পুর নিয়োগ দুর্নীতি! ম্যারাথন জেরার পর গ্রেফতার সুজিত বসু, রাতেই সিজিওতে স্ত্রী ও মেয়ে

0



পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অবশেষে গ্রেফতার হলেন রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা সুজিত বসু। সোমবার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে প্রায় সাড়ে ১০ ঘণ্টার ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। গ্রেফতারের পরই অসুস্থবোধ করতে থাকেন সুজিত বসু। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাতে সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছন সুজিত বসুর স্ত্রী ও মেয়ে। তাঁদের হাতে ছিল জামাকাপড় ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র।
ইডি সূত্রে খবর, দীর্ঘ জেরার সময় তদন্তকারীদের কাছে শারীরিক অসুস্থতার কথা জানান সুজিত বসু। তিনি দাবি করেন, রাতে ঘুমোনোর সময় তাঁকে অক্সিজেন সাপোর্ট নিতে হয় এবং সেই যন্ত্র বাড়িতে রয়েছে। সূত্রের খবর, এরপরই ইডির তরফে তাঁর ছেলে সমুদ্র বসুকে বাড়ি থেকে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন যন্ত্র নিয়ে আসতে বলা হয়।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ আইনজীবী ও ছেলে সমুদ্র বসুকে সঙ্গে নিয়ে ইডি দফতরে হাজিরা দেন বিধাননগরের সদ্য পরাজিত তৃণমূল নেতা। তারপর শুরু হয় টানা জেরা। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, জিজ্ঞাসাবাদের সময় একাধিক বিষয়ে অসঙ্গতিপূর্ণ তথ্য দেন সুজিত বসু এবং বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান। তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগও আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘদিন ধরেই ইডির নজরে ছিলেন সুজিত বসু। অভিযোগ, দক্ষিণ দমদম পুরসভায় বেআইনি ভাবে বিপুল সংখ্যক নিয়োগে তাঁর প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। তদন্তকারী সংস্থার সূত্রের খবর, দক্ষিণ দমদম পুরসভায় প্রায় ১৫০ জনকে বেআইনি ভাবে চাকরি দেওয়া হয়েছিল এবং সেই নিয়োগে টাকার লেনদেনেরও প্রমাণ মিলেছে। এছাড়াও জমি ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত একাধিক অসঙ্গতিও তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। সিবিআইয়ের চার্জশিটেও দক্ষিণ দমদম পুরসভার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, ২০১৪ সালের পর সেখানে টাকার বিনিময়ে শতাধিক নিয়োগ হয়েছিল। সেই সময় দক্ষিণ দমদম পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন সুজিত বসু। ফলে তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে তাঁর নাম।
এর আগেও একাধিকবার ইডির তলব পেয়েছিলেন তিনি। তবে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে বারবার হাজিরা এড়িয়ে যান। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে গত ১ মে প্রথমবার ইডি দফতরে হাজিরা দেন তিনি। ভোটের ফল প্রকাশের পর সোমবার ফের তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়। আর সেই হাজিরাতেই শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার করা হল প্রাক্তন মন্ত্রীকে।
তদন্তের স্বার্থে এর আগে সুজিত বসুর বাড়ি, অফিস, এমনকি পরিবারের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানেও তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। তাঁর স্ত্রী, ছেলে সমুদ্র বসু, মেয়ে এবং জামাইকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। যদিও এতদিন সুজিত বসুর দাবি ছিল, সিবিআইয়ের চার্জশিটে তাঁর নাম নেই। কিন্তু ইডির দাবি, আর্থিক তছরুপ ও বেআইনি লেনদেন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *