ইতিহাস বদলের স্বপ্নে ইস্টবেঙ্গল, ডার্বির আগে আত্মবিশ্বাসী অস্কার
কলকাতা ডার্বির আগে এ বার ছবিটা যেন একেবারেই আলাদা। বহু বছর পর আইএসএলের খেতাব দৌড়ে সমান তালে লড়ছে ইস্টবেঙ্গল। শুধু তাই নয়, জাতীয় স্তরের ট্রফির দীর্ঘ ২২ বছরের অপেক্ষা ঘোচানোর স্বপ্নও এখন হাতছানি দিচ্ছে লালহলুদ শিবিরকে। তাই রবিবারের ডার্বি শুধু চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিতার লড়াই নয়, ইতিহাস বদলেরও মঞ্চ।
ডার্বির আগের দিন সাংবাদিক বৈঠকে আত্মবিশ্বাসী শোনাল ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজোকে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আগের ইস্টবেঙ্গল আর বর্তমান দলের মধ্যে আকাশ পাতাল ফারাক। অস্কারের কথায়, ‘আমি যখন দায়িত্ব নিই, তখন দল মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। এখন আমরা খেতাব জেতা নিয়ে কথা বলছি। এটাই সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। দলের মধ্যে জয়ের মানসিকতা এসেছে।’

তবে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে চোট সমস্যা চিন্তা বাড়াচ্ছে লাল হলুদ শিবিরে। সাউল ক্রেসপো, মহেশ নাওরেম ও সৌভিক চক্রবর্তীকে পাওয়া যাবে না। আনোয়ার আলিও পুরোপুরি সুস্থ নন। তবু ভারতীয় ডিফেন্ডারের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করেছেন অস্কার। তিনি বলেন, ‘আনোয়ারের পুরোপুরি সুস্থ হতে এক মাস বিশ্রাম দরকার। তবু দলের জন্য খেলছে। ও সত্যিই একজন যোদ্ধা।’ অধিনায়কের ভূমিকায় মহম্মদ রশিদকে দেখা যেতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন স্প্যানিশ কোচ। তাঁর বক্তব্য, ‘তিনজন অধিনায়ক নেই। তাই রশিদ আজ আমার সঙ্গে এসেছে। যারা আছে, তাদের নিয়েই লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত আমরা।’

ডার্বির আগে অবশ্য মাইন্ডগেম খেলতেও ভোলেননি অস্কার। তাঁর দাবি, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে চাপটা বেশি থাকবে মোহনবাগানের উপরেই। ‘ওদের বাজেট বড়, জাতীয় দলের বেশি ফুটবলারও ওদের। খেতাব ধরে রাখার চাপ ওদেরই সামলাতে হবে। আমাদের লক্ষ্য তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়া,’ বলেন তিনি। ডার্বির ২৪ ঘণ্টা আগে তাই ইস্টবেঙ্গল শিবিরে একটাই বিশ্বাস- এ বার হয়তো সত্যিই ইতিহাস বদলানোর সময় এসেছে।
