এমবাপ্পের জোড়া সাফল্যে সেমিতে ফ্রান্স, মরক্কোর বিদায়ে এশিয়া-আফ্রিকার শেষ স্বপ্ন

0




বোস্টনের রাতটা শেষ পর্যন্ত হয়ে রইল কিলিয়ান এমবাপ্পের। শুরুতে পেনাল্টি মিস, পরে দুরন্ত প্রত্যাবর্তন। একটি গোল, একটি অ্যাসিস্ট, গোল্ডেন বুটের দৌড়ে লিওনেল মেসিকে টপকে শীর্ষে ওঠা, আর শেষে সামান্য চোট নিয়ে মাঠ ছাড়ার উদ্বেগ, সব মিলিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালেও নিজস্ব আলোয় ঝলমলে ফ্রান্স অধিনায়কই। তাঁর অনবদ্য পারফরম্যান্সে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে সহজভাবেই টানা তৃতীয় বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠেছে ফ্রান্স। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে এশিয়া ও আফ্রিকার শেষ প্রতিনিধিও।
প্রথমার্ধে এমবাপ্পের দিনটা ভালো যাচ্ছিল না। পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারেননি, একাধিক আক্রমণও ব্যর্থ হয়েছে মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনুর দুর্দান্ত নৈপুণ্যে। তবে বিরতির পর বদলে যায় দৃশ্যপট। ৬০ মিনিটে দেজিরে দুয়ের পাস থেকে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন এমবাপ্পে। মাত্র ৬ মিনিট পর তাঁর নিখুঁত পাস থেকেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন উসমান দেম্বেলে। সেই দুই গোলই নিশ্চিত করে দেয় ফরাসিদের সহজ জয়।


এই গোলের সুবাদে চলতি বিশ্বকাপে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮-এ। সমান ৮ গোল রয়েছে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসিরও। তবে এমবাপ্পের অ্যাসিস্ট ৩টি, যেখানে মেসির মাত্র ১টি। সেই কারণেই গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে আপাতত শীর্ষস্থান দখল করেছেন ফরাসি অধিনায়ক। বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোল এখন ২০, আর এবারের টুর্নামেন্টে ৮ গোল ও ৩ অ্যাসিস্ট মিলিয়ে সরাসরি অবদান ১১ গোলে।
তবে ম্যাচের ৭৭ মিনিটে হঠাৎ করেই গোড়ালিতে আঘাত পেয়ে মাঠে বসে পড়েন এমবাপ্পে। সঙ্গে সঙ্গে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে ফরাসি শিবিরে। পরে তাঁকে তুলে নেওয়া হয়। তবে ম্যাচ শেষে স্বস্তির খবর দেন নিজেই। এমবাপ্পে জানান, চোট গুরুতর নয়, গোড়ালিতে সামান্য আঘাত লেগেছিল। সেমিফাইনাল নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
ম্যাচ শেষে কোচ দিদিয়ের দেশঁও অধিনায়কের প্রশংসায় ভাসান। তাঁর কথায়, এমবাপ্পে শুধু গোলদাতা নন, তিনি দলের প্রকৃত নেতা। পেনাল্টি মিস করার পরও আত্মবিশ্বাস হারাননি, বরং ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিয়েছেন নিজের পারফরম্যান্সে। দেশঁ বলেন, অনেকেই এমবাপ্পেকে স্বার্থপর বলেন, কিন্তু বাস্তবে তিনি দলের জন্যই খেলেন এবং নেতৃত্ব দেন সামনে থেকে।


মরক্কোর বিদায়ের সঙ্গে শেষ হয়ে গেল এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশের স্বপ্নও। কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে ওঠা মরক্কো এবারও শেষ আট পর্যন্ত দুর্দান্ত লড়াই করেছে। কিন্তু নকআউটের মঞ্চে ফ্রান্সের অভিজ্ঞতা, কৌশল এবং তারকাসমৃদ্ধ স্কোয়াডের সামনে শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেনি। ফলে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আবারও মুখোমুখি শুধু ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার শক্তিশালীরাই।
এদিকে দেশঁর ফ্রান্সও ধরে রাখল নিজেদের অসাধারণ ধারাবাহিকতা। ২০১৮ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, ২০২২ সালে রানার্স-আপ এবং এবারও সেমিফাইনাল। আর সেই সাফল্যের কেন্দ্রে এখন কিলিয়ান এমবাপ্পে, যিনি গোল করছেন, গোল করাচ্ছেন, মেসিকে টপকে গোল্ডেন বুটের শীর্ষে উঠছেন, আর ফ্রান্সকে আরও একটি বিশ্বকাপ ট্রফির স্বপ্ন দেখাচ্ছেন।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *