মহানায়ক উত্তমের পরই কলকাতায় নিঃশব্দে আর এক কিংবদন্তির শতবর্ষ! জানেন, কার স্মৃতিতে জ্বলল ১০০ প্রদীপ?
মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষের রেশ কাটতে না কাটতেই কলকাতার বুকেই নিঃশব্দে পালিত হল আরও এক কিংবদন্তির ১০০তম জন্মদিবস। তিনি ভূপেন হাজারিকা-যিনি একাধারে সুধাকণ্ঠ, গীতিকার, সুরকার, কবি ও চলচ্চিত্র নির্মাতা। অসম তাঁর জন্মভূমি হলেও কলকাতা ছিল তাঁর সৃষ্টিশীল জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানা।
১৯২৬-এর ৮ সেপ্টেম্বর অসমের সদিয়ায় জন্ম ভূপেন হাজারিকার। অসমিয়া ভাষায় গান লিখলেও বাংলায় তাঁর সৃষ্টি পেয়েছে বিপুল জনপ্রিয়তা। ‘গঙ্গা আমার মা’, ‘মানুষ মানুষের জন্য’, ‘বিস্তীর্ণ দুপারের অসংখ্য মানুষের হাহাকার শুনে’, ‘আমি এক যাযাবর’-এর মতো গান আজও বাঙালির মনে অমলিন। মানবতা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সামাজিক ন্যায় ও ভ্রাতৃত্বের বার্তাই ছিল তাঁর সৃষ্টির মূল সুর।

কলকাতার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অন্যতম জীবন্ত সাক্ষী টালিগঞ্জের ৭৭বি, গল্ফ ক্লাব রোডের বাড়িটি। জীবনের বেশ কয়েকটি বছর সেখানে কাটিয়েছিলেন ভূপেন হাজারিকা। একসময় সেই বাড়ি ছিল শিল্পী ও সংস্কৃতিমনস্ক মানুষের আড্ডার জায়গা। সময়ের সঙ্গে বাড়িটি অনেকটাই পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। শতবর্ষে তাই নতুন করে সামনে এসেছে সেটি সংরক্ষণের উদ্যোগ।অসম সরকারের প্রতিনিধিদল ইতিমধ্যেই বাড়িটি পরিদর্শন করেছে। ভূপেন হাজারিকার স্মৃতিবিজড়িত দোতলার একটি ঘর সংরক্ষণের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের কথাও জানানো হয়েছে।

এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভূপেন হাজারিকা স্মরণ করে লেখেন, ‘কিংবদন্তি ড. ভূপেন হাজারিকাজির জন্মশতবার্ষিকীতে তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। তাঁর কণ্ঠস্বর সমগ্র জাতির কাছে অসমের প্রাণস্পন্দন ও উত্তর-পূর্ব ভারতের চেতনাকে পৌঁছে দিয়েছিল। তিনি তাঁর সঙ্গীতের মাধ্যমে অগণিত মানুষের ভাবনা ও আবেগকে চমৎকারভাবে প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর গান মানুষকে একে অপরের কাছাকাছি নিয়ে এসেছিল।’ ৫, ৬ ও ৮ সেপ্টেম্বর কলকাতা অসমীয়া সাংস্কৃতিক সংস্থার উদ্যোগে তিন দিনের অনুষ্ঠানে প্রামাণ্যচিত্র, আলোচনা, গান, নৃত্য ও বাংলা-অসমের সাংস্কৃতিক বন্ধনের নানা আয়োজন হয়। শেষ দিনে সেই প্রাক্তন বাসভবনেই ১০০টি মাটির প্রদীপ জ্বালিয়ে ভূপেন হাজারিকাকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। মূকাভিনয় ও তাঁর কালজয়ী গানেও ফিরে আসে ‘যাযাবর’-এর স্মৃতি। উত্তমের শহরে তাই শতবর্ষে ফিরে এলেন আর এক কিংবদন্তি-আলোয়, গানে আর স্মৃতিতে। ছবি ফেসবুক থেকে সংগৃহীত (Image collected from Facebook)

