পুজোয় এবার কী কী বদল? মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকের পর ডিজে থেকে মদ – সামনে এল একগুচ্ছ ‘না’
দুর্গাপুজো মানেই ঢাকের বাদ্যি, আলোর ঝলক, থিমের চমক আর রাতভর উৎসব। কিন্তু এ বার সেই চেনা পুজোর ছবিতে কি কিছুটা বদল আসতে চলেছে? মিলন মেলা প্রাঙ্গণে পুজো কমিটি ও প্রশাসনের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠকের পর সামনে এল এমনই একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত, যা এবারের দুর্গোৎসবকে অন্য রকম করে দিতে পারে। বিশেষ করে কয়েকটি বিষয়ে সরাসরি ‘না’ জানিয়ে দিয়েছে রাজ্য সরকার।
সবচেয়ে বড় ঘোষণা মহাষ্টমীকে ঘিরে। ওই দিন রাজ্যজুড়ে সমস্ত মদের দোকান ও বারে মদ বিক্রি বন্ধ থাকবে। অর্থাৎ অষ্টমীর সন্ধ্যায় পুজো দেখতে বেরিয়ে মদ কেনার সুযোগ থাকবে না। প্রশাসনের বক্তব্য, উৎসবের দিনগুলিতে যাতে কোনও ধরনের অশান্তি বা বিশৃঙ্খলা না ঘটে, সেই লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত। পুজোর পরিবেশ নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পুজো এবং বিসর্জনের শোভাযাত্রায় ডিজে বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে প্রতিমা, মণ্ডপ বা থিমে এমন কোনও উপস্থাপনা করা যাবে না, যাতে মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে।
এ বারের পুজোয় আরও একটি বড় বদল-বিজয়া দশমীর পর কোনও পুজো কার্নিভাল হবে না। বরং মহালয়ার দিনই আনুষ্ঠানিকভাবে শারদীয় উৎসবের সূচনা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ১০ অক্টোবর ইডেন গার্ডেন্সে চার ঘণ্টার বিশেষ অনুষ্ঠানে থাকবে ড্রোন শো, আতশবাজি-সহ সাংস্কৃতিক আয়োজন। সেই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানোর কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পুজোর উদ্বোধন নিয়েও থাকছে কড়াকড়ি। দেবীপক্ষ শুরু হওয়ার আগে কোনও পুজোর উদ্বোধনের অনুমতি দেওয়া হবে না। অর্থাৎ পিতৃপক্ষে আগেভাগে উদ্বোধনের যে প্রবণতা তৈরি হয়েছিল, এ বার তাতে কার্যত দাঁড়ি পড়তে চলেছে। রাস্তা আটকে পুজোর ক্ষেত্রেও মিলবে না ছাড়। জাতীয় সড়ক আটকে পুজো করা যাবে না। কলকাতায় রেড রোড, নির্মল চন্দ্র স্ট্রিট, পার্ক সার্কাস কানেক্টর-সহ ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা আটকে মণ্ডপ তৈরির অনুমতিও দেওয়া হবে না। বিসর্জন নিয়েও নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ২৪ অক্টোবরের মধ্যে প্রতিমা নিরঞ্জন শেষ করার জন্য পুজো কমিটিগুলিকে আবেদন করা হয়েছে। বিসর্জনের ঘাটে ক্রেন ব্যবহারও এবার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তবে শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়, পুজো কমিটিগুলির জন্য রয়েছে একাধিক স্বস্তির খবরও। পুজোর অনুমতির জন্য যাতে বারবার আদালতের দ্বারস্থ হতে না হয়, সে জন্য সহজ অনলাইন পোর্টাল চালুর কথা জানানো হয়েছে। কলকাতায় এক জানালা ব্যবস্থায় অনলাইনে অনুমতির প্রক্রিয়া শুরু হবে। বিদ্যুৎ সরবরাহে ১০০ শতাংশ ছাড় এবং দমকলের অনুমতিতে কোনও ফি না নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পুজো কমিটিগুলিকে এক লক্ষ টাকা করে সরকারি অনুদান দেওয়ার ঘোষণা হয়েছে। তবে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল পুজো কমিটিগুলিকে এই অনুদান না নেওয়ার আবেদন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এ বারের দুর্গোৎসব শুধু কলকাতাতেই নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তেও বিশেষভাবে উদযাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। রাজ্যের ছ’টি শহর এবং দীঘায় দু’দিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। দিব্যাঙ্গজন, বৃদ্ধাশ্রমের আবাসিক ও বিভিন্ন আশ্রমে থাকা মানুষদের জন্য বিশেষ পুজো পরিক্রমার ব্যবস্থাও করা হবে। রাজ্য পুলিশের মহা নির্দেশক সিদ্ধীনাথ গুপ্তার তথ্য অনুযায়ী, এবার রাজ্যে প্রায় ৫৫ হাজার বারোয়ারি পুজো হতে পারে। এর মধ্যে প্রায় চার হাজার পুজো মহিলা পরিচালিত। উৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে নবান্ন, জেলা ও মহকুমা স্তরেও কন্ট্রোল রুম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ এ বার পুজোয় যেমন থাকছে অনুদান, বিনামূল্যে বিদ্যুৎ ও সহজ অনুমতির সুবিধা, তেমনই থাকছে বেশ কিছু কড়া নিয়ম। ফলে বদলের বাংলায় দুর্গাপুজোর চেহারা ঠিক কতটা বদলায়, এখন নজর সেদিকেই।ছবি সৌজন্যে ফেসবুক (Photo courtesy: Facebook)

এ বারের পুজোয় যে নিয়মগুলি বদলাচ্ছে –
১) মহাষ্টমীতে রাজ্যজুড়ে মদ বিক্রি বন্ধ- দোকানের পাশাপাশি বারেও মিলবে না মদ।
২) পুজো ও বিসর্জনে ডিজে নিষিদ্ধ।
৩) দেবীপক্ষের আগে পুজোর উদ্বোধন করা যাবে না।
৪) এবার হবে না দুর্গাপুজো কার্নিভাল।
৫) ১০ অক্টোবর মহালয়ায় ইডেনে চার ঘণ্টার ড্রোন শো ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
৬) কলকাতার ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা আটকে পুজো করা যাবে না।
৭) জাতীয় সড়ক আটকে পুজোর অনুমতি নয়।
৮) ২৪ অক্টোবরের মধ্যে প্রতিমা বিসর্জন শেষ করার আবেদন।
৯) বিসর্জন ঘাটে ক্রেন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা।
১০) পুজো কমিটিগুলিকে এক লক্ষ টাকা করে অনুদান।
১১) মণ্ডপে বিদ্যুৎ সরবরাহে ১০০ শতাংশ ছাড়ের ঘোষণা।
১২) দমকলের অনুমতিতে কোনও ফি নেওয়া হবে না।
১৩) অনলাইন ‘সহজ পোর্টাল’-এর মাধ্যমে পুজোর অনুমতির ব্যবস্থা।
১৪) রাজ্যে প্রায় ৫৫ হাজার বারোয়ারি পুজোর সম্ভাবনা।
