আইভরি কোস্টকে বিদায় করে হালান্ডের শেষ হাসি, ব্রাজিলের সামনে নরওয়ে

0



আইভরি কোস্টের রক্ষণভাগ প্রায় পুরো ম্যাচজুড়েই তাঁকে আটকে রেখেছিল। একের পর এক আক্রমণেও গোলের দেখা পাচ্ছিলেন না। কিন্তু বড় ফুটবলারের পরিচয়ই হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সামনে এসে দাঁড়ানো। আর্লিং হালান্ড সেটাই করলেন। ম্যাচের ৮৬ মিনিটে তাঁর পায়ের এক আলতো ছোঁয়াতেই বদলে গেল ম্যাচের ভাগ্য। সেই গোলেই আইভরি কোস্টকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করল নরওয়ে। এবার নকআউটে তাদের প্রতিপক্ষ পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।
ডালাসে ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট ছিল আইভরি কোস্টের। বলের দখল, আক্রমণ—সব দিকেই এগিয়ে ছিল আফ্রিকার দলটি। তবে ফুটবলে সুযোগ কাজে লাগানোর নামই সাফল্য। ৩৯ মিনিটে খেলার ধারার বিপরীতে বাঁ প্রান্ত দিয়ে দুর্দান্ত একক প্রচেষ্টায় বক্সে ঢুকে বাঁকানো শটে নরওয়েকে এগিয়ে দেন আন্তোনিও নুসা।


প্রথমার্ধেই ব্যবধান বাড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন হালান্ড। কিন্তু গোললাইন থেকে ইব্রাহিম সাঙ্গারের অসাধারণ ব্লক আইভরি কোস্টকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখে। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় নরওয়ে।
দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। বদলি হিসেবে নেমেই প্রাণ ফেরান আমাদ দিয়ালো। প্রথমে নিশ্চিত গোল বাঁচানোর পর ৭৪ মিনিটে নিকোলাস পেপের সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ায় বক্সে ঢুকে কোনাকুনি শটে সমতা ফেরান তিনি।


ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই হাজির হন হালান্ড। ৮৬ মিনিটে প্যাট্রিক বার্গের নিচু ক্রসে নিখুঁত ফিনিশে জয়সূচক গোল করেন নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার। চলতি বিশ্বকাপে এটা তাঁর পঞ্চম গোল। একই সঙ্গে নরওয়ের জার্সিতে টানা ১৩ ম্যাচে গোল করার বিরল কীর্তিও গড়লেন তিনি। এই সময়ে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়াল ২৫।
যোগ করা সময়ে দিয়ালোর দুর্দান্ত ফ্রি-কিক থেকে সমতা ফেরানোর সুযোগ এসেছিল আইভরি কোস্টের। কিন্তু গোলরক্ষক অরইয়ান নাইলান্ড অসাধারণ এক সেভে নরওয়ের জয় নিশ্চিত করেন।
এই জয়ে ১৯৯৮ সালের পর আবারও বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় উঠল নরওয়ে। তবে এবার তাদের সামনে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ। আগামী ৫ জুলাই নিউ জার্সিতে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে হালান্ডরা। অন্যদিকে সাহসী লড়াই করেও বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হলো আইভরি কোস্টের।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *