তেরঙার দিনেই সবুজ-মেরুনের আবেগ!  মোহনবাগানীদেরও কেন এত বিশেষ ১৫ আগস্ট?

0


১৫ আগস্ট মানেই তেরঙা, স্বাধীনতার গর্ব আর দেশের প্রতি অগাধ ভালবাসা। কিন্তু কলকাতার ময়দানে এই দিনটার আবেগ যেন একটু অন্যরকম। কারণ, স্বাধীনতা দিবসের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে মোহনবাগানের জন্মদিন। তাই তেরঙা উঠলে, জাতীয় পতাকার পাশে সবুজ-মেরুন পতাকা দেখলেও অনেকের বুকের ভিতর একইসঙ্গে জেগে ওঠে দুই আবেগ। একদিকে দেশ, অন্যদিকে প্রিয় ক্লাব- দুটি ভালবাসার ঠিকানা যেন এসে মিশে যায় একই দিনে।
১৮৮৯ সালের ১৫ আগস্ট জন্ম হয়েছিল ‘মোহনবাগান স্পোর্টিং ক্লাব’-এর। উত্তর কলকাতার মিত্র, বসু ও সেন পরিবারের উদ্যোগে এবং ভূপেন্দ্রনাথ বসুর সভাপতিত্বে যে পথচলা শুরু, ১৮৯১ সালে তার নাম হয় ‘মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাব’। তখন অবশ্য কেউ ভাবেননি, এই ক্লাব একদিন শুধু ফুটবল খেলবে না, হয়ে উঠবে বাঙালির আবেগের অন্যতম বড় ঠিকানা। মোহনবাগানের ইতিহাসের সঙ্গে স্বাধীনতার আবেগ জড়িয়ে যাওয়ার সবচেয়ে বড় অধ্যায় ১৯১১। ব্রিটিশ শাসিত ভারতে ফুটবল তখন মূলত সাহেবদের দখলে। সেই সময় ভারতীয় ফুটবলারদের নিয়ে তৈরি মোহনবাগান আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে হারিয়ে দেয় ইস্ট ইয়র্কশায়ার রেজিমেন্টকে। খালি পায়ে খেলা সেই জয় ছিল একটি ট্রফি জয়ের চেয়েও অনেক বেশি কিছু। সাহেবদের বিরুদ্ধে ভারতীয়দের আত্মমর্যাদার জয় হিসেবে সেই মুহূর্ত জায়গা করে নেয় মানুষের মনে। তার ৩৬ বছর পর ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীন হল। আর একই তারিখে প্রতি বছর ফিরে আসে মোহনবাগানের জন্মদিন। ইতিহাসের এই আশ্চর্য সমাপতনই যেন দিনটিকে আরও বিশেষ করে তুলেছে। স্বাধীন দেশের তেরঙা যখন গর্বের সঙ্গে উড়ে, তখন পাশাপাশি সবুজ-মেরুন পতাকাতেও জেগে ওঠে শতাব্দী পেরিয়ে আসা এক আবেগ।
আজও ১৫ আগস্ট এই দিনে ক্লাব সাজে আলোয়, সবুজ-মেরুনের ঘরে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে যে আবেগ বয়ে চলেছে, সেই আবেগ নতুন করে ফিরে আসে ১৫ আগস্টে। দাদুর মুখে শোনা ১৯১১-এর গল্প, বাবার হাত ধরে মাঠে যাওয়ার স্মৃতি কিংবা নিজের সন্তানের হাতে সবুজ-মেরুন পতাকা তুলে দেওয়ার মুহূর্ত- সবই যেন একই সুতোয় বাঁধা। এই কারণেই তেরঙা উঠলে মোহনবাগানীদের বুকের ভিতর সবুজ-মেরুনও বাজে। কারণ তাঁদের কাছে ক্লাবের ইতিহাস শুধু ফুটবলের ইতিহাস নয়। সেখানে মিশে আছে বাঙালির আত্মমর্যাদা, লড়াই, স্মৃতি আর ভালবাসা।
১৫ আগস্ট তাই একইসঙ্গে দেশের স্বাধীনতার উৎসব এবং সবুজ-মেরুন আবেগের দিন। একটি পতাকা স্বাধীনতার কথা বলে, অন্যটি মনে করিয়ে দেয় সেই সময়ের কথা—যখন ফুটবলের মাঠেও ভারতীয়রা নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে লড়েছিল। আর সেই দুই গল্পের মাঝখানেই আজও দাঁড়িয়ে মোহনবাগান।


ছবি সৌজন্যে মোহনবাগান (mohun bagan)

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *