ময়দানের হৃদস্পন্দন এখন ভেন্টিলেশনে, লড়ছেন টুটু বসু

0



মোহনবাগান মানেই যেন এক আবেগের নাম টুটু বসু। আর সেই মানুষটিই এখন জীবনযুদ্ধের কঠিন লড়াইয়ে। ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন মোহনবাগানের প্রাক্তন সভাপতি তথা ‘মোহনবাগান রত্ন’ স্বপনসাধন বসু ওরফে টুটু বসু। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। বর্তমানে তাঁকে ভেন্টিলেশনে রেখে চিকিৎসা চলছে। জানা গিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় আচমকাই শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় টুটু বসুর। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা জানান, তিনি গুরুতর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। প্রথমে ইমারজেন্সিতে চিকিৎসার পর তাঁকে স্থানান্তর করা হয় ক্রিটিক্যাল কেয়ার ওয়ার্ডে। তারপর থেকেই ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে মোহনবাগানের প্রাক্তন সভাপতিকে।
পরিবার সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন টুটু বসু। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর চলাফেরাও প্রায় পুরোপুরি হুইলচেয়ারের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল। কয়েক মাস আগেই মোহনবাগানের এক অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে নিজের শারীরিক সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। টুটু বসুর অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়তেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে ময়দানে। শুধু মোহনবাগান সমর্থকরাই নন, গোটা বাংলা ক্রীড়ামহলই কার্যত উৎকণ্ঠায়। বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফোনে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন। হাসপাতালে পৌঁছে যান সদ্য দায়িত্ব পাওয়া ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। ফেডারেশনের সভাপতি কল্যাণ চৌবেও গিয়ে দেখা করেন চিকিৎসকদের সঙ্গে।
মোহনবাগানের সঙ্গে টুটু বসুর সম্পর্ক শুধু প্রশাসনিক ছিল না, ছিল আবেগের। ক্লাবের দুঃসময়ে বারবার সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন তিনি। আর্থিক সঙ্কট হোক বা সাংগঠনিক টানাপোড়েন—সবক্ষেত্রেই পথপ্রদর্শকের ভূমিকা নিয়েছেন। সঞ্জীব গোয়েঙ্কার সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধা থেকে শুরু করে আধুনিক ফুটবল কাঠামোয় ক্লাবকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান আজও স্মরণ করেন সবুজ-মেরুন সমর্থকেরা।
বিদেশি ফুটবলার সই করানো, আধুনিক ভোটিং পদ্ধতি চালু করা, সবেতেই সময়ের থেকে এগিয়ে ছিলেন টুটু বসু। গত বছর তাঁকে ‘মোহনবাগান রত্ন’ সম্মানে ভূষিত করা হয়। সেই সময় অনেকেই বলেছিলেন, কোনও পদ নয়, টুটু বসুই আসলে মোহনবাগানের আসল রত্ন। এখন সেই মানুষটির দ্রুত সুস্থতা কামনাতেই প্রার্থনায় মগ্ন ময়দান।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *