‘অট্টালিকা বা কুঁড়েঘর,থাকার যোগ্যতা একটাই জীবনে শান্তি আছে কি?’, রচনাকে পাল্টা রুদ্রনীলের
রূপোলি পর্দা থেকে রাজনীতির ময়দান,দুই ক্ষেত্রেই পরিচিত মুখ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়।তবে রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে বিতর্ক যে অভিনেত্রীর পিছু ছাড়ছে না তা বললেও ভুল হবে না।সম্প্রতি,’দিদি নম্বর ১’ থেকে ২ দিনের নোটিসে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল অভিনেত্রীকে।বর্তমানে স্বস্তিতে মুখোপাধ্যায়কে সেই অনুষ্ঠানের সঞ্চালিকা হিসেবে দেখা যায়।সেই বিষয় নিয়েও সরব হয়েছিলেন অভিনেত্রী।অন্যদিকে, বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের হারের পর থেকেই একের পর মন্তব্য করেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়।সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন,আরবানার মতো বিলাসবহুল আবাসনে থাকতে গেলে যোগ্যতা লাগে এবং সেই যোগ্যতা তিনি নিজের পরিশ্রমে অর্জন করেছেন। পাশাপাশি তিনি নিজেকে প্রথম বাঙালি মহিলা হিসেবে অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে কাজ করার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে বিতর্ক।এই প্রসঙ্গে এ বার প্রতিক্রিয়া জানালেন শিবপুরের বিজেপি বিধায়ক তথা অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ।
রচনার অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে প্রথম বাঙালি হিসেবে কাজ করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন,”আমার মনে হয় আবেগের বশে কিছু একটা বলতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে গিয়েছে কথাবার্তার।এটা সত্যি যে তিনি বহু সিনেমা করেছেন।বহু ভাষায় সিনেমা করেছেন এবং অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে কাজ করেছেন।কিন্তু শুধু তিনি নয়।তাহলে কি বলতে হবে যে মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়,জয়া ভাদুড়ি থেকে শুরু করে আরও যাঁরা রয়েছেন শর্মিলা ঠাকুর তাঁরা কি বাঙালি নন?অনেক আগে অনেকেই করে গিয়েছেন।আমাদের মাটিরই মহিলা তাঁরা।রাখি গুলজার তিনি তো এই মাটিরই মেয়ে।”রুদ্রনীল ঘোষের মতে,বাংলা শিল্পীদের প্রতিভাকে বলিউড বরাবরই সম্মান করেছে।রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ও নিজের যোগ্যতা ও অভিনয় দক্ষতার জোরেই বিভিন্ন ভাষার ছবিতে কাজের সুযোগ পেয়েছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রচনার ‘আরবানায় থাকার যোগ্যতা’ মন্তব্য নিয়েও নিজের মত প্রকাশ করেন রুদ্রনীল।তিনি বলেন,”আরবানায় থাকতে গেলে অনেক টাকা উপার্জনের যোগ্যতা লাগে।সেই টাকা ভালো কাজ করেও আসতে পারে,আবার অন্য ব্যবসা করেও আসতে পারে।কিন্তু কে কোথায় বাড়ি করলেন,অট্টালিকায় থাকলেন না কুঁড়েঘরে,তার চেয়ে অনেক বড় বিষয় হল জীবনে শান্তি আছে কি?সেটাই সবচেয়ে বড় যোগ্যতা।”সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনা প্রসঙ্গেও রুদ্রনীলের মন্তব্য,”সোশ্যাল মিডিয়া সমাজেরই একটি প্রতিচ্ছবি।সেখানে তালা-চাবি দেওয়া যায় না।কারও কোনও বক্তব্য মানুষের অপছন্দ হলে তাঁরা তা নিয়েই লিখবেন,বলবেন।তবে সমালোচনা যুক্তিনিষ্ঠ হলে সেটাই ভালো।”
উল্লেখ্য,নব্বইয়ের দশক থেকেই বাংলা ও ওড়িয়া,তামিল,তেলেগু সহ বহু ভাষায় ছবি করেন অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়।দীর্ঘ অভিনয় জীবনে অসংখ্য সফল ছবিতে অভিনয়ের পাশাপাশি ছোট পর্দায় ‘দিদি নম্বর ১’-এর সঞ্চালিকা হিসেবেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি।২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়ে হুগলি কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হন।সেই নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রথমবারের মতো সাংসদ নির্বাচিত হন রচনা।তবে রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূলের নামে উল্টো সুরেই মন্তব্য করতে দেখা যায় অভিনেত্রীকে।
