সব জয় হয়েছে, তবু বাকি এক স্বপ্ন; ইংল্যান্ডের সামনে মেসির নতুন অধ্যায়

0



লিওনেল মেসির আর কী পাওয়ার আছে? প্রশ্নটা আজও ওঠে। কারণ ফুটবলে জয়ের প্রায় সব শিখরই ছুঁয়ে ফেলেছেন তিনি। বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ৮টি ব্যালন ডি’অর, অর্জনের তালিকা এত দীর্ঘ যে নতুন করে কিছু পাওয়ার বাকি আছে বলেই মনে হয় না। তবু ফুটবল এমন এক খেলা, যেখানে ইতিহাস মাঝেমধ্যেই নতুন গল্প লিখে। আর সেই গল্পের নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে আটলান্টায়, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। প্রায় দুই দশকের আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে ব্রাজিল, জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল-বিশ্ব ফুটবলের প্রায় সব শক্তিধর দেশের বিপক্ষেই খেলেছেন মেসি। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কখনও মাঠে নামা হয়নি তাঁর। ৩৯ বছর বয়সে এসে সেই অপূর্ণতাই পূরণ হতে চলেছে।
এই গল্পের শুরুটা ২০০৫ সালে। হাঙ্গেরির বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে মাঠে নেমে মাত্র ৯০ সেকেন্ডের মাথায় লাল কার্ড দেখেছিলেন কিশোর মেসি। সেই নিষেধাজ্ঞার কারণেই কয়েক মাস পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে খেলা হয়নি। তারপর কেটে গেছে ২১ বছর। দুই দলের আর দেখা হয়নি। ফলে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালই হতে চলেছে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মেসির প্রথম ম্যাচ। এই ম্যাচের আবেগ শুধু নতুন প্রতিপক্ষকে ঘিরে নয়। আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড দ্বৈরথ মানেই ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায়গুলোর একটি। ১৯৮৬ সালে দিয়েগো মারাদোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’, ১৯৯৮ সালে ডেভিড বেকহ্যামের লাল কার্ড, ২০০২ সালে ইংল্যান্ডের প্রতিশোধ, এই ইতিহাসের গল্প শুনেই বড় হয়েছেন মেসি। তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন, ১৯৮৬ সালের সেই ম্যাচ তিনি দেখেননি, কিন্তু ভিডিও আর গল্পের মাধ্যমে সেটাই হয়ে উঠেছিল তার ফুটবল-শৈশবের অংশ।চার বছর আগে কাতারে বিশ্বকাপ জিতে অনেকেই বলেছিলেন, মেসির গল্প সম্পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু হয়তো তা এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। কারণ এবার সামনে রয়েছে বিশ্বকাপ ট্রফি ধরে রাখার বিরল সুযোগ। ১৯৬২ সালের ব্রাজিলের পর টানা দুইবার বিশ্বকাপ জেতার কীর্তি গড়ার স্বপ্ন দেখছে আর্জেন্টিনা। আর সেই স্বপ্নপূরণের পথে সবচেয়ে বড় বাধা ইংল্যান্ড।


চলতি বিশ্বকাপেও মেসি যেন সময়কে হার মানিয়েছেন। আট গোল করে তিনি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের একজন। গোলের পাশাপাশি অ্যাসিস্ট, সুযোগ তৈরি, ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ-সব ক্ষেত্রেই তিনি আর্জেন্টিনার প্রাণভোমরা। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে গোল না পেলেও সতীর্থকে দিয়ে গোল করিয়ে আবারও বুঝিয়ে দিয়েছেন, তিনি শুধু গোলদাতা নন, দলের সবচেয়ে বড় নির্মাতাও। এই সেমিফাইনাল হয়তো মেসির কেরিয়ারের শেষ বিশ্বকাপের সবচেয়ে আবেগঘন ম্যাচ। কারণ ফাইনালে ওঠার স্বপ্নের পাশাপাশি এটি তার দীর্ঘ কেরিয়ারের শেষ অপূর্ণ অধ্যায়গুলোর একটা পূরণ করার সুযোগ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমবার মাঠে নামার মুহূর্তটি তাই শুধুই আরেকটা ম্যাচ নয়, বরং দুই দশকের অপেক্ষার শেষ। ফুটবল মেসিকে প্রায় সবকিছুই দিয়েছে। কিন্তু কিংবদন্তিদের গল্প কখনও কেবল ট্রফিতে শেষ হয় না। কিছু গল্প মনে থাকে সময়, আবেগ আর মুহূর্তের জন্য। আটলান্টার রাতেও হয়তো তেমনই একটি মুহূর্তের অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব। আর সেই মুহূর্তের কেন্দ্রে থাকবেন এক মানুষ—লিওনেল আন্দ্রেস মেসি।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *