মতাবিরোধ কম নয়।আমিরের মতে, অতিরিক্ত ইংরেজি বা অশালীনতা সাধারণ দর্শকের সঙ্গে সংযোগে বাধা তৈরি করতে পারে। যদিও একসময় আমির ‘দিল্লি বেলি’-এর মতো ব্যতিক্রমী ছবিও প্রযোজনা করেছেন।এদিকে, নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়েও বেশ ইতিবাচক দুই তারকা। জুনেইদ খান হোক বা জেইন মেরি খান,তাঁদের নিজেদের যাত্রাপথ নিজেকেই তৈরি করতে হবে বলেই মনে করেন আমির ও মনসুর। তাঁদের কথায়, বলিউডে সাফল্য রাতারাতি আসে না, বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দর্শকের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠাই একজন শিল্পীর প্রকৃত সাফল্য।
