৪০ দোকানের সাসপেনশন মানেই চিরতরে বন্ধ নয়! পুজোর আগেই ফের খুলবে? জানাল পুরসভা

0


ফুড লাইসেন্স সাসপেন্ড হয়েছে মানেই ব্যবসার দরজা চিরতরে বন্ধ- এমনটা নয়। নিয়ম মেনে স্বাস্থ্যবিধি ফিরিয়ে আনলে পুজোর আগেই ফের ব্যবসা শুরু করার সুযোগ রয়েছে। কলকাতার ৪০টি রেস্তোরাঁ, খাবারের দোকান ও মিষ্টির দোকানের ফুড লাইসেন্স সাসপেন্ডের পর এমনই বার্তা কলকাতা পুরসভার। পুর কমিশনার তথা প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে জানিয়েছেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে, তারা নিজেদের ভুল শুধরে পুরসভার কাছে নতুন করে আবেদন করতে পারবেন। তবে তার আগে লিখিতভাবে জানাতে হবে, ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই খাবার তৈরি ও পরিবেশন করা হবে। এরপর পুরসভার খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকেরা সংশ্লিষ্ট দোকান বা রেস্তোরাঁয় গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা থেকে খাবার সংরক্ষণ- সবকিছু নিয়ম মেনে চলছে কি না, তা দেখা হবে। পরিদর্শনে সব ঠিক থাকলে ফের ফুড লাইসেন্স দেওয়ার অনুমতি মিলতে পারে। ফলে পুজোর আগেই ফের খুলতে পারে সাসপেন্ড হওয়া দোকানের দরজা।
১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কলকাতা জুড়ে বিশেষ অভিযান চালায় পুরসভার খাদ্য সুরক্ষা বিভাগ। মোট ৫৯৯২টি রেস্তোরাঁ, খাবারের দোকান ও মিষ্টির দোকানে অভিযান চালিয়ে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ১২২৪ কেজি বাসি-পচা মাছ-মাংস, নিম্নমানের খাবার, ভেজাল মসলা, রং মেশানো খাদ্যসামগ্রী এবং ছত্রাক ধরা মিষ্টি। এই ৪০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ১০টি মিষ্টির দোকান। তালিকায় রয়েছে গিরিশ চন্দ্র দে অ্যান্ড কোং, কালীপুর রোডের শ্রীকৃষ্ণ সুইটস, বিএল সাহা রোডের বলরাম মল্লিক ও রাধারমণ মল্লিক, ধাপা রোডের মাতৃ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার এবং ক্রিস্টোফার রোডের শীতলা মিষ্টান্ন ভাণ্ডার-সহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।


পুজোর আগে মিষ্টির দোকান নিয়ে বিশেষ উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন স্মিতা পাণ্ডে। তাঁর বক্তব্য, এই রাজ্য মিষ্টির জন্য বিখ্যাত। তাই মিষ্টির দোকানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্যবিধি আরও গুরুত্ব দিয়ে মানতে হবে। কয়েকটি দোকানের ফ্রিজে আরশোলা পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। পুরসভার পদক্ষেপে আপাতত সাসপেনশন হলেও সামনে রয়েছে ফেরার রাস্তা। নিয়ম মানুন, আবেদন করুন, পুরসভার পরিদর্শনে পাশ করুন- তাহলেই পুজোর আগেই ফিরতে পারে ফুড লাইসেন্স।
তবে এখানেই উঠছে বড় প্রশ্ন। লাইসেন্স সাসপেন্ড হওয়ার পর নিয়ম মেনে আবার লাইসেন্স ফিরে পেলেই কি নিশ্চিন্ত হওয়া যাবে? বাসি-পচা মাছ-মাংস, ভেজাল মসলা, রং মেশানো খাবার কিংবা ছত্রাক ধরা মিষ্টির অভিযোগ সামনে আসার পর বাঙালি কি ফের নিশ্চিন্ত মনে বিরিয়ানি কিংবা মিষ্টি মুখে তুলতে পারবে? ছবি সৌজন্যে ডিপার্টমেন্ট অফ হেল্‌থ অ্যান্ড ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার, ওয়েস্ট বেঙ্গল এক্স হ্যান্ডল (Image courtesy: Department of Health and Family Welfare, West Bengal X handle)

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *