অতিরিক্ত সময়ে বাজিমাত, রেকর্ড গড়ে আবারও সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা, এবার সামনে ইংল্যান্ড

0



ফুটবল কখনও শুধু গোলের হিসাব নয়, কখনও কখনও তা বিশ্বাসেরও গল্প। যে দলটা একদিন বিশ্বকাপের শুরুতেই সৌদি আরবের কাছে হেরে সমালোচনার ঝড় তুলেছিল, সেই আর্জেন্টিনাই আজ আবার প্রমাণ করল-চ্যাম্পিয়নরা হার মানে না, তারা ফিরে আসে আরও শক্তিশালী হয়ে। কানসাস সিটিতে যখন শেষ বাঁশি বাজল, তখন শুধু ৩-১ গোলের জয় নয়, আরও একবার ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখে রাখল লিওনেল স্কালোনির দল।
সুইজারল্যান্ড শেষ পর্যন্ত মাথা নত করল অতিরিক্ত সময়ে। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ১-১ সমতায় আটকে যাওয়ার পরও এক মুহূর্তের জন্য বিশ্বাস হারায়নি আলবিসেলেস্তেরা। ১১২ মিনিটে জুলিয়ান আলভারেজ আর যোগ করা সময়ে লাউতারো মার্টিনেজের গোল যেন বলে দিল, এই দলের অভিধানে হাল ছেড়ে দেওয়ার কোনো শব্দ নেই। লড়াই যত কঠিন হয়, আর্জেন্টিনা যেন ততটাই ভয়ংকর হয়ে ওঠে।


গোল করতে পারেননি লিওনেল মেসি। অথচ ম্যাচের সবচেয়ে বড় গল্পের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন তিনিই। মাত্র ১০ মিনিটে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের গোলে অ্যাসিস্ট করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে একমাত্র ফুটবলার হিসেবে ১০টি অ্যাসিস্টের অনন্য কীর্তি গড়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। গোলের খাতা ফাঁকা থাকলেও পুরো ম্যাচজুড়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণকে ব্যস্ত রেখেছেন তিনি, সতীর্থদের জন্য তৈরি করেছেন জায়গা। আবারও প্রমাণ করলেন, মেসির প্রভাব শুধু গোলেই মাপা যায় না।
এই জয় শুধু সেমিফাইনালের টিকিট নয়, একের পর এক রেকর্ডও এনে দিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। বিশ্বকাপে টানা ১২ ম্যাচে দুই বা তার বেশি গোল করার নতুন ইতিহাস গড়েছে আর্জেন্টিনা, ভেঙে দিয়েছে উরুগুয়ের দীর্ঘদিনের রেকর্ড। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ১৩টি অতিরিক্ত সময়ের ম্যাচ খেলার রেকর্ডও এখন আলবিসেলেস্তেদের দখলে।
সৌদি আরবের বিপক্ষে সেই অপ্রত্যাশিত হারের পর যেন নতুন করে জন্ম নিয়েছে স্কালোনির দল। এরপর টানা ১২ ম্যাচে জয়, ৩১ গোল, আর একের পর এক প্রতিপক্ষকে হারিয়ে আবারও বিশ্বকাপের শেষ চারে জায়গা। আরও একটি পরিসংখ্যান আর্জেন্টিনা সমর্থকদের আশাবাদী করতেই পারে—এর আগে বিশ্বকাপে পাঁচবার সেমিফাইনাল খেলেছে আর্জেন্টিনা, পাঁচবারই উঠেছে ফাইনালে।
তবে জয় পেয়েও বাস্তববাদী স্কালোনি। ম্যাচ শেষে তিনি স্বীকার করেছেন, ভাগ্যও এদিন তাদের পাশে ছিল। তাঁর ভাষায়, এই দল ইতিহাসে জায়গা করে নেওয়ার মতো অর্জন করেছে, কিন্তু এখনও উন্নতির অনেক জায়গা রয়েছে। কারণ সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন পরীক্ষা। অন্যদিকে মেসিও জানিয়ে দিয়েছেন, এই জয় সহজ ছিল না। সুইজারল্যান্ড যে কঠিন প্রতিপক্ষ হবে, সেটা তারা আগেই জানতেন। তাই এই বাধা পেরিয়ে শেষ চারে ওঠার আনন্দও অন্যরকম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অধিনায়ক লিখেছেন, “আবারও আমাদের জিততে কষ্ট করতে হয়েছে। কিন্তু এই দল কখনো বিশ্বাস হারায় না। আমরা আবার বিশ্বের সেরা চার দলের মধ্যে।”
এখন আর্জেন্টিনার চোখ আটলান্টায়। সামনে ইংল্যান্ড। আর মাত্র একটি জয় দূরে আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনাল। কোটি কোটি আর্জেন্টাইন সমর্থকের বিশ্বাসও তাই একটাই-এই দলের গল্প এখনও শেষ হয়নি। কারণ নীল-সাদা জার্সি যতক্ষণ মাঠে থাকে, ততক্ষণ অসম্ভব বলে কিছু থাকে না।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *