আইএসএল ডার্বি! জিতলে ইস্টবেঙ্গলের সামনে ইতিহাসের হাতছানি, মোহনবাগানের কাছে বাঁচার লড়াই
আইএসএল মরশুমের শেষ লগ্নে এসে সমস্ত অঙ্ক গিয়ে থেমেছে কলকাতা ডার্বিতে। লিগ টেবলে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান, দুই প্রধানই ২২ পয়েন্টে দাঁড়িয়ে। কিন্তু গোল পার্থক্যে এগিয়ে থাকায় কিছুটা সুবিধাজনক জায়গায় রয়েছে লাল হলুদ শিবির। ফলে রবিবারের ডার্বি শুধু মর্যাদার লড়াই নয়, কার্যত আইএসএল শিল্ডের ফাইনাল হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা খেয়েছে মোহনবাগান। সেই ম্যাচ জিততে পারলে ডার্বির আগে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল সবুজমেরুনের সামনে। কাগজে-কলমে শক্তিশালী আক্রমণভাগ থাকলেও ধারাবাহিকভাবে গোল করতে পারেনি মোহনবাগান। ফলে ডার্বির আগে আত্মবিশ্বাসে খানিকটা ধাক্কা খেয়েছে দল।
মোহনবাগানের সামনে কী সমীকরণ?
এই অবস্থায় মোহনবাগানের সামনে সমীকরণ খুব স্পষ্ট। ডার্বিতে জিততেই হবে। কারণ ড্র বা হার, দু’ক্ষেত্রেই শিল্ডের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। তবে সবুজ মেরুন সমর্থকদের আশা, বড় ম্যাচের চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতা শেষ পর্যন্ত কাজে লাগতে পারে। গত কয়েক মরসুমে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর নজির রয়েছে তাদের। সেই কারণেই ডার্বিকে সামনে রেখে এখনও আত্মবিশ্বাস পুরো হারাতে চাইছে না মোহনবাগান শিবির।

ইস্টবেঙ্গলের ট্রফি জয়ের সুযোগ কতটা?
অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গলের পরিস্থিতি অনেকটাই আলাদা। অস্কার ব্রুজোর দল এখনও নিজেদের ভাগ্যের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রেখেছে। গোল পার্থক্যে এগিয়ে থাকার কারণে ডার্বিতে ড্র করলেও শিল্ড জয়ের রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। বরং শেষ ম্যাচে ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে ভাল ফল করলেই দীর্ঘ ২২ বছরের অপেক্ষা শেষ করে লিগ খেতাব জয়ের স্বপ্ন বাস্তব হতে পারে। মরসুম জুড়ে আক্রমণভাগে ধারাবাহিকতা দেখিয়েছে ইস্টবেঙ্গল। বিদেশি স্ট্রাইকারদের গোল করার ক্ষমতাই তাদের সবচেয়ে বড় ভরসা। তবে লাল-হলুদ শিবিরেও উদ্বেগ কম নেই। দলের অধিনায়ক সল ক্রেসপো চোটের কারণে বাকি দুই ম্যাচে মাঠের বাইরে। মরশুমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাঁর অনুপস্থিতি বড় ধাক্কা। পাশাপাশি চার হলুদ কার্ডের জন্য ডার্বিতে খেলতে পারবেন না সৌভিক চক্রবর্তীও। ফলে মাঝমাঠের ভারসাম্য বজায় রাখা এখন ব্রুজোর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রিজার্ভ বেঞ্চের শক্তি কতটা কার্যকর, সেটাও ডার্বিতে বড় ফ্যাক্টর হতে চলেছে।

বাকিদের সুযোগ কতটা?
যদিও অঙ্কের হিসেবে এখনও পঞ্জাব এফসি, মুম্বই সিটি বা জামশেদপুরের মতো দলগুলোর সম্ভাবনা পুরো শেষ হয়নি। কিন্তু বাস্তব বলছে, আইএসএলের ভাগ্য অনেকটাই নির্ভর করছে রবিবারের কলকাতা ডার্বির উপর। যে দল জিতবে, শিল্ডের দৌড়ে তারাই সবচেয়ে বড় সুবিধা পাবে। আর যদি ম্যাচ ড্র হয়, তাহলে শেষ মুহূর্তে সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
তবে সমর্থকদের কাছে হিসেব এখন খুব সহজ। এ শুধু একটা ডার্বি নয়, এ মরসুমের সবচেয়ে বড় রাত। যেখানে ৯০ মিনিটের লড়াই ঠিক করে দিতে পারে, আইএসএলের ট্রফি শেষ পর্যন্ত যাবে লাল-হলুদে, নাকি আবারও সবুজ মেরুন শিবিরে।
