ডেকার্স লেনেও বিষের ছায়া! যে খাবারে ভরসা, তাতেই ছত্রাক!
কলকাতা থেকে বর্ধমান, হুগলির চন্দননগর থেকে বারুইপুর, সল্টলেক থেকে উত্তর ২৪ পরগনা- যেখানেই হানা, সেখানেই বিষ! খাবারের মান নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই একের পর এক চাঞ্চল্যকর ছবি সামনে আসছে। নামী রেস্তরাঁ থেকে রাস্তার খাবারের দোকান- বাদ যাচ্ছে না কোনও জায়গাই। এ বার সেই তালিকায় ঢুকে পড়ল শহরের অন্যতম জনপ্রিয় খাবারের ঠিকানা ডেকার্স লেন। যা এতদিন ছিল অফিসপাড়া মানুষের, পথচলতি মানুষের ভরসার আস্তানা। যে রাস্তার চপ, কাটলেট, মিষ্টি কিংবা ভাতের হোটেলের খাবার বহু বছর ধরে অফিসপাড়ার মানুষের দুপুরের ভরসা, সেই ডেকার্স লেনেই খাদ্য সুরক্ষা দফতরের অভিযানে মিলল চমকে দেওয়ার মতো ছবি।
শনিবার দুপুরে কলকাতা পুরসভার খাদ্য সুরক্ষা বিভাগের আধিকারিকরা ডেকার্স লেনের একাধিক খাবারের দোকান ও গুদামে অভিযান চালান। রান্নাঘর থেকে খাবার তৈরির উপকরণ, মশলা থেকে সংরক্ষণের পদ্ধতি-খতিয়ে দেখা হয় সবই। আর একটি দোকানের গুদামে গিয়ে আধিকারিকদের নজরে আসে গামলা ভর্তি মাখা সন্দেশ। সেই মিষ্টির গায়ে ছত্রাক ধরেছিল। দীর্ঘক্ষণ বা সঠিক পরিবেশে সংরক্ষণ না করার ফলেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হয়। শেষ পর্যন্ত সেই মিষ্টি বাজেয়াপ্ত করে নষ্ট করে দেওয়া হয়। শুধু মিষ্টি নয়, ডেকার্স লেনের জনপ্রিয় চপ ও কাটলেটও নজর এড়ায়নি। খাবারের গুণমান এবং ব্যবহৃত উপকরণ পরীক্ষা করতে নমুনা সংগ্রহ করেছেন আধিকারিকরা। রান্নায় ব্যবহৃত মশলা, হলুদ এবং অন্যান্য উপকরণের মান ও মেয়াদও খতিয়ে দেখা হয়েছে। বিশেষ করে প্যাকেটজাত নয় এমন হলুদ ব্যবহারের বিষয়েও দোকানগুলিকে সতর্ক করা হয়েছে।
ডেকার্স লেনের পাশাপাশি এদিন জোড়াবাগান ও লেক মার্কেট এলাকার খাবারের দোকানেও অভিযান চালানো হয়। শহর লাগোয়া নাগেরবাজারে একটি পরিচিত রেস্তরাঁতেও তল্লাশি চালানো হয়েছে। সেখানে পচা মাংস পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর আগেও শহরের একাধিক রেস্তরাঁয় বাসি খাবার, মেয়াদোত্তীর্ণ সামগ্রী ও ক্ষতিকর কৃত্রিম রঙ ব্যবহারের অভিযোগ সামনে এসেছে। খাদ্য সুরক্ষা দফতরের এই লাগাতার অভিযানে গত কয়েক দিনে রাজ্যের ২৩৩৭টি হোটেল, রেস্তরাঁ ও খাবারের দোকান পরিদর্শন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পার্ক স্ট্রিট, ট্যাংরা, সোনারপুর, কামালগাজি, ধনেখালি, গড়িয়া-বিভিন্ন জায়গাতেই খাবারের মান ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে অনিয়ম ধরা পড়েছে। তবে ডেকার্স লেনের ঘটনা আলাদা করে ভাবাচ্ছে সাধারণ মানুষকে। কারণ, এই রাস্তার খাবার শুধু স্বাদের জন্য নয়, দীর্ঘদিন ধরে শহরের বহু মানুষের নিত্যদিনের খাদ্যতালিকার অংশ। সেই পরিচিত খাবারের আড়ালেই যদি থাকে ছত্রাক, নিম্নমানের উপকরণ বা সংরক্ষণে গাফিলতি, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই-এতদিন আমরা ঠিক কী খেয়ে এসেছি? ছবি ফেসবুক থেকে সংগৃহীত (Image collected from Facebook)
