বিজেপি দিয়েই শুরু, তৃণমূলে উত্থান , তবে আবার কি রাজনৈতিক পালাবদলের পর চাপে রূপাঞ্জনা মিত্র?
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল ঘটিয়ে বড় জয় পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। কিন্তু রাজনৈতিক এই পরিবর্তনের পরও টলিউড ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন। গত দেড় দশকে একাধিকবার বাংলা সিনেপাড়ায় রাজনীতির প্রভাব নিয়ে সরব হয়েছেন শিল্পীরা। কখনও অভিযোগ উঠেছে, বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে শিল্পীদের কাজ থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
টলিপাড়ার পরিচিত মুখ রূপাঞ্জনা মিত্রের রাজনৈতিক যাত্রা গত কয়েক বছরে বেশ নাটকীয় মোড় নিয়েছে। কিছুবছর আগে ভারতীয় জনতা পার্টি-তে যোগ দিয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে নাম লেখালেও, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি সেই দল ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। তারপর থেকেই রাজ্যের শাসকদলের বিভিন্ন কর্মসূচি, সভা-সমাবেশ এবং প্রচারে তাঁকে নিয়মিত দেখা গিয়েছে।বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর পাশে দাঁড়িয়ে একাধিক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা যায় তাঁকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তাঁর এই দলবদল নিয়ে বিরোধী শিবিরের কটাক্ষ ও সমালোচনা দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল বনাম বিজেপির তীব্র লড়াইয়ের মধ্যেও দলের হয়ে সক্রিয়ভাবে প্রচার করেন রূপাঞ্জনা। কিন্তু তাঁর দাবি, রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে ব্যক্তিগত আক্রমণ ক্রমশ সীমা ছাড়াচ্ছে।সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক পোস্ট করে তিনি ক্ষোভ উগরে দেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে তিনি লেখেন, “এবার লেডি সুপার স্টারকে নিয়ে আরও ছবি হবে ? যেহেতু রাজ চক্রবর্তীর বউ বলে?মেসি কাণ্ডই বোধহয় কফিনের পেরেক দিল অভয়ার পর।”
তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সমীকরণের প্রভাব পড়তে পারে টলিউডেও।দীর্ঘদিন শাসক ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত থাকার পর এখন ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের অবস্থান নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন তিনি। কাজের সুযোগ কি কমে যাবে? আর সেই কারণেই কি আবার পুরনো রাজনৈতিক শিবিরে ফেরার কথা ভাববেন অভিনেত্রী? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে টলিপাড়ার অন্দরে।
