আমিষ ছাড়তেই কমেছে ত্বকের অ্যালার্জি! দাবি কর্ণ ওয়াহির, কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
সম্প্রতি জীবনযাপনে বড় বদল এনেছেন টেলিভিশনের জনপ্রিয় মুখ কর্ণ ওয়াহি। আধ্যাত্মিকতার দিকে ঝোঁকার পাশাপাশি গত কয়েক মাস ধরে সম্পূর্ণভাবে আমিষ খাবার ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। আর তাঁর দাবি, এই বদলের পর থেকেই যেমন মানসিক স্বস্তি পেয়েছেন, তেমনই দীর্ঘদিনের ত্বকের অ্যালার্জির সমস্যাও নাকি অনেকটাই কমেছে।
কর্ণ জানিয়েছেন, বহু বছর ধরে ত্বকের শুষ্কতা ও অ্যালার্জির সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। বিশেষ করে কোমরের নীচের অংশ এবং হাত-পা অত্যন্ত শুষ্ক হয়ে যেত তাঁর। তবে আমিষ খাবার ছাড়ার কয়েক মাসের মধ্যেই সেই সমস্যা কমে গিয়ে ত্বকের অবস্থার উন্নতি হয়েছে বলেই তাঁর অভিজ্ঞতা।
তবে প্রশ্ন উঠছে, এই পরিবর্তনের জন্য কি সত্যিই নিরামিষ খাদ্যাভ্যাস দায়ী? পুষ্টিবিদদের মতে, বিষয়টা এতটা সহজ নয়। বিশেষজ্ঞদের কথায়, ত্বকের অ্যালার্জি বা ওজনের সঙ্গে আমিষ-নিরামিষ খাবারের সরাসরি কোনও সম্পর্ক নেই। কেবল মাছ-মাংস ছেড়ে দিলেই যে ত্বকের সমস্যা দূর হবে, অথবা ওজন কমবে এমন ধারণা বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়।
আসলে অ্যালার্জির মূল কারণ লুকিয়ে থাকে নির্দিষ্ট কিছু প্রোটিনে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে মাছ, ডিম, চিংড়ি, কাঁকড়া ইত্যাদির মতো আমিষ খাবারে অ্যালার্জি হতে পারে। আবার অনেকের ক্ষেত্রেই কিছু নিরামিষ খাবার, যেমন সয়াবিন, গ্লুটেন, চিনেবাদাম বা বিভিন্ন বাদামের মতো উদ্ভিজ্জ খাবার থেকেও একই সমস্যা দেখা দেয়।
অর্থাৎ, অ্যালার্জি নির্ভর করে ব্যক্তিভেদে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্ণের ক্ষেত্রে হয়তো নির্দিষ্ট কিছু আমিষ খাবার অ্যালার্জির কারণ ছিল। তাই তা বাদ দেওয়ায় উপকার মিলেছে। তবে তার মানে এই নয় যে, সবার ক্ষেত্রেই একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। তাই হুট করে খাদ্যাভ্যাস বদলে ফেলার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
