নবান্নে দফতর বণ্টন, প্রথম বৈঠকেই কার হাতে কোন মন্ত্রক?
বব্রিগেডে শপথ গ্রহণের পর এবার প্রশাসনিক কাজেও গতি আনল নতুন বিজেপি সরকার। নবান্নে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর পাঁচ মন্ত্রীর হাতে দফতরের দায়িত্ব বণ্টন করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবারের বৈঠকের পর সরকারিভাবে প্রকাশ করা হল কে কোন মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলাবেন। একইসঙ্গে স্পষ্ট করা হয়েছে, বাকি গুরুত্বপূর্ণ দফতর আপাতত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অধীনেই থাকবে।থাকছে না কোনও উপ-মুখ্যমন্ত্রী। নবান্ন সূত্রে খবর, প্রশাসনিক কাজ দ্রুত শুরু করা এবং ‘ডবল ইঞ্জিন সরকার’-এর মডেলে উন্নয়ন এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়েই এই দফতর বণ্টন করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পাঁচ মন্ত্রী, মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালা এবং একাধিক শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিক।
কার হাতে কোন দফতর –
দিলীপ ঘোষ
পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতর
প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন দফতর
কৃষি বিপণন দফতর
দলের অন্যতম হেভিওয়েট নেতা দিলীপ ঘোষের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে গ্রামীণ উন্নয়ন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ একাধিক দফতর। পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নের পাশাপাশি কৃষি বিপণন এবং প্রাণিসম্পদ উন্নয়নের দায়িত্বও সামলাবেন তিনি।
অগ্নিমিত্রা পাল
নারী ও শিশুকল্যাণ এবং সমাজকল্যাণ দফতর
পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর
মহিলা মুখ হিসেবে বিজেপির অন্যতম পরিচিত মুখ অগ্নিমিত্রা পালের হাতে দেওয়া হয়েছে নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণের দায়িত্ব। পাশাপাশি পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকও সামলাবেন তিনি।
অশোক কীর্তনিয়া
খাদ্য ও সরবরাহ দফতর
সমবায় দফতর
রাজ্যের খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং সমবায় ক্ষেত্রের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অশোক কীর্তনিয়াকে। খাদ্য ও সরবরাহ দফতরের পাশাপাশি সমবায় দফতরও তাঁর হাতে থাকছে।
ক্ষুদিরাম টুডু
আদিবাসী উন্নয়ন দফতর
অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতর
সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতর
আদিবাসী ও প্রান্তিক মানুষের উন্নয়ন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তিনটি দফতরের দায়িত্ব পেয়েছেন ক্ষুদিরাম টুডু। রাজনৈতিক মহলের মতে, সামাজিক ভারসাম্যের দিক থেকে এই দায়িত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
নিশীথ প্রামাণিক
উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর
যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া দফতর
প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন এবং ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দফতর। উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণে এই দায়িত্বকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েই দেখা হচ্ছে।
এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বার্তা দেন, গত পনেরো বছরে রাজ্যে যে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। কয়লা, গরু ও বালি পাচার থেকে শুরু করে প্রশাসনিক অনিয়ম-সব ক্ষেত্রেই কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে দ্রুত উন্নয়নের কাজ শুরু করাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
