বয়স ১৯, জার্সি ১৯, বিশ্বকাপ জয়ের দিনও ১৯ জুলাই! রেকর্ড, কাকতালীয় আর মেসির আলিঙ্গনে চর্চায় ইয়ামাল
ফুটবল মাঝে মাঝেই এমন কিছু গল্প উপহার দেয়, যা বাস্তবের চেয়ে রূপকথাকেই বেশি মনে হয়। ২০২৬ বিশ্বকাপ জয়ের পর লামিনে ইয়ামালের গল্পও তেমনই এক বিস্ময়। বয়স মাত্র ১৯ বছর। স্পেনের জার্সিতে তাঁর নম্বরও ১৯। আর যে দিনে তিনি জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য-বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে তুললেন, সেই দিনটিও ১৯ জুলাই। তিনটি ‘১৯’ যেন অদৃশ্য এক সুতোয় বেঁধে দিল স্পেনের নতুন তারকার বিশ্বজয়ের মুহূর্তকে। বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে থেকেই সমাজ মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছিল ‘১৯’-এর এই অদ্ভুত সমীকরণ। কিন্তু ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে স্পেন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর তা যেন আরও বেশি করে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। অনেকের মতে, ফুটবলে এমন কাকতালীয় ঘটনা ইতিহাসের অংশ হয়ে যায়। ইয়ামালের ক্ষেত্রেও যেন তাই হল।
তবে সংখ্যার খেলাই তাঁর একমাত্র পরিচয় নয়। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই বিশ্ব ফুটবলে এমন এক নজির গড়েছেন, যা এর আগে কেউ পারেননি। ইতিহাসের প্রথম টিনএজার হিসেবে একই সঙ্গে ইউরো এবং ফিফা বিশ্বকাপ-দুটি বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ট্রফি জিতেছেন তিনি। ২০২৪ সালে ইউরো জয়ের সময়ও তিনি ছিলেন কিশোর। দুই বছর পর বিশ্বকাপ ফাইনালেও কিশোর বয়সেই মাঠে নেমে আরও এক ইতিহাস লিখলেন বার্সেলোনার এই বিস্ময়বালক।
২০২৪ ইউরোতে দুরন্ত পারফরম্যান্সের পর অনেকেই ভেবেছিলেন, এত অল্প বয়সে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা কঠিন হবে। কিন্তু ইয়ামাল সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছেন। পুরো বিশ্বকাপজুড়ে তাঁর গতি, ড্রিবলিং, আত্মবিশ্বাস এবং ম্যাচের বড় মুহূর্তে দায়িত্ব নেওয়ার মানসিকতা স্পেনকে শিরোপার পথে এগিয়ে দিয়েছে। নতুন প্রজন্মের মুখ হয়ে উঠেছেন তিনি। ইয়ামালকে ঘিরে আরেকটি গল্পও এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনায়। ২০০৭ সালে ইউনিসেফের একটি ফটোশুটে শিশু ইয়ামালকে কোলে নিয়ে স্নান করাচ্ছিলেন তরুণ লিওনেল মেসি। সেই ছবিটি বহু বছর পর আবার ভাইরাল হয়। আশ্চর্যের বিষয়, ছবিটি তোলার সময় মেসির বয়স ছিল ২০ বছর। এখন তাঁর বয়স ৩৯। অর্থাৎ দুই বয়সের ব্যবধানও ১৯ বছর। শুধু তাই নয়, সেই সময় বার্সেলোনায় মেসির জার্সি নম্বরও ছিল ১৯। ছবিটি তোলা হয়েছিল ২০০৭ সালে, আর বিশ্বকাপ জয়ের বছর ২০২৬-দুই সময়ের ব্যবধানও ১৯ বছর।

ফাইনাল শেষে যেন সেই ছবিরই বাস্তব রূপ দেখা গেল। একদিকে পরাজয়ের যন্ত্রণায় ভেঙে পড়া লিওনেল মেসি, অন্যদিকে প্রথম বিশ্বকাপ খেলেই ট্রফি জেতা ইয়ামাল। ট্রফি উদযাপনের মাঝেও নিজের শৈশবের নায়ককে ভুলে যাননি স্পেনের তরুণ তারকা। তিনি এগিয়ে গিয়ে আলিঙ্গন করেন হতাশ মেসিকে। সেই মুহূর্তে যেন দুই প্রজন্ম, দুই যুগ আর দুটি ইতিহাস এক ফ্রেমে ধরা পড়ে।
খেলার ধরনে নেইমারকে অনুসরণ করলেও ইয়ামাল কখনও লুকিয়ে রাখেননি মেসির প্রতি নিজের শ্রদ্ধা। বরাবরই আর্জেন্টাইন মহাতারকাকে সর্বকালের সেরা ফুটবলার বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। অন্যদিকে ফাইনালের আগেই মেসিও বলেছিলেন, ইয়ামাল ইতিমধ্যেই বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার। একসময় যে শিশুকে কোলে তুলে ছবি তুলেছিলেন মেসি, আজ সেই শিশুই বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের নাম লিখিয়ে ফেলেছে ইতিহাসের পাতায়। বয়স, জার্সি আর বিশ্বজয়ের দিন-সবখানেই ‘১৯’-এর আশ্চর্য উপস্থিতি। কিন্তু সংখ্যার এই কাকতালীয় মিলের বাইরেও লামিনে ইয়ামাল প্রমাণ করে দিয়েছেন, বিশ্ব ফুটবলের নতুন অধ্যায়ের নাম এখন তিনিই।

