ইতিহাসের আগুনে নতুন লড়াই! আটলান্টায় মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড, শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ের অপেক্ষায় বিশ্ব

0



বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড মানেই আলাদা আবেগ, আলাদা উত্তেজনা। দুই দলের দ্বৈরথ শুধু ৯০ মিনিটের ফুটবল নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ইতিহাস, বিতর্ক, প্রতিশোধ আর অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত। এবার সেই দুই ফুটবল শক্তিধর মুখোমুখি হচ্ছে সেমিফাইনালে। যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় এই মহারণের পুরস্কার একটাই—বিশ্বকাপের ফাইনালের টিকিট।
একদিকে লিওনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপকে স্মরণীয় করে রাখার লড়াই। অন্যদিকে প্রায় ছয় দশকের বিশ্বকাপ খরা কাটিয়ে আবারও বিশ্বসেরার মুকুট ছোঁয়ার স্বপ্নে বিভোর ইংল্যান্ড। তাই ম্যাচের গুরুত্ব যে কতটা, তা আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না।  বিশ্বকাপে দুই দলের লড়াইয়ের ইতিহাসও রোমাঞ্চে ভরা। ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডের বিতর্কিত জয়, ১৯৮৬ সালে দিয়েগো মারাদোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’, ১৯৯৮ সালে ডেভিড বেকহ্যামের লাল কার্ডের পর ইংল্যান্ডের বিদায় এবং ২০০২ সালে বেকহ্যামের পেনাল্টিতে ব্রিটিশদের প্রতিশোধ, সব মিলিয়ে এই দ্বৈরথ ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আকর্ষণীয় অধ্যায়। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সেমিফাইনালে ওঠার পথ মোটেই সহজ ছিল না। মিশরের বিপক্ষে নাটকীয় প্রত্যাবর্তন, এরপর কেপ ভার্দে ও সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সময়ের লড়াই পেরিয়ে শেষ চারে পৌঁছেছে লিওনেল স্কালোনির দল। অন্যদিকে টমাস টুখেলের ইংল্যান্ড পুরো টুর্নামেন্টেই খেলেছে গোছানো ও শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল। জুড বেলিংহ্যাম, হ্যারি কেইন, বুকায়ো সাকা, ডেকলান রাইসদের নিয়ে আক্রমণ ও মাঝমাঠে দারুণ ভারসাম্য রয়েছে তাদের। বিশেষ করে সেট-পিসে ইংল্যান্ড এই বিশ্বকাপে অন্যতম শক্তিশালী দল।
এই ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ মেসি বনাম হ্যারি কেইনের লড়াই। মেসি এখনো এক মুহূর্তের জাদুতেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। অন্যদিকে কেইন বড় ম্যাচের নির্ভরযোগ্য গোলদাতা। দুই অধিনায়কের নেতৃত্বই তাদের দলের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা নিতে পারে। তবে ম্যাচের আসল যুদ্ধ হতে পারে মাঝমাঠে। এনজো ফার্নান্দেজ, রদ্রিগো ডি পল, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারদের সঙ্গে ডেকলান রাইস ও জুড বেলিংহ্যামের লড়াইই ঠিক করে দিতে পারে ম্যাচের গতি। যে দল মাঝমাঠে আধিপত্য বিস্তার করবে, তারাই এগিয়ে থাকবে ফাইনালের দৌড়ে। আর্জেন্টিনার গোলবারে থাকবেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। রক্ষণে নাহুয়েল মোলিনা, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও নিকোলাস ট্যাগলিয়াফিকো। মাঝমাঠে ডি পল, পারেদেস, এনজো ও ম্যাক অ্যালিস্টার। সামনে মেসির সঙ্গী হিসেবে জুলিয়ান আলভারেজ এগিয়ে থাকলেও লাউতারো মার্টিনেজও দলে ঢুকতে পারেন। ইংল্যান্ডের গোলবারে জর্ডন পিকফোর্ড। রক্ষণে জন স্টোনস, মার্ক গেহি, এজরি কনসা ও নিকো ও’রাইলি। মাঝমাঠে ডেকলান রাইস, এলিয়ট অ্যান্ডারসন, সামনে বেলিংহাম, সাকা ও অ্যান্থনি গর্ডন। আক্রমণের প্রধান ভরসা অধিনায়ক হ্যারি কেইন।
মেসির শেষ বিশ্বকাপ, ইংল্যান্ডের দীর্ঘ অপেক্ষা, দুই ফুটবল শক্তির ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ফাইনালের হাতছানি, সব মিলিয়ে আটলান্টায় অপেক্ষা করছে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় লড়াইগুলোর একটি। হয়তো একটা মুহূর্তের জাদু, একটি ভুল কিংবা একটি গোলই ঠিক করে দেবে, বিশ্বকাপের ফাইনালে কারা জায়গা করে নেবে।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *