২২ বছরের অপেক্ষার পর… ডার্বির মহাজয়ে ডুরান্ড জেতার পর রাষ্ট্রপতি ভবনে লাল হলুদের গর্ব

0



কখনও কখনও একটা ট্রফি, শুধু ট্রফি থাকে না। তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে দীর্ঘ অপেক্ষা, অসংখ্য না-পাওয়া, গ্যালারির কান্না আর প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বয়ে চলা আবেগ। ইস্টবেঙ্গলের ১৭তম ডুরান্ড কাপ জয়ও ঠিক তেমনই এক গল্প। যুবভারতীর গ্যালারিতে যে রাতে লাল-হলুদ সমর্থকেরা ২২ বছরের অপেক্ষার অবসান উদযাপন করেছিলেন, সেই সাফল্য এবার পৌঁছে গেল রাষ্ট্রপতি ভবনের দরবারে। সোমবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে ‘প্রেসিডেন্ট’স কাপ’ গ্রহণ করল ১৩৫তম ডুরান্ড কাপজয়ী ইস্টবেঙ্গল এফসি।
ডার্বির মঞ্চে মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে হারিয়ে পাওয়া সেই জয় যেন আজও লাল-হলুদ সমর্থকদের চোখে-মুখে। ফাইনালে শুরু থেকেই দাপট দেখিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল।১০ মিনিটে বিপিন সিংয়ের গোলে শুরু হয়েছিল উৎসব। এরপর এডমন্ড লালরিনডিকা যেন একাই ম্যাচের রং বদলে দেন। ১২, ২২ ও ৪৪ মিনিটে তিন গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। মোহনবাগানের হয়ে মনবীর সিং একটা গোল শোধ করলেও সেদিন লাল-হলুদের জয় আটকানোর ক্ষমতা কারও ছিল না।


এই জয়ের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায় ইতিহাসের পাতায়। ২০০৪ সালের পর ফের ডুরান্ড কাপ ঘরে তুলেছে ইস্টবেঙ্গল। ১৭তম বার চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ খেতাবজয়ীর আসনে মোহনবাগানের পাশে বসেছে তারা। অর্থাৎ ডুরান্ডের মঞ্চে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর ঝুলিতেই এখন ১৭টি করে ট্রফি। আর সেই ঐতিহাসিক সাফল্যের পর এবার রাষ্ট্রপতি ভবনে সম্মান। দেশের রাষ্ট্রপতির হাত থেকে ‘প্রেসিডেন্ট’স কাপ’ নেওয়ার মুহূর্তে ইস্টবেঙ্গলের প্রতিনিধিত্ব করেন দলের দুই ফুটবলার প্রভসুখন সিং গিল ও আনোয়ার আলি।তাঁদের সঙ্গে ছিলেন ক্লাবের শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার (নীতু), সৈকত গঙ্গোপাধ্যায় ও প্রতিম কুমার সাহা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল এন. এস. রাজা সুব্রামণি, চিফ অফ আর্মি স্টাফ জেনারেল ধীরাজ শেঠ, চিফ অফ এয়ার স্টাফ এয়ার চিফ মার্শাল এ. পি. সিং এবং চিফ অফ নেভাল স্টাফ অ্যাডমিরাল কৃষ্ণ স্বামীনাথন। ছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল ভি. এম. ভূবনা কৃষ্ণন, জিওসি-ইন-সি, ইস্টার্ন কমান্ড এবং ডুরান্ড কাপ আয়োজক কমিটির প্যাট্রনও।
যুবভারতীর সেই রাত থেকে রাষ্ট্রপতি ভবনের এই সকাল লালহলুদের দীর্ঘ অপেক্ষার গল্পে যেন পরপর জুড়ে গেল দু’টি স্মরণীয় ছবি। একটিতে উন্মাদনায় ভাসছে গ্যালারি, অন্যটিতে দেশের রাষ্ট্রপতির হাত থেকে সম্মান গ্রহণ করছে প্রিয় দল। ১৭তম ডুরান্ড শুধু ইস্টবেঙ্গলের ট্রফির সংখ্যা বাড়ায়নি, ফিরিয়ে দিয়েছে সমর্থকদের সেই গর্বও। ছবি সৌজন্যে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব (Photo courtesy: East Bengal Club)

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *