এগরোল থেকে ‘এম্পায়ার’! সুজিত বসুর উত্থান ঘিরে এখন কোটি টাকার প্রশ্ন!
একসময় রাস্তার ধারে ছিল এগরোলের দোকান। বেশিদূর পড়াশোনা করেননি। নির্বাচনী হলফনামা বলছে, মাধ্যমিক পাশ। এখন বহুতল, বহুতল মানে একেবারে প্রাসাদসম। বিপুল সম্পত্তি। একখানা ২০ লাখের স্করপিও গাড়ি। শ্রীভূমি বললেই সুজিত বসুর নাম আসত। একটা সময় ছিলেন সিপিএমের দাপুটে প্রাক্তন মন্ত্রী সুভাষ চক্রবর্তীর শিষ্য। তৃণমূল আমলে দমকলমন্ত্রী ছিলেন। আবার খেলাধুলোতে বিশাল মেসি মূর্তি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু লোকে তাজ্জব হয়েছে, কীভাবে এত বিপুল টাকার মালিক হয়ে উঠছেন সুজিত বসু। তাঁর রোলের দোকান থেকে জীবন শুরু হলে কী হবে, ছেলে রেস্তোরাঁ খুলেই ব্যবসা ফেঁদেছেন। লেকটাউন শ্রীভূমির ক্যানাল স্ট্রিট এলাকায় দুটি বাড়ি রয়েছে। পাশাপাশি লেকটাউনে একটি বাণিজ্যিক ভবনও আছে, যা শপিং কমপ্লেক্স হিসেবে ব্যবহৃত। সুজিত বসুর স্ত্রী-র নামে রয়েছে একটি ব্যালেনো গাড়ি। আর রয়েছে পাঁচখানা বাড়ি!
সত্যি কি রোলের দোকান থেকে এতকিছু সম্ভব? পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর গ্রেফতারির পর তাঁর এই উত্থান নিয়েই সরগরম রাজ্য রাজনীতি। এরসময় তো সুজিত বসু নিজেই গর্ব করে বলতেন, ‘হ্যাঁ, আমি এগরোল বেচতাম। গর্বের সঙ্গে সেটা স্বীকার করছি’। আপাতত কোর্ট-মেডিক্যাল চেক আপ-হাজত এভাবেই দিন কাটাতে শুরু করলেন লেকটাউনের প্রভাবশালী।
সোমবার প্রায় সাড়ে দশ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর সুজিত বসুকে গ্রেফতার করে ইডি। তারপর থেকেই রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে। ব্যারাকপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিজেপি নেতা তথা নোয়াপাড়ার বিধায়ক অর্জুন সিং সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, ‘একসময় রোলের দোকান চালাতেন সুজিত বসু। সেখান থেকে কীভাবে হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হলেন’? শুধু তাই নয়, ফিরহাদ হাকিমের নাম টেনে এনে আরও বিস্ফোরক অভিযোগ করেন অর্জুন। তাঁর দাবি, ‘আগুন লাগানোর কাজ করতেন ফিরহাদ হাকিম, আর সেই আগুন নেভানোর দায়িত্বে থাকতেন সুজিত বসু। সেখান থেকে যে টাকা উঠত, তা একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অন্যদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পৌঁছত।’ এই মামলায় আরও বহু প্রভাবশালীর নাম সামনে আসবে বলেও দাবি করেছেন তিনি। এমনকি ৬২টি পুরসভার চেয়ারম্যানের জেলে যাওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন বিজেপি নেতা। তাঁর কথায়, ‘এটা শুধু শুরু। ধাপে ধাপে আরও অনেকে ধরা পড়বে’। একই সুর শোনা যায় বাঁকুড়ার বিজেপি বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানার গলাতেও। তাঁর প্রশ্ন, ‘রাস্তার ধারে এগরোলের দোকান করা মানুষ কয়েকশো কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক হলেন কীভাবে’?
এর আগে সুজিত বসু রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ টেনে বলেছিলেন, প্রায় ৪৫ বছর ধরে রাজনীতি করছেন। সাত বার কাউন্সিলর, তিন বার বিধায়ক এবং এক বার লোকসভা নির্বাচনেও লড়েছেন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক জীবনে কখনও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। এদিকে জমানা পাল্টাতেই জেরার পর দক্ষিণ দমদম পুরসভায় ৩২৯ জন অযোগ্য প্রার্থীকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি মৌখিক পরীক্ষায় শূন্য নম্বর পাওয়া প্রার্থীদেরও নিয়োগ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেই তদন্তেই গ্রেফতার করা হয়েছে সুজিত বসুকে।
