যুদ্ধের বাজারে থলপতি বিজয়ের বড় ঘোষণা! কী প্রতিশ্রুতি দিলেন তিনি?
ভোটের আগে রাজনীতিতে ‘ভর্তুকী’র টোপ নতুন কিছু নয়। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট অফ ইন্ডিয়া এই প্রবণতা নিয়ে কড়া বার্তা দিলেও , ভোটের ময়দানের ছবিটি সম্পূর্ণ আলাদা। এবার সেই চেনা পথেই হাঁটলেন অভিনেতা থেকে রাজনীতির ময়দানে নামা থলপতি বিজয়। অভিনেতা থেকে নেতা হয়ে উঠলে ঠিক কী কী পদক্ষেপ করবেন টিভিকে চিফ বিজয় ?
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিজয় ‘তামিলাগা ভেটরি কাঝাঘাম’ (টিভিকে) নামক একটি নতুন রাজনৈতিক দলের সূচনা করেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে জিতলে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন বিজয়। ভোটের আবহেই মহিলা সমর্থকদের সামনে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দেন বিজয়। তার প্রতিশ্রুতির তালিকা বেশ দীর্ঘই। বিয়ের সময় নবদম্পতিদের জন্য ৮ গ্রাম সোনা সহ সিল্ক শাড়ি, ৬০ বছরের বেশি বয়সের মহিলাদের মাসে ২৫০০ টাকা আর্থিক সাহায্য, রেশন দোকান থেকে বিনামূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন—সবই রয়েছে তাঁর পরিকল্পনায়। এখানেই শেষ নয় ,পরিবার পিছু বছরে ৬টি ফ্রি গ্যাস সিলিন্ডার এবং সরকারি বাসে মহিলাদের বিনামূল্যে যাতায়াতের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। এমনকি, ক্ষমতায় এলে নবজাতকদের জন্য সোনার আংটি দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছেন।
এছাড়াও , নিরাপত্তা ও আর্থিক স্বনির্ভরতার দিকেও জোর দিয়েছেন বিজয়। মহিলাদের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর জন্য ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট এবং গণপরিবহনে ‘স্মার্ট প্যানিক বাটন’ চালুর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে বাস্তবতা নিয়ে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই সব প্রকল্প বাস্তবায়নে বিপুল অর্থের প্রয়োজন, যা বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতিতে তামিলনাড়ুর পক্ষে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। সোনা ও গ্যাসের দাম বাড়ার সঙ্গে ইরান- ইজরায়েলের যুদ্ধের মতো পরিস্থিতিতে এত বড় পরিসরে এই সুবিধা দেওয়া আদৌ সম্ভব কি না, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।
তবে এই সময় বিজয়ের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও বারবার আলোচনা সামনে এসেছে। শোনা যাচ্ছে, তাঁর স্ত্রী সঙ্গীতা বিবাহবিচ্ছেদের মামলা দায়ের করেছেন। পাশাপাশি অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়েও জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। সম্প্রতি মহাবলীপুরমে ‘উইমেন্স মিট’ অনুষ্ঠানে তাঁকে ঘিরে চলা জল্পনা নিয়ে মুখ খুলেছেন থলপতি বিজয়। তিনি বলেন , “আমাকে ঘিরে যে সাম্প্রতিক সমস্যার কথা শোনা যাচ্ছে, সেগুলো নিয়ে তোমাদের চিন্তা করার কোনও প্রয়োজন নেই। আমি নিজেই সব সামলে নেব। কিন্তু তোমাদের মনখারাপ বা দুশ্চিন্তায় পড়তে দেখলে সেটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়। রাজনীতিই এখন আমার একমাত্র লক্ষ্য।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অনেকেই আশা করেছিলেন যে বিজয় নতুন ধরনের রাজনীতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন যেখানে উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতিতে জোর থাকবে। কিন্তু তাঁর এই ঘোষণায় বরং চেনা ‘পপুলিস্ট’ রাজনীতির ছাপই স্পষ্ট। এখন সব নজর সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়ার দিকে। প্রতিশ্রুতিগুলি কতটা প্রভাব ফেলবে ভোটবাক্সে, সেটাই দেখার। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনই বলবে বিজয়ের এই পরিকল্পনা আদৌ সফল হয় কি না।
