স্পেনের বিশ্বজয়ে রেকর্ডের বন্যা, ইতিহাসের পাতায় ইয়ামাল-মেসির নতুন অধ্যায়
স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের গল্প শুধু একটা ট্রফি জয়ের নয়, এটা রেকর্ড, ইতিহাস আর নতুন নতুন কীর্তি গড়ার গল্পও। ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ১৬ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো ফিফা বিশ্বকাপ জিতেছে লা রোজা। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই দুর্দান্ত আধিপত্য দেখানো স্পেন একাধিক ঐতিহাসিক নজির গড়েছে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত কৃতিত্বেও আলো ছড়িয়েছেন লামিনে ইয়ামাল, রদ্রি, লুইস দে লা ফুয়েন্তে এবং লিওনেল মেসি। সংখ্যার ভাষায় দেখে নেওয়া যাক ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনাল ও টুর্নামেন্টের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান।
স্পেন ও ইয়ামালের ইতিহাস
• ২ — স্পেনের দ্বিতীয় ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি। ২০১০ সালের পর আবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে একাধিক বিশ্বকাপজয়ী সপ্তম দেশ হলো স্পেন।
• ৩ — ইউরো চ্যাম্পিয়ন থাকার পর বিশ্বকাপ জয়ের তৃতীয় নজির। এর আগে ১৯৭২-৭৪ সালে পশ্চিম জার্মানি এবং ২০০৮-১০ সালে স্পেন এই কীর্তি গড়েছিল।
• ৩ — ফেরান তোরেসের ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ গোল। ১০৬ মিনিটে করা গোলটি বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বশেষ জয়সূচক গোল এবং বদলি হিসেবে ফাইনালে জয়সূচক গোল করা দ্বিতীয় ফুটবলার তিনি।
• ৭ — পুরো টুর্নামেন্টে সাতটি ক্লিনশিট রেখে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে স্পেন।
• ১ — পুরো বিশ্বকাপে মাত্র একটি গোল হজম করেছে স্পেন। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন কোনো দলের জন্য এটাই সর্বনিম্ন গোল হজমের নজির।
• ৩৮ — সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৩৮ ম্যাচ অপরাজিত স্পেন। ভেঙে দিয়েছে ইতালির দীর্ঘতম অপরাজিত থাকার রেকর্ড।
• ৬/৭ — প্রধান টুর্নামেন্টের সাতটি ফাইনালের মধ্যে ছয়টিতেই জয় স্পেনের।
• ৬৫ বছর ২৯ দিন — বিশ্বকাপজয়ী ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক কোচ হলেন লুইস দে লা ফুয়েন্তে।
• ১৫ — বিশ্বকাপ ও ইউরো মিলিয়ে প্রধান টুর্নামেন্টে টানা ১৫ ম্যাচ অপরাজিত দে লা ফুয়েন্তে, যা নতুন রেকর্ড।
• ১৪/১৫ — বিশ্বকাপ ও ইউরো মিলিয়ে শেষ ১৫ ম্যাচের মধ্যে ১৪টিতেই জয় স্পেনের।
• ১৯ বছর ৬ দিন — লামিনে ইয়ামাল যৌথভাবে বিশ্বকাপজয়ী চতুর্থ সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার। একই সঙ্গে ইউরো ও বিশ্বকাপ জেতা ইতিহাসের প্রথম টিনএজারও তিনি।
• ১০ — ফাবিয়ান রুইজ ইতিহাসের দশম ফুটবলার হিসেবে একই মরসুমে বিশ্বকাপ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ—দুই ফাইনাল জিতে নিলেন।
• ১, ১, ২ — রদ্রি প্রথম স্প্যানিশ ফুটবলার হিসেবে গোল্ডেন বল, পাউ কুবারসি প্রথম স্প্যানিশ হিসেবে সেরা তরুণের পুরস্কার এবং উনাই সিমন দ্বিতীয় স্প্যানিশ হিসেবে গোল্ডেন গ্লাভ জিতলেন।
• ৩২ — ১৯৯৪ সালের রোমারিওর পর প্রথম গোল্ডেন বলজয়ী ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপও জিতলেন রদ্রি।
আর্জেন্টিনা ও মেসির রেকর্ড
• ৪ — শেষ চারবার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ফাইনালে ওঠা চার দলই রানার্স-আপ হয়েছে। সেই তালিকায় এবার আর্জেন্টিনা।
• ৩/৪ — আর্জেন্টিনা শেষ চার বিশ্বকাপ ফাইনালের তিনটিতেই রানার্স-আপ।
• ১৩ — বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার টানা ১৩ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড ভেঙে গেল।
• ০ — গত ৬০ বছরে বিশ্বকাপ ফাইনালে লক্ষ্যে একটি শটও রাখতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ১৯৯০, ২০১৪ ও ২০২৬—তিনবার এমন ঘটনা ঘটল।
• ১ — লিওনেল মেসি ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার, যিনি তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে শুরুর একাদশে খেলেছেন এবং তিনবারই অধিনায়ক ছিলেন।
• ৩৯ বছর ২৫ দিন — বিশ্বকাপ ফাইনালে শুরুর একাদশে খেলা সবচেয়ে বয়স্ক আউটফিল্ড ফুটবলার এখন মেসি।
• ২০ বছর ১৯ দিন — বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে দুই দলের শুরুর একাদশে সবচেয়ে বেশি বয়সের ব্যবধান—মেসি ও ইয়ামালের মধ্যে।
• ৫৪ — ফাইনালে মেসির মাত্র ৫৪ বার বল স্পর্শ, যা তাঁর বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের শুরুর একাদশে খেলা ম্যাচগুলোর মধ্যে পঞ্চম সর্বনিম্ন।
• ১১ — এমিলিয়ানো মার্টিনেজ ১১টি সেভ করে গত ৬০ বছরের বিশ্বকাপ ফাইনালের সর্বোচ্চ সেভের রেকর্ড গড়েছেন।
• ৬ — এনজো ফার্নান্দেজ বিশ্বকাপ ফাইনালে লাল কার্ড দেখা ষষ্ঠ ফুটবলার।
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য তথ্য
• ১ — কিলিয়ান এমবাপে ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপে (২০২২ ও ২০২৬) গোল্ডেন বুট জিতলেন।
• ২৭ মিনিট ২৪ সেকেন্ড — বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে অন্যতম দীর্ঘ হাফটাইম বিরতি। বিরতিতে অনুষ্ঠিত হয় শাকিরার জমকালো সঙ্গীত পরিবেশনা।
