অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন! ০-১ থেকে ৪-১! শেষ মুহূর্তের ঝড়ে কুয়েতের দল আল-আরবিকে উড়িয়ে দিল ইস্টবেঙ্গল

0



বৃষ্টিভেজা যুবভারতীতে বুধবার রাতে যেন ফিরে এল পুরনো ইস্টবেঙ্গল। যে দল শেষ বাঁশি বাজার আগে হার মানে না, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও লড়াই করে ম্যাচের রং বদলে দিতে জানে। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এর গুরুত্বপূর্ণ কোয়ালিফায়ারে সেই চেনা জেদেই কুয়েতের আল-আরবিকে ৪-১ গোলে হারাল আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের দল। এক সময় ০-১ পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত দুরন্ত প্রত্যাবর্তন লাল-হলুদের। এই জয়ে এই প্রথম এসিএল ২-এর মূলপর্বে খেলার সুযোগ পেল লাল-হলুদ ব্রিগেড।
ম্যাচের আগে হাবাসের অন্যতম চিন্তা ছিল দলের একাধিক বিদেশিকে না পাওয়া। তার উপর প্রতিপক্ষ আল-আরবি প্রথম একাদশে পাঁচ বিদেশিকে রেখেই মাঠে নেমেছিল। শুরু থেকেই তাই আক্রমণের ঝাঁঝ দেখায় কুয়েতের দলটি। ইস্টবেঙ্গলও অবশ্য সুযোগ তৈরি করেছিল। রশিদ, জেসিন টিকে, বিপিনরা একাধিকবার গোলের কাছাকাছি গেলেও প্রথমার্ধে কাঙ্ক্ষিত গোল আসেনি। গোললাইন সেভ করে দলকে বড় বিপদ থেকে বাঁচান গোলকিপার প্রভসুখন সিং গিলও। দ্বিতীয়ার্ধেও গোলের জন্য মরিয়া ছিল দুই দল। ৭৫ মিনিটে নিজেদের বক্সে মালেকোকে ফাউল করে বসেন সন্দীপ মাণ্ডি। পেনাল্টি পায় আল-আরবি। স্পট কিক থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ইওয়ালা। ০-১ পিছিয়ে তখন ম্যাচ থেকে ইস্টবেঙ্গলের ফিরে আসা কঠিন বলেই মনে হচ্ছিল।
কিন্তু হাবাসের দল হাল ছাড়েনি। ক্রিস ইকোনোমিডিসকে নামিয়ে আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়ান কোচ। ৮৯ মিনিটে রাশিদের সেটপিস থেকে জয় গুপ্তার হেডে সমতা ফেরে। এরপর যেন বদলে যায় গোটা ম্যাচের ছবি। অতিরিক্ত সময়ে রশিদের গোলে ২-১ এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। শেষ মুহূর্তে ডেভিড ও রোহিত দানুর গোল ব্যবধান বাড়িয়ে দেয় ৪-১-এ। প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার সমর্থকের সামনে এই জয় তাই শুধু পরের পর্বে যাওয়ার লড়াইয়ে এগিয়ে যাওয়া নয়, মানসিক শক্তিরও বড় প্রমাণ। বিদেশি ফুটবলার কম, এক সময় পিছিয়ে পড়া—কিছুই থামাতে পারেনি লাল-হলুদকে। বৃষ্টিভেজা যুবভারতীতে আরও একবার প্রমাণ হল, শেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত ইস্টবেঙ্গলকে হারানো সহজ নয়।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed