রিচার হাতে সোনা, সুতীর্থা-প্রণতির সামনে পদকের লড়াই-এশিয়াডে বাংলার মেয়েদের দাপট
এশিয়ান গেমসের মঞ্চে বাংলার মেয়েদের সাফল্যের গল্প যেন একসঙ্গে তিনটি অধ্যায় লিখছে। একজন ইতিমধ্যেই দেশের গলায় ঝুলিয়েছেন সোনার পদক। আর দুই কন্যা এখনও লড়াইয়ে। রিচা ঘোষের ব্যাটে এসেছে ভারতের প্রথম সোনা। টেবিল টেনিসে সুতীর্থা মুখোপাধ্যায় পেরিয়েছেন কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা। আর জিমন্যাস্টিক্সে ভল্ট ফাইনালে জায়গা করে নিয়ে পদকের আশায় বুক বাঁধাচ্ছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রণতি নায়েক।
শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ফাইনালে রিচার ব্যাট যেন কথা বলেছে নিজের ছন্দে। মাত্র ২২ বলে অপরাজিত ৪৯ রান করে ভারতকে বড় রানের ভিত গড়ে দেন শিলিগুড়ির এই উইকেটকিপার-ব্যাটার। ছ’টি চার ও তিনটি ছক্কায় সাজানো তাঁর ইনিংসের স্ট্রাইক রেট ছিল ২০০-রও বেশি। ব্যাট হাতে ঝড় তোলার পাশাপাশি উইকেটের পিছনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন রিচা। ম্যাচের পর পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীত গাওয়ার অনুভূতিকেও আলাদা করে তুলে ধরেছেন তিনি। সোনার মুহূর্তে পাশে ছিলেন তাঁর মা-বাবা ও দিদিও।

রিচার সাফল্যের পর নজর এখন বাংলার আরও দুই কন্যার দিকে। টেবিল টেনিসে নৈহাটির সুতীর্থা মুখোপাধ্যায়ের শুরুটা হয়েছিল অপেক্ষা দিয়ে। গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে সুযোগ না পেলেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কোর্টে নামেন তিনি। আলিনা খানের বিরুদ্ধে একেবারেই সময় নষ্ট করেননি। পরপর তিন গেমে ১১-৩, ১১-৩, ১১-৪ জিতে ভারতকে এগিয়ে দেন সুতীর্থা। তাঁর দাপটের সঙ্গে ভারতও এগিয়ে যায় নক-আউট পর্বে। শেষ আটে এখন আরও কঠিন পরীক্ষা। বাংলার এই মেয়ে অবশ্য ইতিমধ্যেই দেখিয়ে দিয়েছেন, বড় মঞ্চে সুযোগ পেলে তিনি কতটা কার্যকর।

তৃতীয় কন্যা প্রণতি নায়েকের লড়াই আবার অন্য মঞ্চে। পিংলার করকাই গ্রামের এই জিমন্যাস্ট ভারতের একমাত্র প্রতিযোগী হিসেবে ভল্ট ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন। যোগ্যতা অর্জন পর্বে দুই ভল্ট মিলিয়ে ১২.৯১৬ স্কোর করে সপ্তম হন তিনি। ফলে বৃহস্পতিবার দেশের হয়ে পদকের লড়াইয়ে নামবেন ৩১ বছরের প্রণতি। এশিয়ান জিমন্যাস্টিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে তিনটি ব্রোঞ্জজয়ী বাংলার এই কন্যার সামনে এবার এশিয়াডের মঞ্চে নতুন ইতিহাস লেখার সুযোগ।
একজন ইতিমধ্যেই জাতীয় সংগীতের সময় গলায় সোনা ঝুলিয়েছেন। অন্য দু’জনের লড়াই এখনও বাকি। জাপানের এশিয়াডে তাই বাংলার তিন কন্যার দিকে এখন বাড়তি নজর। রিচার সোনার পর সুতীর্থা ও প্রণতি কতটা দূর যেতে পারেন, তারই অপেক্ষায় বাংলা। ছবি সৌজন্যে এক্স হ্যান্ডেল (Image courtesy: X handle)

