ফকল্যান্ড ব্যানার ঘিরে বিতর্কে আর্জেন্টিনা, ফিফার শাস্তির মুখে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা?
ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। তবে জয়ের উচ্ছ্বাসের মধ্যেই নতুন বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে লিওনেল স্কালোনির দল। ম্যাচ শেষে কয়েকজন আর্জেন্টাইন ফুটবলারের হাতে দেখা যায় ‘দ্য ফকল্যান্ডস আর আর্জেন্টাইন’ লেখা একটি ব্যানার। মাঠে রাজনৈতিক বার্তাসংবলিত ওই ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ফিফার শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী, এমন ঘটনার জন্য আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
ফিফার ডিসিপ্লিনারি কোডে স্পষ্ট বলা রয়েছে, মাঠে বা স্টেডিয়ামের ভিতরে রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা উস্কানিমূলক বার্তা প্রদর্শন করা যাবে না। খেলোয়াড়, কর্মকর্তা বা সমর্থকদের মাধ্যমে এমন বার্তা সামনে এলে তার দায় সংশ্লিষ্ট জাতীয় ফুটবল সংস্থাকেই নিতে হয়। নিয়ম ভঙ্গের ক্ষেত্রে সতর্কবার্তা, আর্থিক জরিমানা, পুরস্কারের অর্থ কেটে নেওয়া-সহ একাধিক শাস্তির বিধান রয়েছে। পুনরাবৃত্তি হলে শাস্তির মাত্রাও বাড়তে পারে।

জানা গিয়েছে, সেমিফাইনাল শেষে গ্যালারি থেকে ছুড়ে দেওয়া ব্যানার হাতে নিয়ে সেলিব্রেশনে অংশ নেন কয়েকজন আর্জেন্টাইন ফুটবলার। সেই ছবি এবং ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। শুধু ব্যানারই নয়, ইংল্যান্ডের জাতীয় সঙ্গীত চলাকালীন কিছু আর্জেন্টাইন সমর্থকের আচরণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টা নিয়ে এরমধ্যেই ফিফার কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি। ব্রিটেনের শিল্প ও বাণিজ্য সচিব পিটার কাইলও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে রাজনীতিকে কোনওভাবেই জায়গা দেওয়া উচিত নয়।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের বিরোধ কয়েক দশকের পুরনো। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের পর দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাজ্যের হাতেই রয়েছে, যদিও আর্জেন্টিনা এখনও ওই দ্বীপপুঞ্জের ওপর নিজেদের দাবি জানিয়ে আসছে। সেই সংবেদনশীল ইস্যুকেই ফুটবল মাঠে তুলে ধরায় ফের বিতর্কের মুখে পড়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে এই বিতর্কের মাঝেই এখন আর্জেন্টিনার সামনে বিশ্বকাপের ফাইনাল। ট্রফি ধরে রাখার লক্ষ্যে তারা মুখোমুখি হবে স্পেনের। তার আগে ফিফা এই ঘটনায় কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই এখন নজর ফুটবল বিশ্বের।
